ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

গুলশানের হলি আর্টিজান ক্যাফেতে যে বর্বরেরা পাশবিক খুনোখুনি চালিয়ে গর্ভবতী নারীসহ অনেক নির্দোষ মানুষকে হত্যা করেছে তারা মাদ্রাসার ছাত্র ছিলো না – এমন ভাবনায় মজে গিয়ে অনেকে বলছেন, মাদ্রাসা জঙ্গিবাদীদের আখড়া বলে প্রচলিত ধারণাটি ভুল।

প্রথমে এর তথ্যগত বিভ্রান্তির দিকটি উল্লেখ করছি। ঐ আক্রমণকারীদের একজন মাদ্রাসার ছাত্র ছিলো এবং মিডিয়ায় প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, সেই এ কাপুরুষোচিত আক্রমণে নেতৃত্ব দিয়েছে। অন্য ৪ জন আধুনিক শিক্ষা প্রতিষ্টানে পড়ালেখা করেছে।

তবে মাদ্রাসা বা আধুনিক শিক্ষা প্রতিষ্টান নয়, জঙ্গিবাদের জন্য দায়ী সংশ্লিষ্ট জঙ্গির বিকৃত মানসিক গঠন। ভয় দেখিয়ে অন্যকে নিজের বিশ্বাসে বিশ্বাসী করে তোলা বা বিপরীত বিশ্বাসে বিশ্বাসী হলেই কাউকে খুন করে ফেলা কতটা খারাপ কাজ তা কার না জানা?

মানবশিশু হিসেবে বেড়ে উঠতে গিয়ে সবার মধ্যেই ভালো-মন্দের বোধ জন্মায়। সেই বোধকে অবহেলা করে কুকর্মে জড়িয়ে পড়লে তার দায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকেই নিতে হয়, শিক্ষা প্রতিষ্টানকে নয়। খারাপ কাজে উদ্বুদ্ধকরণের দায়ে কোনো প্রতিষ্টানকে দায়ী করা যেতে পারে কিন্তু নির্দোষ মানুষকে খুন করার জন্য অনুপ্রাণিত হওয়ার শাস্তি শুধু ঐ খুনিরই প্রাপ্য।

ধর্মের নাম ব্যবহার করলেই যে এসব জঘন্য পাপ সিদ্ধ হয়ে যায় না তা নিশ্চিতভাবে জঙ্গিরাও জানে। অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে উদ্দেশ্য পূরণ করা কি ইসলাম অনুমোদিত কোনো কৌশল? নিরীহ মানুষকে ঠান্ডা মাথায় খুন করা কি ইসলামের চাওয়া?

ইসলাম সবকিছুর উপরে নামাযকে প্রাধান্য দিয়েছে। সেই নামায আদায় না করে নামায চলাকালীন সময়ে সংযমের মাস রমজানে এমন নৃশংস হত্যাকান্ডে মেতে উঠা কি কোনো প্রকৃত মুসলমানের পক্ষে সম্ভব? কখনোই না।

আইএস এর হাতে আটক হওয়া এক ফরাসি সাংবাদিক ৬ মাস পর মুক্তি পেয়ে এক টিভি সাক্ষাতকারে জানান যে, তার বন্দিজীবনের দীর্ঘ ৬ মাসে তিনি কখনো কোনো আইএস সদস্যকে নামায আদায় করতে বা কোরান পড়তে দেখেন নি।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ইংল্যান্ড থেকে যেসব ছেলে-মেয়ে আইএসে যোগ দিয়েছে তাদের কারোর জীবনেই ইসলাম চর্চার উদাহরণ নেই, বরং তাদের অধিকাংশ জনই আগে মাদকাসক্ত ছিলো।

আইএস এর নেপথ্যে থাকা পশুরা এসব ধর্মহীনদের ব্যবহার করে নিজেদের অসৎ উদ্দেশ্য পূরণ করে নিচ্ছে, ইসলামের নেমট্যাগ গায়ে লাগিয়ে। আইএস এর উদ্দেশ্যটা কী?

সাম্রাজ্যবাদী দানব আমেরিকার অস্ত্র ও অর্থে জন্ম নেয়া আইএস প্রথমত: তাদের আমেরিকান প্রভুর স্বার্থ রক্ষা করছে। দ্বিতীয়ত: আইএস তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকার তেলকুপগুলি থেকে প্রতিদিন ৩০ লাখ ডলার কামাই করছে।

এরই মধ্যে জঙ্গিরা মসজিদে নববীতে বোমা হামলা করে ৪ জন নিরাপত্তা কর্মীকে খুন করেছে। তবে সবচেয়ে মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে সৌদিআরবে। সেখানে আইএস অনুসারী আপন দুই ভাই নিজেদের মাকে খুন করেছে, আইএসে যোগ দিতে বাধা পাওয়ায়।

এ কথা তাই ভুল নয় যে, জঙ্গি সংগঠনগুলির সাথে ইসলামের কোনো সম্পর্ক নেই। এ সংগঠনগুলিতে যুক্ত খুনিরা কখনো মুসলিম হতে পারে না, যারা এদের সমর্থক স্পষ্টত: তারাও মুসলিম নয়। গুলসান হত্যাকান্ডে জড়িতরাই এর প্রমাণ।

এ মেরুদণ্ডহীন খুনিরা নিজেরা কালোটাকা উড়িয়ে ব্যয়বহুল রেস্টুরেন্টগুলিতে প্রেমিকাদের সাথে ধর্মীয় অনুশাসনবিরোধী পন্থায় সময় কাটিয়েছে, নিজেদের ‘হাই-হ্যালো’ জীবনের চিহ্ন ফেসবুকে প্রকাশ করেছে। আবার এরাই ইসলামবিরোধী জীবনযাপনের ধোঁয়া তুলে ২০ জন মানুষকে চরম নিষ্ঠুরতায় খুন করেছে।

এমন বর্বরতার আশ্রয় নেয়া এ দ্বিপদী জীবগুলি অভিশপ্ত পশু ছাড়া আর কিছু নয়।