ক্যাটেগরিঃ স্বাধিকার চেতনা

তৎকালীন সেনাপ্রধান শফিউল্লাহ বলেছেন, মোশতাক ৭৫’ এর আগস্টের ৩ মাস আগে থেকেই পরিকল্পনা করছিল বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে সামরিক শাসন জারির মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করার যা মোশতাক নিজে তাকে জানিয়েছে ঘটনার পর। আগে থেকে যে ওরা ষড়যন্ত্র করছিল তা এমনিতেই পরিষ্কার। কথা হলো, সেনাপ্রধান হিসেবে শফিউল্লাহ কেনো সেটা আগে জানতে পারলেন না?

মূল ষড়যন্ত্রকারী জিয়ার উৎসাহে হাতেগোণা কিছু নরাধম সেনা কর্মকর্তা এ পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিল। আবার এদের অনেকেই সেনাবাহিনী থেকে বহিষ্কৃত ছিল। ১ লাখ সদস্যের সেনাবাহিনী ও এর শত কর্মকর্তাকে ব্যবহার করেও শফিউল্লাহ এ কুচক্রীদের সেই অপতৎপরতা সম্পর্কে কোনো ইঙ্গিতই পেলেন না?

তিনি বলেছেন, ঐ সময়ে সেনা গোয়েন্দা বিভাগ রাষ্ট্রপতির কার্য্যালয়ের অধীনে ছিল। তাই বলে এটা বিশ্বাস করার কোনো উপায় নেই যে, সেনা গোয়েন্দাদের প্রতিবেদনগুলি সম্পর্কে সেনাপ্রধান হিসেবে তিনি অবহিত হতেন না কিংবা সেনাবাহিনীর স্বাভাবিক কোর্স অফ অপারেশন থেকেও তিনি এ ষড়যন্ত্রের কোনো ধারণা পান নি।

ক্যান্টনমেন্ট হতে ঐ খুনিদের মুভ করা ও বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার মধ্যবর্তী সময়ে অনায়াসে প্রয়োজনীয় সংখ্যক সৈন্য পাঠিয়ে বঙ্গবন্ধুকে বাঁচানো যেতো। সেনাপ্রধান হিসেবে তা করার দায়িত্ব কার ছিল? শফিউল্লার। তিনি তা করেন নি। তিনি বরং ফোনে বঙ্গবন্ধুকে বলেছেন, “I am doing something.”

কী সেই ‘something’ যা তিনি করেছেন তার নিয়োগকর্তা, রাষ্ট্রপতি, স্বাধীনতার মহানায়ক ও স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধুকে বাঁচাতে? যে বঙ্গবন্ধু দেশের স্বার্থে হাসিমুখে বারবার পাকি জানোয়ারদের ফাঁসিকাষ্ঠে গিয়ে উঠেছেন সেই বঙ্গবন্ধুকে তিনি পরামর্শ দিয়েছিলেন বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসতে।

তিনি এখন বলছেন, কিছু কর্মকর্তা ১৫ই আগস্টের ঐ মূহুর্তে তার কথা শুনে নি আর জিয়া তখন তাকে আগাগোড়া বাঁধা দিয়েছে, খুনিদের সাহায্য করেছে। এটা সত্য কিন্তু সেনাবাহিনীতে কি কর্মকর্তা বলতে শুধু এরাই ছিল? তিনি কেনো বীরোত্তম হায়দার, খলিলদের মতো হাজারো মুক্তিযোদ্ধা, বঙ্গবন্ধুপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তা ও সেনাদের ডাকেন নি?

বলা বাহুল্য, একজন সেনাপ্রধানের যতটা সাহসী হওয়া দরকার তিনি ততটা হতে পারেন নি বলেই তিনি তা করতে পারেন নি। এ ধরনের ভীতু এক ব্যক্তি বা জিয়ার মতো ধুরন্ধর, ষড়যন্ত্রকারী ও দালাল প্রকৃতির এক লোক কী করে সেনাবাহিনীতে ঢুকেছিল তার জবাব কে দেবে?

বঙ্গবন্ধুকে বাঁচাতে না পারার ব্যর্থতা নিয়ে মরতে হবে বলে শফিউল্লাহ এখন অনেক আফসোস করছেন। তাকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি রুশ লেখক নিকোলাই ওস্ত্রভস্কির সেই অমর উক্তিটি যা আমার খুব প্রিয়।

“বেঁচে থাকার জন্য তোমাকে একটিমাত্র জীবন দেয়া হয়েছে। এ জীবনকে এমনভাবে যাপন করো যেন মৃত্যুর সময় তোমাকে জ্বালাময় অনুতাপে দগ্ধ হতে না হয়, তুমি বলতে পারো – আমার জীবনকে আমি উৎসর্গ করেছি পৃথিবীর সর্বোত্তম আদর্শ প্রতিষ্ঠায়, মানবতার মুক্তিসংগ্রামে।”