ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

স্বাধীনতা আন্দোলনে স্মরণীয় অবদান রাখা প্রখ্যাত সাংবাদিক মানিক মিয়ার বিপথগামী ছেলে মইনুল হোসেন এখন রাজাকারদের খুব প্রিয়পাত্র। ফেসবুকের নিউজ ফিডের সুত্রে দিন দুয়েক আগে তার একটা লেখা পড়লাম। (www.dailynayadiganta.com/detail/news/38861)।

তার মতে – মানবতাবিরোধী অপরাধী রাজাকারদের বিচারের ব্যাপারটি ভুলে যাওয়া উচিত, দেশ পরিচালনায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করার প্রয়োজন নেই, ধর্ম ব্যবসায়ীদের বিরোধিতাকারী মুক্তিযোদ্ধারা দেশের ভালো চান না। লেখাটি পড়ে তাকে নিচের কথাগুলি বলতে ইচ্ছে হলো।

“পৈতৃক সম্পত্তির দখল নিয়ে আপনি আপনার আপন ভাইয়ের সাথে মারামারিতে লিপ্ত হয়েছিলেন, গোলাগুলি করেছিলেন। সামরিক সরকারে যোগ দিয়ে আপনি অসদুপায়ে সরকারী বাড়ি হাতিয়ে নিয়েছেন, কাপাসিয়ায় হরিণ-ময়ূরওয়ালা বাগানবাড়ি নির্মাণ করেছিলেন, ছেলেকে টিভি চ্যানেলের পারমিশন দিয়েছিলেন। আপনি মইনুল হোসেন হয়তো মানুষ হওয়ার চেষ্টায় সফল হতে পারেন নি। যারা শিশুদেরকে পিটিয়ে খুন করে, মানুষের হাত-পায়ের রগ কাটে তারা মানুষ না হতে পারে। কিন্তু এর জন্য তো সবাই দায়ী নয়।

আপনার দুর্নীতি, জামাতপ্রীতি ও ইত্তেফাকের দখল নিয়ে মারামারির খবর দেশবাসীর জানা।

জেএমবি জঙ্গিরা যখন বোমা মেরে দেশজুড়ে হাজারো মানুষকে খুন করছিল, খাম্বা যখন হাওয়া ভবন খুলে মগের মুল্লুকীয় দুঃশাসন কায়েম করে ফালু-লালু-দুলু-বুলু-বাবর-পটলদেরকে সাথে নিয়ে দেশের সম্পদ লুটে-পুটে খেয়ে দেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্র বানিয়েছিল তখন আপনি কোথায় ছিলেন? তখন কেনো এরকম বুলি আওড়ান নি? খুনি রাজাকাররা তখন মন্ত্রী হয়েছিল বলে আপনি চুপ ছিলেন?

ভুলে যাবেন না যে, হেরেও ২০০১ সালে আওয়ামীলীগ একা ৪০.৮০% ভোট পেয়েছিল যদিও ধর্মের নাম বেচে আওয়ামীলীগের বিরুদ্ধে অনেক অপপ্রচার চালানো হয়েছিল। আর এখন রাজাকারদের বিচার করা, ব্যাপক বিদ্যুৎ উত্পাদন, অবকাঠামো উন্নয়ন, জাতীয় আয় বাড়ানো ইত্যাদির পর কেনো সরকার দাবি করবে না জনগণ তাদের সাথে আছে? আপনি কি ভেবেছেন আপনার সঙ্গীরা ধর্মকে পুঁজি করে এখনো রাজনীতির ব্যবসা করে যেতে পারবে?

দুর্নীতি সব দেশেই রয়েছে। এই মাত্র সেদিন দুর্নীতির দায়ে এক ব্রিটিশ এমপির জেল হয়েছে। মূল কথা হলো, দুর্নীতির বিচার করা। এ সরকার তা করছে। খালেদা-নিজামীর সরকার যা কখনো করে নি, বরং দুর্নীতি ও সন্ত্রাসকে তারা উস্কে দিয়েছিল।

আপনি বলছেন বিচারহীনতার কথা? বঙ্গবন্ধু ও শিশু রাসেলকে হত্যা করে ২১ বছর যাবত সেই হত্যার বিচার বন্ধ করে রাখা হয়েছিল, জিয়া সেই খুনিদের পুরস্কৃত করে বিদেশে পাঠিয়ে দিয়েছিল। ঐ ২১ বছরে একবারও তো আপনি এই বিচারহীনতার বিরুদ্ধে মুখ খুলেন নি, নিষ্পাপ শিশু রাসেল হত্যার বিচার চান নি। আজ কোন্ গোষ্ঠীর পক্ষ হয়ে আপনি মুখ খুলেছেন তা বোঝা কষ্টকর নয়।

আপনি কৌশলে ৭১’ এর খুনিদের বিচারের বিরোধিতা করছেন আবার আইনের শাসনের কথা বলছেন। জার্মানি গত সপ্তাহেই ৯৪ বছর বয়সী এক যুদ্ধাপরাধীকে কারাদণ্ড দিয়েছে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে করা তার অপকর্মের জন্য। আপনার মেয়ের ধর্ষক যদি আপনার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়ায় আপনি কি তবে তার শাস্তি দাবি করবেন না? তাহলে চিহ্নিত যুদ্বাপরাধীদের বিচার করা যাবে না কেনো?

বিপথগামী মুক্তিযোদ্ধাদের কথা বললে প্রথমেই জিয়ার নাম নেয়ার কথা। কিন্তু আপনি তা করেন নি। ৭১’ এ জিয়া সরাসরি কোনো যুদ্ধ করেছে এমন প্রমাণ আজও কেউ দিতে পারে নি। অথচ অন্য সেক্টর কমান্ডাররা কী না করেছে যুদ্ধে, যেমন মুশাররফ যুদ্ধ করে কপালে গুলি খেয়েছেন, তাহের পা হারিয়েছেন। জিয়া আবার এদের দু’জনকেই খুন করেছে, রাজাকারদের পুনর্বাসন করেছে। সেই সত্য লুকিয়ে আপনি মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কথা বলতে এসেছেন?

ভিয়েতনাম আমেরিকার সাথে ব্যবসায়িক সম্পর্ক তৈরী করলেও তাদের নিজেদের আদর্শ ত্যাগ করে নি, তারা এখনো সমাজতন্ত্রকেই আঁকড়ে ধরে আছে। তাহলে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ধরে রাখা বাংলাদেশের জন্য ভুল হবে কেনো? তাছাড়া বাংলাদেশও তো মুক্তিযুদ্ধকালীন শত্রু আমেরিকা ও চীনের সাথে ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়ে তুলেছে।

ইনুকে নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছেন। নিজের কথা কি ভেবেছেন? নির্বাচনে দাঁড়ালে আপনি কয়টা ভোট পাবেন? যে কয়টা পাবেন তা যে হাতের আঙ্গুলেই গোনা যাবে তা আপনি নিজেও জানেন। ইনু অন্ততঃ মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ধারক, কিন্তু আপনি তা নন। এদেশের শত্রুদের সাথে তাল মিলিয়ে চলে নিজের আসল চেহারাটাই আপনি প্রকাশ করেছেন।

আপনার লেখা লাইক করেছে রাজাকার শিরোমণি গো আজমের ছেলে। এতেই সব পরিষ্কার।”