ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তাসলিমা নাসরিনের দেয়া সাম্প্রতিক এক ফেসবুক স্ট্যাটাস বেশ আলোড়িত হয়েছে।

তসলিমা নাসরিনের ব্যাপারে আগ্রহ না থাকার কারণ মূলতঃ তার লিখার বিষয়বস্তু, তার আত্মকেন্দ্রিকতা ও অপ্রয়োজনে অন্যের সমালোচনা করা ইত্যাদি। তার বেশীরভাগ লিখাই স্বার্থপরতা, ব্যক্তিকেন্দ্রিকতা ও মনোযোগ আকর্ষনের অপরিণত চেষ্টার বাইরে বেরিয়ে আসতে পারেনি।

কেউ যদি নিজেকে জ্ঞানের আধার বলে মনে করে তবে সে কেন অন্যের বিশ্বাসকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে অযথা আঘাত করবে? তাও একই ধরণের অন্য বিশ্বাসগুলিকে সযত্নে পাশ কাটিয়ে শুধু একটি নির্দিষ্ট বিশ্বাসের বিপক্ষে মনের খুশীতে যা তা বলা। এটা আর যাই হোক, জ্ঞান বিতরণ নয়।

কোনো নির্দিষ্ট ভুল ধরিয়ে দেয়ার জন্য কুকথার আশ্রয় নেয়ার দরকার হয় না। কিন্তু অরুচিকর কথামালা তসলিমার লিখার প্রধান বৈশিষ্ট্য। তাছাড়া তিনি এত বছর ধরে পুরুষতন্ত্রের দোষ নিয়ে লিখছেন কিন্তু কখনো বলতে পারেননি, নারীবাদের মহত্ত্ব কোথায়।

এটা ঠিক যে, মাঝে মাঝে তসলিমা কিছু চরম সত্য উচ্চারণ করেন এবং কিছু ক্ষেত্রে তা একেবারে জায়গা মতো লেগে যায়। অনেকে তখন তাকে গালি-গালাজ করে। এতে করে তারা নিজেদের দুর্বলতাই প্রকাশ করে আর তসলিমার ভুলগুলিকে বিবেচনার কাতারে নিয়ে আসে।

অপছন্দনীয় বলে কাউকে গালি দিতে হবে কেন? বরং যুক্তির খেলায় নামিয়ে তাকে সহজেই হারিয়ে দেয়া যায়। একইভাবে তিনি তাসলিমা শুধু এই কারণে কেন তাসলিমার বলা সত্যকে এড়িয়ে যেতে হবে? সত্য সে যেই বলুক সত্য, কেউ উচ্চারণ না করলেও সত্য।

ফেসবুক স্ট্যাটাসে তাসলিমা নাসরিন লিখেছেন, “ছেলে তো মারা গেল. এখনো কি চিকন ভুরু আঁকবেন খালেদা বিবি? হ্যাঁ, আঁকবেন. ছেলের মরা ছেলে মরেছে, তাতে বিবির কী? বিবির কাছে শিবিরের খুনিরাই এখন পেটের ছেলে, যে খুনিরা পেট্রোল বোমা মেরে দেশটাকে একটা শশ্মান বানাচ্ছে. পুড়ে ছাই হয়ে যাবে হাজারো নিরপরাধ মানুষ. বাড়িঘর পুড়িয়ে, গ্রাম শহর পুড়িয়ে, গোটা দেশটা পুড়িয়ে দিয়ে হলেও তাকে ক্ষমতায় বসাবে শিবিরের সোনার ছেলেরা. গদির আরামের কাছে স্বজন তুচ্ছ. গদির ব্যবস্থা যারা করছে, তারাই তার কোকো. এত কোকো থাকতে এক কোকোর জন্য ভাববেন কেন বিবি?”
সুত্রঃ https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=591880900956372&id=100004034030498&refid=17&_ft_

এই কথাগুলির মাঝে কোনো ভুল আছে? নেই। খালেদা নিজেই তা প্রমাণ করেছেন। বলা যায়, খালেদার নৃশংসতা এখন সীমা ছাড়িয়ে গেছে। ভুক্তভোগীরাও তসলিমাকে সঠিক বলে প্রমাণ করেছেন।

পেট্রোল বোমায় পুড়ে মারা যাওয়া বরিশালের আবুল কালামের মা বলেছেন, “খালেদা জিয়ার হুকুমের গোলামরা পেট্রোল বোমা মাইরা মোর পোলার জীবনডারে শ্যাষ কইরা দিছে। মুই আল্লার ধারে বিচার চাইছি। আল্লায় মোরে হেই বিচার দ্যাহাইছে। এইবার খালেদা জিয়া বোঝবেন, সন্তান হারানোর ব্যথা কত কষ্টের।”
সুত্রঃ দৈনিক সমকাল, ২৭শে জানুয়ারী ২০১৫।

বিনা কারনে এ পর্যন্ত পুড়ে মরেছে ৪৪ জন নির্দোষ নিরীহ খেঁটে খাওয়া মানুষ। পুড়ে বেঁচে গিয়ে যন্ত্রণা পাচ্ছে শিশু-নারী সহ আরো অসংখ্য মানুষ। পরিককল্পিতভাবে টার্গেট করেই এদের মারা হচ্ছে। এদের জীবনের চেয়ে যেনতেনভাবে ক্ষমতায় যাওয়া খালেদার কাছে বেশী মূল্যবান।

যাত্রাবাড়ীর ঘটনায় পুড়ে যাওয়া এক যাত্রী সারা গায়ে আগুন নিয়ে পাগলের মতো রাস্তা দিয়ে দৌঁড়েছেন আর সেই সাথে তার গা থেকে পোড়া মাংস খসে পড়েছে। এই ভয়াবহ অবস্থা সৃষ্টিকারী খালেদাকে তাই এই ঘটনার মামলায় আসামি করা হয়েছে। জানা কথা, দলকানা নির্বোধ সুবিধাবাদীরা জেনে-শুনে এর বিরোধিতা করবে।

এসবের মূলে শুধুই খালেদার ক্ষমতার লোভ। চুরির দায়ে দন্ডিত পলাতক ছেলের স্বাভাবিক মৃত্যুতে খালেদা নাকি ঘুমের ইঞ্জেকশন নিয়েছেন। পেটের দায়ে রাস্তায় বেরিয়ে খালেদার লাগানো আগুনে পুড়ে মারা যাওয়া এই মানুষগুলির মায়েরা কষ্ট ভোলার জন্য কী করবেন?