ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

মানবজন্মের প্রথম দাবি হলো মানুষ হিসেবে বেড়ে উঠা। সবাই মানুষ হয় না তবে অধিকাংশের মধ্যে অন্তত: বোধশক্তিটা থাকে। যাদের এ নূন্যতম বোধটুকুও থাকে না তারা হচ্ছে মানবাকারে জন্ম নেয়া নৃশংস প্রাণী।

আলোচিত মিনা দুর্ঘটনার পাশাপাশি মিনার আরেকটি সংবাদ আমার দৃষ্টি কেড়েছে। গত ২৪শে সেপ্টেম্বরের ঐ খবরে যে ঘটনার উল্লেখ করা হয়েছে তা যে কোনো বিচারে অভাবনীয়। এমন কিছু করার কথা ভাবা শুধু তাদের পক্ষেই সম্ভব যারা ধর্মীয় গোঁড়ামিতে বিশ্বাসি। ঘটনাটা বলি।

মিনার দুর্ঘটনা ঘটাকালীন সময়েই এক বাংলাদেশী হজ্জ্বযাত্রী মিনার হাজি ক্যাম্পে আত্মহত্যা করেছেন। হাজি ক্যাম্পের বাথরুম থেকে তার ফাঁস লাগানো মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি নাকি আগের রাতে স্বপ্ন দেখেছিলেন যে, এখানে মারা গেলে তিনি সরাসরি বেহেশতে চলে যাবেন। তাই বেহেশতে যাওয়া নিশ্চিত করতে তিনি নিজেই নিজেকে খুন করেন। (সুত্রঃ চ্যানেল আই অনলাইন)।

নিহত ব্যক্তির এক বন্ধু জানান, তাকে ঐ স্বপ্নের কথা বলা হয়েছিল তবে ঐ ব্যক্তির কোনো মানসিক সমস্যা ছিল না। আমি এখানে ধর্মতত্ত্ব নিয়ে কোনো কথা বলবো না। আত্মহত্যা করা যে মহাপাপ তা সবারই জানা, ধর্মসমূহও এটা করতে নিষেধ করেছে। আর এ লোক আত্মহত্যা করেছেন বেহেশতে যাওয়ার আশায়, তাও হজ্জ্বে গিয়ে, পবিত্র ভূমিতে দাঁড়িয়ে।

ধর্মান্ধরা যে শেষ বিচারে ধর্মেরই ক্ষতি করে এ ঘটনায় আবারো তা প্রমাণ হলো। ঠিকভাবে হজ্জ্ব সম্পন্ন করতে যথেষ্ট ধর্মীয় জ্ঞানের প্রয়োজন হয়। এ আত্মহত্যাকারী যেখানে আত্মহত্যা পরিত্যাগের মতো সাধারণ বিষয়টিই ভালোভাবে রপ্ত করতে পারেন নি সেখানে তিনি কিভাবে হজ্জ্ব করতে যান? এরা যে ধর্মের প্রকৃত শিক্ষা থেকে অনেক দূরে রয়েছে তা একদম পরিষ্কার।

মাসকয়েক আগে ভারতের দুই শতাধিক হিন্দু লোক তাদের ভন্ড গুরুর নির্দেশে নিজেরাই নিজেদের দেহের একটি অঙ্গ কেটে ফেলে। এরা কি পশুদের চেয়ে বেশি বোধসম্পন্ন? মোটেই না। পশুরা কখনোই নিজেদের উপর এমন পৈশাচিক অপ্রয়োজনীয় তান্ডব চালায় না। যারা এক প্রতারকের কথায় নিজেদের অঙ্গহানি করে ফেলে তারা পৃথিবীর যে কোনো ক্ষতি করতে পারে।

পৃথিবীকে মানুষের বসবাসের উপযুক্ত করে রাখার জন্য এসব ধর্মান্ধ, পথভ্রষ্ট ও ধর্ম ব্যবসায়ী দু’পেয়ে প্রাণীদের প্রতিরোধ করা একান্ত জরুরী।