ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

বোমাবাজি করে নিরীহ মানুষ মারা চলছেই। এটা থামানো কতটা জরুরী হয়ে পড়েছে তা ভুক্তভোগীরা জানেন। শুধু কথামালায় কাজ হবে বলে মনে হয় না। অনেকে বিভিন্ন আপ্তবাক্যের আশ্রয় নিচ্ছেন। লাভ হচ্ছে কি?

সময়ের দাবী হিসেবে কিছু কাজ করা দরকার। না, পাল্টা আঘাত করার পথ বেঁছে নেয়া যায় না। আইনকেই অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দেয়া উচিত। কিন্তু মানুষ খুনের উৎসব তো এখনই বন্ধ করতে হবে। সমাধান আছে। এগুলির কয়েকটা উল্লেখ করছি।

১. যা নিষ্ঠুরভাবে আপনার স্বজনকে মেরে ফেলছে, আপনার রোজগার বন্ধ করে দিচ্ছে কোন্ যুক্তিতে সে হরতাল-অবরোধকে পরোয়া করবেন? কোনো কাপুরুষ গর্তে লুকিয়ে বেনামি একটা বিবৃতি পত্রিকায় পাঠালো আর ওমনি আপনি ঘরে বসে থাকবেন? জোর করে যারা আপনাকে স্বাভাবিক কাজ করা থেকে বিরত রাখছে তারা জঘন্য অপরাধ করছে – এটা জেনেও কেন ঐ অপরাধীদের সুযোগ দিবেন? স্বতঃস্ফুর্তভাবে হরতালের ভয় দূর করুন।

২. দোকান-পাট খুলুন যেমন গাড়ি চালকেরা বোমার ভয় না করে গাড়ি বের করছেন। রাস্তায় নাশকতার আগুনে পুড়ে মারা যাওয়ার শংকা নিয়ে গাড়ি চালানোর চেয়ে অনেক কম ঝামেলার কাজ দোকান খোলা রাখা।

৩. কোনো জংলি এসে বোমা মেরে বা ভাংচুর করে দোকানের ক্ষতি করবে বলে ভয় পাচ্ছেন? আজকাল এমন কয়টা মার্কেট আছে যেখানে গার্ড নেই? যদি মার্কেটের শখানেক লোক সচেতন থাকে আর গার্ডরা সঠিকভাবে খেয়াল রাখে তবে কীভাবে কোনো সন্ত্রাসী এসে বোমা মেরে বা ভাংচুর করে পালিয়ে যাবে? ওদের ধরার জন্য বসে থাকলে তো ওরা সাহসই করবে না কিছু করতে আসার। বাজারগুলি আরো বেশি জনবহুল। চাইলেই সন্ত্রাসীদের আটকানো যায়।

৪. এরপরও যদি এক-আধবার একটা-দু’টা দোকানের কিছু ক্ষতি হয়ে যায় তাহলে তা কি দিনের পর দিন লাখো দোকান বন্ধ রাখার চেয়ে বড় ক্ষতি হবে? তাছাড়া এভাবে নীরবে ক্ষতি মেনে না নিয়ে দোকান খুলে ব্যবসা করে ক্ষতিগ্রস্থদের সাহায্য করার জন্য চাঁদা তুলে জরুরী তহবিল গঠন করা যায়, এ তহবিলে সরকারও যাতে যোগান দেয় সে দাবী জানানো যায়।

৫. পরীক্ষাও নির্বিঘ্নে নেয়া সম্ভব। একটা কেন্দ্রে সর্বোচ্চ ২/৩ হাজার পরীক্ষার্থী থাকে। তাদেরকে আনা-নেয়া করার জন্য ৮/১০ টি বাসের ৪/৫ টিপ লাগবে। প্রতিটি বাসে দুজন করে পুলিশ বা আনসার থাকবে, বাসগুলির জানালা ধাতব ব্যারিয়ার দিয়ে সুরক্ষিত থাকবে। একটা কেন্দ্রের জন্য ৮/১০ টি স্পট বাছাই করে পরীক্ষার্থীদের নিজ এলাকার স্পটে আসতে বলা হবে, একেকটি বাস একেক অঞ্চলের পরীক্ষার্থীদের আনা-নেয়া করবে।

৬. পরীক্ষা কেন্দ্রভিত্তিক এমন উদ্যোগ নেয়া সরকারের জন্য কোনো ব্যাপারই নয়। আর পরীক্ষা কেন্দ্রে তো এমনিই নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়, শুধু একটু সচেতন থাকতে হবে। তাহলে কীভাবে ক্ষমতালোভী বিএনপি-জামাতের সন্ত্রাসীরা পরীক্ষা আটকাবে?

৭. পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা গাড়ি চালাচ্ছেন। বোমাবাজির অসহায় শিকারও হচ্ছেন তারা ও যাত্রীরা। এক্ষেত্রে যা প্রতিরোধের উপায় হতে পারে তা হলঃ বাসের দরজা-জানালা বন্ধ রাখা, জানালার গ্লাসের উপর অতিরিক্ত গার্ড ব্যবহার করা, বাসে পানি ও ছোট-খাঁটো অগ্নি নির্বাপণ সরঞ্জাম রাখা এবং বাড়তি যাত্রী না তোলা।

৮. অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ ও যাত্রা কর্মতালিকা থেকে সাময়িকভাবে বাদ দিতে হবে।

৯. রাস্তাগুলিতে আইন প্রয়োগকারী বাহিনীর টহল বাড়াতে হবে এবং তারা যাতে বোমা ছুঁড়তে দেখলেই বোমাবাজকে গুলি করতে পারে সে ব্যবস্থা করতে হবে। যে বিপুল সংখ্যক বিজিবি-আনসার সদস্য প্রতিদিন দায়িত্বহীন থাকে তাদেরকে কাজে লাগানোর সময় তো এখনই।

১০. সর্বোপরি রাজাকারদের এ কাপুরুষোচিত সন্ত্রাসী তৎপরতায় ইতোমধ্যে যারা নানাভাবে মূল্য দিয়েছেন সরকার তার সামর্থ্যের সবটুকু দিয়ে তাদের পাশে দাঁড়াবে। সরকার অবশ্য সে কাজ শুরু করে দিয়েছে।

খালেদারা যে পৈশাচিকতায় মেতে উঠেছে তা অনির্দিষ্টকাল পর্যন্ত চলতে দেয়া যায় না। তাছাড়া কাপুরুষদের মানুষ খুন করা যদি দাবী আদায়ের উপায় হিসেবে স্বীকৃতি পেয়ে যায় তাহলে সেটা খুবই খারাপ উদাহরণ হয়ে থাকবে।

যারা নিজ দলীয় লোককে প্রধান উপদেষ্টা বানিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে নষ্ট করেছে, নির্বাচনে অংশ না নিয়ে ভোটারদের সাথে প্রতারণা করেছে আর এখন সন্ত্রাসকে ক্ষমতায় যাওয়ার সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহার করছে সে বিএনপি-জামাতকে তাই কোনো সুযোগ দেয়া যাবে না।