ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

30_MK+Anwar+_130513

ঔপনিবেশিক শোষকদের সৃষ্ট বিষাক্ত আমলাতন্ত্র আজো আমাদের দেশকে অক্টোপাসের মতো জড়িয়ে আছে। আমলাদের দাপ্তরিক দুর্বৃত্তপনা ও দূর্নীতি দেশের মূল সমস্যাগুলির একটি। এরা নিজেদের ব্যক্তিস্বার্থ রক্ষায় ব্রিটিশদের দাসত্ব করেছে, করেছে পাকিস্তানিদের সেবাও। স্বাধীনতার পর এরা সামরিক স্বৈরাচারদের পদলেহন করে গেছে অবিরত। এ গুটিকয়েক লোক বারবার দেশের ক্ষতি করেছে।

রাজাকার এম কে আনোয়ার ছিল এরশাদের ডান হাত, এরশাদের সব কুকর্ম আর খুনের মুল পরামর্শদাতাদের একজন। ছাত্রলীগ, ছাত্রদল সহ সব সংগঠন এক হয়ে ৯০’ এর ডিসেম্বরে এরশাদের সহযোগী কুলাঙ্গারদের যে কালো তালিকা তৈরী করেছিল তার একেবারে প্রথম দিকে ছিল এম কে আনোয়ারের নাম। কথা ছিল, তাকে প্রথমেই ধরা হবে বিচার করার জন্য, এরশাদের কুকীর্তির প্রমাণ বের করার জন্য।

ঐ তালিকার প্রথম স্বাক্ষরটা ছিল ছাত্রদলের আমানউল্লা আমানের। কিন্তু মাত্র দুই মাসের ভিতরে তা ভুলে গিয়ে এ আমানই দালাল এম কে আনোয়ারের সাথে একই দলের এমপি হয়ে সংসদে গেছে। আনোয়ারের বিচার করা দূরের কথা, সে ইস্যু আর মনেই করতে চায় নি বিএনপি। তারা মনে রেখেছে, মেরুদন্ডহীন আনোয়ার সামরিক স্বৈরাচার জিয়ার দুষ্কর্মেরও সঙ্গী ছিল।

এরশাদের পতনের পর ভীত এম কে আনোয়ার শেখ হাসিনার সাথে দেখা করেছিল আওয়ামীলীগে যোগ দিতে, নির্বাচনে নমিনেশন পেতে। কিন্তু হাসিনা এক বাক্যে স্বৈরাচারদের এ সেবাদাসকে ফিরিয়ে দেন। এরপর সে যায় খালেদার কাছে। বিএনপি এম কে আনোয়ারকে আদর করে বুকে টেনে নেয়, খালেদা তার কালো টাকা খরচ করে ভোটারদের বিভ্রান্ত করেন আর তাকে এমপি-মন্ত্রী পদ উপহার দেন।

এম কে আনোয়ার ৭১’ এ ইয়াহিয়ার চাকর হিসেবে পাকিদের সেবা করেছে। সাবেক মুক্তিযোদ্ধা বর্তমানের রাজাকাররক্ষক কাদের সিদ্দিকী এখন এম কে আনোয়ারের অপকর্ম লুকিয়ে রাখতে চাইলে কী হবে, ইতিহাস সে সত্য ধরে রেখেছে। শুধু তাই নয়, পাকি সেবক এম কে আনোয়ার ঢাকার ডিসি হয়ে ৬৯’ এর গণঅভ্যুত্থানে আন্দোলনকারী বাঙ্গালি ছাত্রদের উপর গুলি চালাবার নির্দেশ দিয়ে আইয়ুবের মন যুগিয়েছে।

রাজাকাররক্ষক খালেদারা রাজাকারদের মন্ত্রী বানিয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতাকে অপমান করেছে। এমনকি বলেছে, গো আযম-নিজামীরা যুদ্ধাপরাধী নয়। এম কে আনোয়ারও উঠে পড়ে লেগেছে রাজাকারদের বাঁচাতে। জাতভাই বলে কথা। হেফাজতীদের নাশকতামুলক কর্মকান্ডের পূর্ব-পরিককল্পনা রচিত হয়েছে জামাত ও এম কে আনোয়ারের হাতে।

বিএনপি-জামাত জোট এখন দেশজুড়ে সাধারণ মানুষকে পুড়িয়ে মারার যে কাপুরুষোচিত উৎসব চালিয়ে যাচ্ছে তার পিছনের ষড়যন্ত্রকারীদের একজন নিশ্চিতভাবে জানোয়ারী মনোবৃত্তির এম কে আনোয়ার। নীতির কোনো বালাই নেই এ সুবিধাবাদীর। এক মুখে প্রকাশ্যে ধর্মের কথা বলে, আরেক মুখে গোপনে কুর্‌আন পোড়ানোর নির্দেশ দেয়।

দু’মুখী সাপ এম কে আনোয়ার ধর্ম ব্যবসায় ও ধর্মকে ক্ষমতা দখলের সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহারে অতি পারঙ্গম। এ নষ্ট আমলার ব্যাপারে সজাগ থাকতে হবে। মনে রাখা উচিত, যা পঁচে গেছে, গলে গেছে তাকে সিল্কের কাপড়ে জড়িয়ে রাখার চেয়ে কবর দিয়ে দেয়া উত্তম কাজ।