ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

যেভাবে গর্তে লুকিয়ে থেকে সে দীর্ঘদিন সাধারণ কর্মজীবী মানুষকে কাপুরুষোচিত উপায়ে পুড়িয়ে মারার নির্দেশ দিয়েছে সেরকম এক লজ্জাজনক পরিস্থিতিতে নিজেকে জড়িয়ে অবশেষে উদয় হয়েছে বিএনপির অন্যতম নেতা ‘আল্লামা’ সালাউদ্দিন বিন লাদেন।

এটা সহজেই বোধগম্য যে, সালাউদ্দিন ও তার প্রমাণিত মিথ্যাবাদী দল এখন নাটকের আরেক অংক মঞ্চায়ন করবে। আমাদের দেশের কিছু মানুষের হুজুগপ্রিয়তা এত বেশি যে, নাটকের এ পর্যায়ে সালাউদ্দিন বিন লাদেন যেসব নাটকীয় সংলাপ আওড়াবে কোনো বিবেচনাবোধের পরিচয় না দিয়েই ঐ মানুষেরা সেগুলি গোগ্রাসে গিলবে, দৈববাণী বলে বিশ্বাস করবে আর লাফাবে।

তাই বলতে হয়, সালাউদ্দিন নাটকের কোনো কিছু বিশ্বাস বা অবিশ্বাস করার আগে নিম্নে উল্লেখিত বিষয়গুলি ভেবে দেখা দরকার।

১) সরকার কেনো লাদেনের উত্তরসুরী এ সালাউদ্দিনকে অপহরণ বা গুম করবে? পেট্রল বোমায় পুড়িয়ে মানুষ মারার যে নাশকতা বিএনপি চালিয়ে যাচ্ছিল তা থামানোর জন্য? সালাউদ্দিনকে সরিয়ে দিলেই যদি তা হত তবে তো তাকে গ্রেপ্তার করলেই চলতো। তার চেয়ে প্রভাবশালী নেতা ফখরুল ও রিজভীকে কি সরকার গ্রেপ্তার করে সরিয়ে দেয় নি?

২) ভয় দেখানোর জন্য অপহরণ করবে? তাহলে ছেঁড়ে দিলো কেনো? ইলিয়াসের নিখোঁজ হওয়া নিয়ে কত কিছুই না করেছে বিএনপি। তাকে ফিরে পাওয়া গেছে? সালাউদ্দিনের ‘অন্তর্ধান’ নিয়ে বিবৃতি দেয়া ছাড়া আর কী করেছে বিএনপি?

৩) সালাউদ্দিন ‘নিখোঁজ’ হওয়ার ২৪ ঘন্টা পর খালেদার সাথে পরামর্শ করা শেষে তার স্ত্রী মিডিয়াকে জানায় যে, সালাউদ্দিনকে আইন প্রয়োগকারী বাহিনী ‘অপহরণ’ করে নিয়ে গেছে। একইভাবে তার সন্ধান জানার পর মিডিয়াকে কিছু না বলে তার স্ত্রী প্রথমে খালেদার সাথে সশরীরে দেখা করে এবং প্রায় এক ঘন্টা পরে সাংবাদিকদের জানায় যে, সালাউদ্দিনের খোঁজ্‌ পাওয়া গেছে। এ সন্দেহজনক কৌশল অবলম্বনের প্রয়োজন হল কেনো?

৪) যার স্বামী অজানায় হারিয়ে গেছে, যাদের স্বাভাবিক জীবন-যাত্রা থমকে গেছে, যে মাত্র দুই দিন আগেও বলেছে, রাজনীতির বাইরে গিয়ে মানবতার খাতিরে যেন তার স্বামীকে ফিরিয়ে দেয়া হয় এবং স্বামীকে ফিরে পাওয়ার চেয়ে বড় কিছু তার আর নেই সে কেনো স্বামীর অপহরণের মর্মান্তিক খবর ও ফিরে পাওয়ার আশাতীত সংবাদ জানানোর আগে খালেদার সাথে কথা বলা জরুরী মনে করলো? এটা রহস্যজনক আচরণ নয়? খালেদা বাঁধা দিলে কি সে এ খবর মিডিয়াকে জানাতো না?
যদি শুধু জানানোর জন্য জানাতে চাইতো তাহলে তো ফোন করলেই চলতো। কিন্তু একেবারে গিয়ে দেখা করা এবং তার আগে মুখ বন্ধ রাখা কেনো?

৫) দীর্ঘ দুই মাস ধরে সালাউদ্দিন নাটক চলছে। সরকারকে দায়ী করে অভিযোগ করলেও খালেদাকে কখনো বলতে শোনা যায় নি যে, সালাউদ্দিন জীবিত অবস্থায় সরকারের হাতে বন্দি হয়ে আছে। এখন খালেদার বিবৃতি তা জানালো আর এর পরদিনই সালাউদ্দিন নিজে তার স্ত্রীকে ফোন করে বললো যে, সে ভালো আছে। মারহাবা। তা খালেদা কীভাবে নিশ্চিত হল যে, RAB সালাউদ্দিনকে ধরে নিয়ে গিয়ে প্রাণে না মেরে বাঁচিয়ে রেখেছে? আর সে খবর আগে জানানো হয় নি কেনো?

৬) সালাউদ্দিন বলেছে, কিছু লোক তাকে অপহরণ করেছিল। সে বলে নি যে, ঐ লোকগুলি ছিল আইন প্রয়োগকারী বাহিনীর। কিন্তু বিএনপি ও তার স্ত্রী বলে এসেছে, সালাউদ্দিনকে RAB অপহরণ করেছে। একজন প্রাক্তন মন্ত্রী কী করে বুঝতে পারবে না যারা তাকে ধরে নিয়ে গেছে তারা আইনের লোক কি না? নোংরা রাজনীতির একজন পাকা খেলোয়াড় কি তার অপহরণকারীদের দেখে তাদের পরিচয় সম্পর্কে ধারণা পাবে না?

৭) তার নাকি স্মৃতি হারিয়ে গেছে। স্মৃতি হারানো কেউ কীভাবে প্রথম সুযোগেই স্ত্রীর ফোন নাম্বার স্মরণ করে তাকে কল করে? দলের নেত্রীর নাম মনে করতে পারে? মিডিয়াকে তার ফেরার খবর জানাতে বলে? আর এত কিছু যদি করতেই পেরেছে তাহলে তার অপহরণকারীরা আইনের লোক ছিল কি না তা কেনো সে স্মরণ করতে পারে নি? অপহরণকারীদের সাথে তো তার সাক্ষাত হয়েছিল তার স্মৃতি হারানোর আগেই।

৮) বিএনপির সুবিধাবাদীরা বলছে, চিকিৎসা লাভের পর তার স্মৃতি ফিরে এসেছে। সত্য হল, মানসিক হাসপাতালে তাকে কোনো চিকিৎসাই দেয়া হয় নি। কিছু পরীক্ষা করা হয় সে পাগল কি না তা জানতে। পরীক্ষার পর জানানো হয়, সালাউদ্দিন মানসিকভাবে সম্পূর্ণ সুস্থ। তাই তাকে মানসিক হাসপাতাল থেকে নিয়ে আসা হয়। তার আগেই সে ঐসব বলেছে ও করেছে।

৯) তার চেয়ে বড় কথা, শিলং শহরের এক রাস্তায় পুলিশ যখন সালাউদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে তখন পুলিশকে সে নিজের প্রথম যে পরিচয় দেয় তা হল, সে বাংলাদেশের প্রাক্তন এক মন্ত্রী। স্মৃতি যদি হারিয়ে গিয়েই থাকতো তবে হাসপাতালে যাওয়ার আগেই সে কীভাবে মনে করতে পারলো যে, সে ১০ বছর আগে বাংলাদেশের মন্ত্রী ছিল? পুলিশ তার এমন দাবির পরই তাকে পাগল মনে করে মানসিক হাসপাতালে নিয়ে যায় কিন্তু সে তো আসলেই খালেদার মন্ত্রী ছিল, ভুল বলে নি।

১০) কোনো বাঙ্গালি নারী তার অপহৃত হওয়া স্বামীর হঠাৎ করে ফিরে আসার খবর পেলে যে তাত্ক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখাবে, যে আনন্দাশ্রু ফেলবে সেসবের কোনো কিছুই কি সালাউদ্দিনের স্ত্রীর মাঝে ছিল? ‘অপহরণ’টা নাটক ছিল বলেই সে প্রত্যাশিত প্রতিক্রিয়া দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে।

১১) ফিরে আসার পর মূহুর্তে তার যে পালিশ করা ক্লিন শেভ্ড চেহারা এবং অটুট স্বাস্থ্য দেখা গেছে তা কি দুই মাস যাবত অপহৃত হয়ে থাকা কোনো নির্যাতিত মানুষের চেহারা ও স্বাস্থ্য? অপহরণকারীরা কি তাকে ঘুম পাড়িয়ে প্রতিদিন সেলুনে নিয়ে যেতো শেভ করানোর জন্য? তার কাছে টাকা-পয়সাও ছিল না যে মুক্তি পাওয়ার পর সে নিজে সেলুনে যাবে।

১২) সর্বোপরি, তার গায়ে একটা আঘাতেরও চিহ্ন পাওয়া যায় নি। বিএনপির সৃষ্ট RAB কাউকে অপহরণ করে নিয়ে গিয়ে দুই মাস ধরে আটকিয়ে রাখবে আর তার গায়ে একটা ফুলের টোকাও পড়বে না – এ কথা কাকে বিশ্বাস করাবে বিএনপি?

সর্বশেষ খবর – দৈনিক জনকণ্ঠ রিপোর্ট করেছে, খালেদার বাসায় যাওয়ার পর সালাউদ্দিনের স্ত্রী খালেদার বিশেষ সহকারি শিমুল বিশ্বাসের সাথে তর্কে লিপ্ত হয়। শিমুল বিশ্বাস সালাউদ্দিনের স্ত্রীকে বলে, “আপনার স্বামী ভারতে, আপনি আমাদের জানান নি কেনো?” জবাবে সালাউদ্দিনের স্ত্রী বলে, “আপনারাই তাকে ভারত পাঠিয়েছেন। আমি কিছু জানি না।”

বলার অপেক্ষা রাখে না যে, সালাউদ্দিনের এ অবিশ্বাস্য ‘অন্তর্ধান’ ও রহস্যজনক ফিরে আসা ফায়দা আদায়ের জন্য বিএনপির এক পরিকল্পিত নাটক।
মনে রাখা দরকার যে, বিএনপি মাত্র সেদিন আমেরিকার কংগ্রেস সদস্যদের নাম ভাঙ্গিয়ে ভুয়া বিবৃতি প্রচার করেছিল। এমনকি বানিয়ে বলেছিল, ভারতের বিজেপি সভাপতি তাদের ফোন করেছেন যা পরে মিথ্যা বলে প্রমাণিত হয়েছিল।