ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

এটা নিশ্চিত যে, আওয়ামীবিরোধীরা সবদিক দিয়ে ব্যর্থ হয়ে আওয়ামীলীগের ক্ষতি করতে এখন নিজেদের অনেক লোককে আওয়ামীলীগে ঢুকিয়ে দিচ্ছে এবং আত্মকেন্দ্রিক কিছু আওয়ামীলীগ নেতা-কর্মীকে কালো টাকার বিনিময়ে নিজেদের উদ্দেশ্য পূরণে কাজে লাগাচ্ছে। তেমনি কিছু আওয়ামীলীগ নেতা যে দলীয় চেতনা ও রাষ্ট্রীয় স্বার্থের পরোয়া না করে ব্যক্তিস্বার্থ উদ্ধারে উঠে-পড়ে লেগেছেন তাও সত্যি।

এখনই যদি এদেরকে চিহ্নিত করে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হয় তাহলে সন্দেহ নেই যে, দু’দিন আগে বা পরে, আওয়ামীলীগকে এর কঠিন মূল্য দিতে হবে। প্রধানমন্ত্রী পাহাড় সমান বাঁধা অতিক্রম করে এগিয়ে চলেছেন, সফল হচ্ছেন। কিছু সুবিধাবাদীর ব্যক্তিগত ও পারিবারিক লাভের জন্য কেনো নেত্রী ও দলের এসব অর্জনকে খাটো হতে দেয়া হবে?

সাংবাদিক প্রবীর শিকদারের প্রতি জঘন্য অন্যায় করা হচ্ছে। মুক্তিযোদ্ধার সন্তান পঙ্গু এ সাংবাদিক এমন করুণ অবস্থায় পড়েছেন শুধু মাত্র দু’জন লোকের ব্যক্তিগত খেয়ালে। সময়ের দাবি হলো, প্রবীরকে যথাশীঘ্র সম্ভব মুক্তি দেয়া এবং দল ও সরকার যাতে কোনো নেতার ব্যক্তিগত বদনামের ভাগিদার না হয় সে ব্যবস্থা করা।

শেখ মনির ভাই ও দৈনিক বাংলার বাণীর প্রকাশক হিসেবে অতীতে শেখ সেলিমের যে ভুমিকা ছিল তা পুরোটাই ম্লান হয়ে গেছে তার গত কয়েক বছরের কর্মকাণ্ডে। আওয়ামীলীগ থেকে ছুঁড়ে ফেলা দেয়া পঁচা ফল ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে তিনি নিজের আত্মীয় বানিয়েছেন। এই পঁচা ফলগুলি বঙ্গবন্ধুর সাথে বেইমানি করেছিল।

তিনি আত্মীয়তা করেছেন কুখ্যাত রাজাকার, ৭১’ এ মানবতাবিরোধী অপরাধ করা মুসার সাথেও। নিজের দলের আদর্শ নয়, মুসার টাকাই তার কাছে বড় হয়ে দেখা দিয়েছিল। সেলিম তার আত্মীয় টুকুর ব্যক্তিগত স্বার্থে তাজউদ্দিনের ছেলে সোহেল তাজকে সরকার থেকে বিদায় নিতে বাধ্য করেছেন বলে খবর বেরিয়েছিল।

তারচেয়েও গুরুতর ব্যাপার হলো, বিপদে পড়েই সেলিম দলের নেত্রীর বিরুদ্ধে চলে গিয়েছিলেন। নিজেকে বাঁচাতে তিনি ১/১১ এর সরকারের ফরমায়েশ অনুযায়ী শেখ হাসিনার বিপক্ষে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছিলেন বলে তখন জানা গিয়েছিল। সেলিমের ব্যক্তিস্বার্থ রক্ষায় দলকে আর কত মূল্য দিতে হবে?

সাংবাদিক প্রবীর শিকদারকে আইনের যাঁতাকলে ফেলে যেভাবে পিষা হচ্ছে তা ক্ষমতার অপব্যবহার ছাড়া আর কিছু নয়। অভিযোগ উঠেছে, এখানেও শেখ সেলিম ও খন্দকার মোশাররফ হোসেন কলকাঠি নেড়েছেন। প্রবীরের পরিবারের ১৪ জন লোক মুক্তিযুদ্ধকালে দেশের জন্য আত্মদান করেছেন।

প্রবীর নিজে বঙ্গবন্ধুপ্রেমিক। ২০০১ এ ঐ রাজাকার মুসার রাজাকারি নিয়ে লেখায় প্রবীরের উপর যে সন্ত্রাসী হামলা হয়েছিল তাতে তিনি তার একটা পা হারান। শেখ হাসিনাই ঐ সময় আহত প্রবীরের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছিলেন। সেই প্রবীরকে নিজের ব্যক্তিগত প্রতিহিংসার লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছেন খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

রাজাকারদের মুখোশ উন্মোচনে লেখালেখি করা কি অপরাধ? যে শেখ হাসিনা নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাজাকারদের বিচারের ব্যবস্থা করেছেন, তাদের দন্ড কার্যকর করছেন সেই শেখ হাসিনার দলের লোক হয়ে রাজাকারবিরোধিতার জন্য কাউকে নির্যাতন করা মানে দলের বিপক্ষে অবস্থান নেয়া।

জীবননাশের হুমকি পেয়ে প্রবীর আইনের আশ্রয় নিতে গিয়েছিলেন। আইন তাকে সহযোগিতা না করায় তিনি ফেসবুকে একটা স্ট্যাটাসে বলেছিলেন, তার মৃত্যুর জন্য মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন, রাজাকার মুসা, পলাতক রাজাকার বাচ্চু এবং তাদের অনুসারীরা দায়ী থাকবেন। এর ভিত্তিতে প্রবীরের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করা হয়েছে। প্রবীরকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডেও নেয়া হয়ে গেছে।

তার অপরাধটা কীভাবে নির্ণয় করা হলো? কেউ যদি মৃত্যুর হুমকি পেয়ে কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ আনে তবে কি অভিযোগকারীই দোষী হয়ে যায়? হুমকি পাওয়ার ব্যাপারটি সত্যি কি না তা যাচাই না করেই মানহানির কথা বলে অভিযোগকারীর বিরুদ্ধেই আইনি পদক্ষেপ নেয়া কোন্ অর্থে যুক্তিযুক্ত? এখন যদি প্রমাণ হয় যে, তাকে সত্যিই হুমকি দেয়া হয়েছিল তাহলে কি মামলার বাদীকে শাস্তি দেয়া হবে?

কিছু লোকের ব্যক্তিগত স্বার্থের মূল্য দিতে গিয়ে দল, দেশ ও মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে এভাবে হেয় করা শুধু দল নয়, দেশের জন্যও ক্ষতিকর।