ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

 

ধুরন্ধর ধর্ম ব্যবসায়ীরা কমজোরি ঈমানদারকে বিভ্রান্ত করতে এবার অপপ্রচারে মেতেছে একুশের মহান গানের রচয়িতা আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরীর বিরুদ্ধে। তার বক্তব্যকে বদলিয়ে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে হুজুগে পাগল বাঙ্গালীদের একটা অংশকে ধর্মের নাম বেচে ফুঁসলাচ্ছে নিজেদের স্বার্থোদ্ধারের জন্য।

এ অবস্থায় একজন প্রকৃত মুমিনের দায়িত্ব কী? মি: গাফ্ফার আসলে কী বলেছেন তা জানা এবং সে অনুযায়ী প্রতিক্রিয়া দেখানো। আর এটা করা খুব সহজ। ঐ বক্তব্যের ভিডিও রেকর্ড আছে। চাইলেই তা দেখে নেয়া যায়। কেউ যদি তা না করে ঐ কুচক্রি মুনাফিকদের রটনায় ভুল পথে চলতে চায় তাহলে নিশ্চিতভাবেই বলা যায়, সে মহানবী (সা:) এর অনুসারী নয়, সে সাহাবীদের সমালোচক মওদুদীর অনুসারী।

গাফ্ফার চৌধুরী ধর্ম ও ভাষা নিয়ে বলতে গিয়ে বলেছেন, ধর্মের জন্য নির্দিষ্ট কোনো ভাষা অপরিহার্য নয়। ইসলামের অনুসারী হওয়ার জন্য আরবীভাষী হওয়াও জরুরী নয়। উদাহরণ দিতে গিয়ে তিনি বলেছেন, আরবী ভাষার শব্দগুলি এক সময় কাফিররাও ব্যবহার করেছে। তাই বলে ইসলাম কি সেই শব্দগুলি গ্রহণ করে নি? আরবী ‘রহমান’ শব্দের অর্থ দয়ালু। এ শব্দ কি কাফিররা তখন ব্যবহার করে নি? যে দেবতাকে কাফিররা দয়ার দেবতা মনে করতো তাকে কি তারা রহমান বলে ডাকেনি?

এখনো কি অমুসলিম আরবী ভাষীরা এ আরবী শব্দগুলি তাদের মতো করে ব্যবহার করছে না? করছে। ইরাক ও লেবাননে অনেক অমুসলিম আরব রয়েছে। ইসলাম এ শব্দগুলিকে ব্যবহার করেছে বলে তারা আরবী ভাষা ব্যবহার করা ছেড়ে দেয়নি। গাফ্ফার চৌধুরী এটাই বলেছেন। তার এ কথায় ইসলামবিরোধী কিছু আছে?

তিনি সাহাবি আবু হোরায়রার নামের উদাহরণ দিয়েছেন। আবু হোরায়রা অর্থ বিড়ালের পিতা। তিনি সবসময় বিড়াল সঙ্গে নিয়ে চলতেন বলে তাকে এ নাম দেয়া হয়। এ সত্য কথা বলা মানে ইসলাম অবমাননা করা? এ কথা ইসলামের কোন্ ক্ষতি করেছে? কোনো ক্ষতি করে নি। ইসলাম সত্য চর্চার উপর জোর দিয়েছে।

ক্ষতি যা হওয়ার হয়েছে মিথ্যার ধারক ধর্ম ব্যবসায়ী ভন্ডদের। কারণ গাফ্ফার চৌধুরী তাদের ভ্রান্ত মতবাদের স্বরূপ উন্মোচন করে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আমেরিকা না থাকলে যে দুটি দেশ ভেঙ্গে পড়বে তার একটা ইসরাইল আর অন্যটা পাকিস্তান। স্বভাবতঃই এ সত্য ধর্মের অপব্যবহারকারী প্রতারকদের স্বার্থের পক্ষে যায় নি। তাই গাফ্ফার চৌধুরীর বিরুদ্ধে এ মিথ্যা প্রচারণা।

হাদিস অনুযায়ী, কেউ যদি নাস্তিক না হয় তবে তাকে নাস্তিক বলা হলে যে বলবে সেই নাস্তিক হয়ে যাবে। কিন্তু এখন যাকে তাকে নাস্তিক বলার লাইসেন্স ধর্ম ব্যবসায়ীরা তাদের অনুসারীদের হাতে তুলে দিয়েছে, যেন কোরান-হাদিস নয়, ওরাই নির্ধারণ করবে কে কী।

আব্দুল গাফফার চৌধুরী গত বছর ওমরাহ্‌ হজ্জ্ব করেছেন। তিনি বলেছেন, তিনি ধর্মের অবমাননা করে কিছু বলেন নি, তিনি তাঁর মুসলমান পরিচয়কে যথাযথভাবে ধারণ করেন। তবুও ধর্ম বেচে রাজনীতি করা সুবিধাবাদীরা তাকে নাস্তিক বানাতে উঠে-পড়ে লেগেছে। এরপর আর এদের উদ্দেশ্য নিয়ে কোনো সন্দেহ থাকে?