ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

মত প্রকাশের স্বাধীনতার বাড়াবাড়ি চর্চা দেশকে আজ এক অভাবনীয় অবস্থার মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। অতি ছোট বিষয়ও তুমুল আলোড়ন সৃষ্টি করছে। আসলে স্থিরতা ও স্বাভাবিকতা এদেশের কিছু মানুষের পছন্দ নয়। তাই কেউ ঘটনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে আর কেউ উৎসাহী দর্শক হয়ে অস্থিরতার লাগামহীনতায় গা ভাসিয়ে দিচ্ছে।

মুলতঃ কিছু মানুষ প্রয়োজনে সংযমী হতে পারে না বলে এমন অনাকাংখিত পরিস্থিতি তৈরী হয়। কয়েকদিন ধরে লেখক অধ্যাপক মুহাম্মদ জাফর ইকবালকে কেন্দ্র করে চরম উত্তপ্ত এক বায়ুপ্রবাহ বইছে দেশের বিভিন্ন অংশে, বিশেষতঃ সিলেটে। তিন প্রান্তের চারটি ছোট ঘটনা থেকে এর সৃষ্টি। ঐ ঘটনাগুলির দিকে নজর দেয়া যাক।

প্রথম ঘটনাঃ- সপ্তাহ কয়েক আগে এক রাতে হঠাৎ করে টিভির স্ক্রলে ব্রেকিং নিউজ দেখা গেল “শাহ্জালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৫ জন শিক্ষক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন।” ডিটেইলস্ খবর শোনার ইচ্ছা হয় নি। পরদিন পত্রিকায় পড়লাম, বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষক একটি কক্ষের দখল নিয়ে দ্বন্দ্বে লিপ্ত হন। যারা দখল নিতে ব্যর্থ হন তাদের পক্ষ হয়ে জাফর ইকবাল আরো কিছু শিক্ষক নিয়ে তখনই উপাচার্যের সাথে দেখা করেন। উপাচার্য ঘটনা শুনে সমাধানের জন্য কিছু সময় চান। কিন্তু ঐ শিক্ষকগণ তাত্ক্ষণিক সমাধান দাবি করেন।

ইতোমধ্যে ফোন আসে যে, উপাচার্যের স্ত্রী অসুস্থ। তাই উপাচার্য বাসায় যাওয়ার জন্য রওয়ানা হন। এদিকে জাফর ইকবালরা বেরিয়ে এসে সেই মুহূর্তেই নিজেদের পদত্যাগপত্র জমা দেন, উপাচার্য পদত্যাগ না করলে প্রশাসনিক পদে ফিরে যাবেন না বলে জানান। তাদের দাবির প্রেক্ষিতে উপাচার্য বাধ্য হয়ে হঠাৎ ‘অসুস্থ’ হন এবং দুই মাসের ছুটি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়েন যা পদত্যাগেরই পূর্ব-পদক্ষেপ। আর জাফর ইকবালরা ফের নিজেদের পদে ফিরে যান, জমা দেয়া পদত্যাগপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার না করেই।

দ্বিতীয় ঘটনাঃ- গত সপ্তাহে সিলেট-৩ আসনের সাংসদ, শাবির সিন্ডিকেটের সদস্য আওয়ামীলীগ নেতা মাহমুদুস সামাদ চৌধুরী কায়েস তার নির্বাচনী এলাকায় এক অনুষ্ঠানে বলেন, “জাফর ইকবাল একজন ভালো উপাচার্যকে বিনা কারণে বিদায় করেছে। আমি যদি খুব ক্ষমতাধর কেউ হতাম তবে তাকে কোর্ট পয়েন্টে ধরে এনে চাবুক মারতাম।”
জাফর ইকবালের অনুগামীরা এতে খুব মর্মাহত হয়। তারা সোশাল মিডিয়ায় কায়েস বিরোধী গ্রুপ খুলে, কায়েসের প্রতি মনের মাধুরী মিশানো নিম্নরুচির শব্দমালা বর্ষণ করে, জাফর ইকবাল কায়েসের চেয়ে কত বেশি মহান তা বর্ণনা করতে থাকে।

তৃতীয় ঘটনাঃ- গত সপ্তাহেই প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এক সাক্ষাতকারে আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম রয়টার্সকে বলেন যে, বাংলাদেশের পরিস্থিতি তাঁর মায়ের জন্য খুব নাজুক। তাই ব্লগার খুনের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে সরাসরি প্রতিক্রিয়া দেখানো তাঁর পক্ষে সম্ভব হয় নি। তবে তিনি ফোনে কথা বলে নিহত ব্লগারের পিতাকে সমবেদনা জানিয়েছেন। সরকারের ধর্ম নিরপেক্ষতার নীতিও বহাল থাকবে বলে তিনি জানান।

চতুর্থ ঘটনাঃ- সজীব ওয়াজেদ জয়ের বক্তব্যের পরদিন ব্লগার খুনের প্রতিবাদে আয়োজিত এক মানববন্ধন কর্মসূচীতে অংশ নিয়ে জাফর ইকবাল বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর ছেলের বক্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়। এতে মৌলবাদীরা উৎসাহিত হবে।” তিনি সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশ্যে আরো বলেন, “সরকার তোমাদের নিরাপত্তা দিবে না। তোমাদের ব্যাবস্থা তোমাদেরই করতে হবে।”

এরপরই শুরু হয়েছে আরো উত্তেজনাকর ঘটনাপ্রবাহের। কায়েসের সমর্থকরা জাফর ইকবালের বিরুদ্ধে মিছিল বের করেছে, সোশাল মিডিয়ায় জাফর ইকবালের বংশ পরিচয় ও চরিত্র নিয়ে অশ্রুতব্য শব্দ প্রয়োগ করে লেখালেখি করছে।
অন্যদিকে জাফর ইকবালের ভক্তরা অবস্থান কর্মসূচী পালন করেছে, জাফর ইকবালের ‘বিরল’ অতি মানবীয় ‘গুনাবলী’ নিয়ে লিখে যাচ্ছে, কায়েস ও আওয়ামীলীগের বিপক্ষে কত বেশি খারাপ শব্দ ব্যবহার করা যায় তার প্রতিযোগিতা করছে, দেশ কত তাড়াতাড়ি জ্ঞানী-গুনীবিহীন এক অন্ধকার যুগে প্রবেশ করবে তা জানাচ্ছে। জাফর ইকবাল নিজেও কায়েসের বিরুদ্ধে কটু বাক্য ব্যবহার করেছেন যা হতবাক করার মতো।

জয়ের বক্তব্যকে তো কোনোভাবেই ভুল বলা যাবে না। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, বিদেশে পাচার করা কালো টাকা দেশে ফিরিয়ে আনা, বোমাবাজ জঙ্গিদের দমন, কূটনৈতিক সাফল্য ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের মাধ্যমে তাঁর মা কী কঠিন পরিস্থিতি মোকাবেলা করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন তা সব সচেতন মানুষের কাছেই পরিষ্কার। এ অবস্থায় রাজাকার ও দুর্নীতিবাজরা বাঁচার জন্য যে ষড়যন্ত্র ও রাহাজানি করছে তার মুল্য দিচ্ছে আওয়ামীলীগের লোকেরাই।

জাফর ইকবাল নিজেই লিখেছেন, “দৃঢ়তার সাথে কঠিন পরিস্থিতি মোকাবেলা করে শেখ হাসিনা যেভাবে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করে চলেছেন তাতে প্রশংসা তাঁর একান্ত প্রাপ্য।”

এ সত্যকে চাঁপা না দিয়ে বাস্তবতা তুলে ধরা ও কর্তব্য সম্পাদনের পূর্ণ প্রতিশ্রুতি দেয়া ভুল হয় কীভাবে? এতে যদি কারোর ব্যক্তিস্বার্থ উদ্ধার না হয় তবে সেটা তার ব্যক্তিগত সমস্যা। বলা তো হয় নি যে, ব্লগারদের হত্যার বিচার হবে না। বরং হত্যা মামলাগুলির তদন্ত কাজ পুরোদমে চলছে। তাহলে?

ব্লগারদের কেমন নিরাপত্তা দিবে সরকার? কেউ যদি মনোযোগ আকর্ষনের জন্য নিজ ইচ্ছায় অপ্রয়োজনীয়ভাবে কোনো ধর্মের বিরুদ্ধে যা ইচ্ছা তাই লিখে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের অনুভূতিতে আঘাত দিয়ে হুমকির মুখে পড়ে তবে সরকার কীভাবে তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে? সরকার কি এমন প্রত্যেকের জন্য ৪/৫ জন করে দেহরক্ষীর ব্যাবস্থা করবে? কোথা থেকে আসবে এত দেহরক্ষী? মঙ্গল গ্রহ হতে?

আর শুধু ব্লগারদের জন্য কেনো? অন্য নাগরিকদের জন্য কেনো এরকম নিরাপত্তার ব্যাবস্থা করা হবে না? এতে যে কয়েক কোটি দেহরক্ষীর প্রয়োজন হবে তাদের কোন্ ফ্যাক্টরিতে তৈরী করবে সরকার? নাকি বলা হবে, আওয়ামীলীগ ব্যতীত অন্য কোনো সরকার এলে পাকিস্তান থেকে কয়েক কোটি দেহরক্ষী আমদানী করা হবে? তাহলে এ দাবিতে কেনো কোনো বক্তব্য দেয়া হয় নি বা কেনো কোনো আন্দোলন হচ্ছে না?

কোনো নির্দিষ্ট অপরাধ সংঘটিত হওয়ার আগে যদি এর সম্পর্কে জানা না যায় তবে দুনিয়ার কোনো সরকারের পক্ষেই তা থামানো সম্ভব নয়। যে কাপুরুষ নিজের বেডরুমে তার স্ত্রীকে খুন করে সরকার তাকে কীভাবে থামাবে? সরকারের কি অলৌকিক ক্ষমতা আছে যে জানবে কখন কীভাবে ঐ লোক তার স্ত্রীকে খুন করবে? সরকারের কাজ আইন প্রণয়ন করা ও সংঘটিত অপরাধের বিচারের ব্যাবস্থা করা। যে কোনো সরকারের কাছ থেকে নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ এতটুকুই পাওয়া যেতে পারে। আইন ও শাস্তির ভয়ে অনেক অপরাধ ঘটে না। তাহলে অসম্ভব বাড়তি নিরাপত্তার কথা বলা কেনো?

আবার ব্লগার খুনের ঘটনা বাস্তবতার নিরিখে যতই স্পর্শকাতর বিষয় হোক, সত্য হল – এ স্পর্শকাতরতা খুনীদের পক্ষে যাবে। এখানে জাফর ইকবাল ঠিক। কিন্তু যা তিনি জেনে-শুনে এড়িয়ে গেছেন তা হল, এর দায় এ সরকারের নয় কিংবা সরকারের পক্ষে অধিকাংশ মানুষের মাঝে ছড়িয়ে থাকা এ স্পর্শকাতরতার অনুভুতিটি অপসারণ করা সম্ভব নয়। এজন্য দরকার সামাজিক পরিবর্তন ও নতুন প্রজন্মকে নতুনভাবে গড়ে তোলা, যার দায় জাফর ইকবালদেরই। সে দায় পালনের ব্যর্থতা তো সরকারের নয়।

সুশিক্ষিত, ভদ্র ও রুচিশীল সজীব ওয়াজেদ জয় জাফর ইকবালের বক্তব্যে কোনো প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন নি। কিন্তু জাফর ইকবালের ভক্তরা আওয়ামীলীগ ও সরকারের বিরুদ্ধে হাজারো শব্দ খরচ করতে ভুল করছে না। তাদের সাথে যোগ দিয়েছে নারীদের সম্ভ্রমের নব্য ‘পাহারাদার’ ও বিদেশে বসবাসকারী শীঘ্রই ‘বুদ্ধিজীবী’ হতে চলা কীবোর্ড যোদ্ধারা।

তাদের ভুলে যাওয়া উচিত হয় নি যে, আওয়ামীলীগের সৌজন্যেই তাদের আজ গর্ত থেকে বের হয়ে কথা বলার এ সুযোগ পাওয়া। আওয়ামিবিরোধীরা যখন ক্ষমতায় থাকে তখন তারা এক গর্তে অনেকে গিয়ে ঢুকে লুকিয়ে থাকার জন্য। তখন তাদের কণ্ঠও নীরব থাকে।

কায়েসের বক্তব্যের বিষয় যৌক্তিক বা ভুল। এর চেয়ে বড় কথা হল, বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য হিসেবে তিনি হয়তো শিক্ষকদের নীতিবোধহীন কর্মকান্ড প্রত্যক্ষ করেছেন যা তাকে মুখ খুলতে বাধ্য করেছে। কিন্তু কোনভাবেই এ কথা বলা যায় না যে, কায়েসের শব্দচয়ন ঠিক ছিল। মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশের পক্ষে সরব একজন মানুষকে এমন জঘন্য শব্দে বিদ্ধ করা হয়েছে শুধু সস্তা জনপ্রিয়তা লাভের উদ্দেশ্যেই।

তবে কায়েস ব্যক্তিগতভাবে অন্য এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে যে মন্তব্য করেছেন তাতে আওয়ামীলীগ বা আওয়ামিলীগারদের দায় কোথায়? ওটা তো কোনো রাজনৈতিক ইস্যু ছিল না। জাফর ইকবাল কোনো রাজনীতিবিদ নন যে রাজনৈতিক সুবিধা লাভের আশায় তার ভক্তরা কায়েসের বক্তব্যের জন্য আওয়ামীলীগ বিরোধী কথা বলবে। তাহলে কি জাফর ইকবালের অবাস্তব ব্যক্তিগত মন্তব্যের জন্য শাবির শিক্ষক সমিতিকে গালি দিতে হবে?

কোনো মানুষই এমন নিষ্কলুষ ইমেজের অধিকারী হয় না যে তার কর্মের সমালোচনা করা অবধারিত ভুল বলে গণ্য হতে হবে, তা সে যত গুনধারীই হোক না কেনো। জাফর ইকবালের ক্ষেত্রেও এ কথা শতভাগ সত্যি। তিনি নিজে এটা ভুলে গেছেন কি না তা বলা না গেলেও তাঁর তথাকথিত ভক্তরা যে ভুলে গেছে তা নিশ্চিত। তারা তাকে ফেরেশতার মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেছে, যেন তাঁর কখনো কোনো ভুল হতে পারে না।

অথচ নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে এখানে উল্লেখিত প্রথম ঘটনার দিকে নজর দিলেই পরিষ্কার হয়ে যায় জাফর ইকবাল প্রয়োজনে কেমন স্থুল ভুল করতে পারেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষক একটা কক্ষের দখল নিয়ে নিজেদের মাঝে ঝগড়া করেছেন আর তা দেশব্যাপী সংবাদ শিরোনামও হয়েছে। এটা আর যাই হোক, সুস্থ চিন্তার বাহকদের কাজ নয়। প্রাইমারী স্কুলের বাচ্চারাও আজকাল এসব কম করে।
জাফর ইকবাল এদের এক গ্রুপের নেতৃত্ব দিয়েছেন, উপাচার্যের কাছে নিজেদের পক্ষে তাত্ক্ষণিক সিদ্ধান্ত দাবি করেছেন, না পেয়ে নিজের পদবী ব্যবহার করে ব্ল্যাকমেইলিং এর আশ্রয় নিয়ে দাবি আদায় করেছেন, এমনকি এ তুচ্ছ কারণে একজন উপাচার্যকে বিদায় নিতে বাধ্য করেছেন।

এক কবি দেশের এক প্রাচীন বিশ্ববিদ্যালয়কে ‘ডাকাতের গ্রাম’ বলে অভিহিত করেছিলেন। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে উপাচার্য অপসারণের দাবিতে শিক্ষক-ছাত্ররা উপাচার্যকে ছয় মাস গৃহবন্দি করে রাখে, তাঁর বাসার বিদ্যুৎ ও পানির লাইন কেটে দেয়, উপাচার্যকে তাঁর অফিসে আটকে রেখে শিক্ষকরা দিনের পর দিন অফিসের দরোজায় শুয়ে থাকেন। দলীয় রাজনীতির লেজুড়বৃত্তি আর ছাত্রদের সন্ত্রাস ও টেন্ডারবাজির কথা বলা বাহুল্য। জাফর ইকবাল কি সেই অপসংস্কৃতি ও অনৈতিকতারই চর্চা করলেন না?

কোনো ভালো লোক যখন অপরের সাহায্যে এগিয়ে আসে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে যৌক্তিক কথা বলে, ন্যায় সংগ্রামে অংশ নিয়ে মানুষকে অনুপ্রাণিত করে তখন এক সময় তাকে সামাজিক ক্ষেত্রে নেতৃত্বের আসনে দেখাটা স্বাভাবিক ব্যাপার। তবে নেতৃত্ব তাকে এমন কিছু করতে বাধ্য করে ফেলতে পারে যা ভুল বলে নেতা না হলে সে করতে চাইতো না।

খুব সচেতন থাকলেই কেবল এসব ভুলকে পাশ কাটানো যায়। নতুবা এমন নেতৃত্ব ভুলের সংখ্যা শুধু বাড়ায়। জাফর ইকবাল এখন এ পর্যায়েই আছেন। ফলে একটা কক্ষের দখল পাওয়ার মতো বিষয়কে তিনি সংবাদ শিরোনাম বানিয়েছেন, অভাবনীয় কারণে উপাচার্যকে বিদায় হতে বাধ্য করেছেন, ব্লগারদের বলেছেন – তারা যেন নিজেরা নিজেদের ব্যাবস্থা করে।

কারোর ভিনদেশী শিক্ষা সনদ, দৃঢ় সামাজিক অবস্থান বা ভালোমানুষি ইমেজ থাকলেই তার ভুলগুলি সিদ্ধ হয়ে যায় না। ভুল সে যে ধরনেরই হোক, ভুল। ভুলের বিরুদ্ধে সরব হওয়া ভুল নয়।