ক্যাটেগরিঃ আন্তর্জাতিক

 

জার্মানী যে মানবিকতা ধারণের দিক দিয়ে এখন ইউরোপের অন্য যে কোনো দেশের তুলনায় অনেক বেশি অগ্রসর তা আবারো প্রমাণিত হলো।

পুঁজিবাদী আমেরিকার ভৃত্য ইংল্যান্ড যেখানে সিরীয় শরণার্থীদের গ্রহণ করতে দ্বিধায় ভুগছে জার্মানী সেখানে একদিনেই ৮,০০০ শরণার্থীকে নিজ দেশে জায়গা দিয়েছে। প্রতিদিন সেখানে স্রোতের মতো শরণার্থীরা ঢুকছে।

জার্মান চ্যান্সেলর মিস মার্কেল আগেই বলেছেন, “আমরা আশ্রয়প্রার্থীদের ফিরিয়ে দেবো না।” বড় ব্যাপার হলো, অভিবাসী শরণার্থীদের সাহায্য করতে জার্মান জনগণের স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে আসা। জার্মানীর শহরগুলির মেয়ররা তাদের জনগণকে অনুরোধ করেছিলেন আশ্রয়প্রার্থীদের সাহায্য করতে।

সেই ডাকে সাড়া দিয়ে সাধারণ জার্মানরা বিভিন্ন শহরে শরণার্থীদের জন্য খাবার ও কাপড় নিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে এসেছে, রেল স্টেশনে দাঁড়িয়ে হাততালি দিয়ে নিজেদের দেশে শরণার্থীদের স্বাগত জানিয়েছে। জানা গেছে, এক শহরেই সাহায্য হিসেবে যে পরিমাণ খাদ্যদ্রব্য জমা হয়েছে তা দিয়ে শরণার্থীদের ১ মাস চলবে।

এ ভয়াবহ সমস্যা সৃষ্টি করেছে আমেরিকা। তারা যদি সিরিয়ায় সঙ্কট তৈরী না করতো তবে আজ সিরীয়দের এভাবে স্বদেশ ছেড়ে যেতে হতো না। অকেজো জাতিসংঘের কথা যতো কম বলা যায় ততই ভালো। ওরা বলেছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নকে ২ লাখ শরণার্থীর জায়গা দিতে হবে।

যে অমানবিক ও অপ্রয়োজনীয় যুদ্ধের ফলে এ অবস্থা তৈরী হয়েছে, এ মানুষগুলি দেশহারা হয়েছে তা বন্ধের কোনো চেষ্টাই করে নি জাতিসংঘ। কিন্তু তাদেরকে শরণার্থী বানিয়ে এখন বড় বড় কথা বলছে এ ব্যর্থ সংগঠনটি।

সিরীয়াতে কি মাত্র ২ লাখ মানুষ রয়েছে? ইরাকী ও ফিলিস্তিনী শরণার্থীদের কথা না হয় বাদই দিলাম। এ স্বচ্ছল মানুষদেরকে গৃহহীন করে, আয়লানের মতো লাখো নিষ্পাপ শিশুকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়ে জাতিসংঘ শুধু আমেরিকা ও এর দোসরদের চামচামি করছে। একই সাথে শরণার্থীদের জন্য মায়াকান্নাও করছে।

এ ভন্ডামির অবসান হোক।