ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

বর্তমান রাষ্ট্রসমূহের মধ্যে এ পর্যন্ত মাত্র ৫টি দেশ ইসলামী প্রজাতন্ত্র হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। সেদেশগুলি হলো পাকিস্তান, মৌরিতানিয়া, ইরান, আফগানিস্তান ও গাম্বিয়া।
ইসলামী রাষ্ট্র হিসেবে এখন টিকে আছে ৪টি দেশ। আফগানিস্তান নিজেদের ইসলামী পরিচয় ছেড়ে দিয়ে আবার গণপ্রজাতন্ত্রী রূপে ফিরে এসেছে। আর গাম্বিয়া গত ডিসম্বরে ইসলামী প্রজাতন্ত্র হয়েছে তাদের প্রেসিডেন্টের এক ঘোষণায়।

পৃথিবীতে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ আছে ৪০টিরও বেশি। অথচ মাত্র ৪টি দেশ ইসলামী প্রজাতন্ত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। রাষ্ট্রকে ধর্মের রঙে রাঙানো যদি এতই অপরিহার্য হয়ে থাকে তবে কেনো সব মুসলিম প্রধান দেশ তা করে নি?

ইসলামী প্রজাতন্ত্র হওয়া ঐ ৫টি দেশের দিকে নজর দেয়া যাক। নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, জরিপ করলে দুনিয়ার সবচেয়ে খারাপ দেশ হিসেবে আমেরিকার পর পাকিস্তানের নাম আসবে। তাই পাকিদের নিয়ে বেশি কিছু বলছি না।

শিয়া মতাবলম্বী বলে সুন্নিরা ইরানীদেরকে মুসলিম বলেই স্বীকার করে না। আর আফগানিস্তানের তালেবানী অপশাসন নিয়ে কথা বলা বাহুল্য। মৌরিতানিয়া যে একটি দেশের নাম তা দুনিয়ার কতজন মানুষ জানে? এদিকে ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়ার স্বৈরশাসক সেখানে ধর্মকে ব্যবহার করেছে।

মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলির একটিও ইসলামী প্রজাতন্ত্র নয়। এগুলিতে চলছে রাজতান্ত্রিক দু:শাসন। সৌদি আরবও সাংবিধানিকভাবে ইসলামী প্রজাতন্ত্র নয়, ওহাবী মতবাদে চালিত রাজতন্ত্রী দেশ।

যে সনদের ভিত্তিতে মদীনা রাষ্ট্র গঠিত হয়েছিলো তাতে বলা ছিলো – রাষ্ট্র সব ধর্মের ব্যাপারে নিরপেক্ষতার নীতি অবলম্বন করবে। ঐ সনদের একটি ধারায় উল্লেখ করা হয়েছিলো, মুসলমান-অমুসলমান সবাই স্বাধীনভাবে নিজ নিজ ধর্মপালন করবে।

রাষ্ট্র সবার, ধর্ম যার যার। এ বিশ্বাসকে আঘাত করে এক সাবেক স্বৈরশাসক, যার চরিত্রে ধর্মের লেশমাত্রও নেই, ক্ষমতায় টিকে থাকতে দেশে রাষ্ট্রধর্মের আমদানি করেছে যা ধর্মকেই অপমানিত করেছে। ধর্ম কি ফল বা পাখির মতো কিছু যে জাতীয় ফল বা পাখির মতো জাতীয় ধর্ম বলেও কিছু থাকতে হবে?

ধর্মানুসারীরা যদি ধর্ম পালন না করে তবে রাষ্ট্রের সংবিধানে রাষ্ট্রধর্মের কথা লিখে রেখে ধর্ম বা ধর্মানুগামীদের কী উপকার করা যাবে? অন্যদিকে সংবিধানে যদি রাষ্ট্রধর্মের উল্লেখ না থাকে তাহলে কি ধর্মপালনে ধর্মানুসারীদের কোনো সমস্যা হবে? হয়েছে কখনো?

আল্লাহ্‌ বলেছেন, “তোমরা নামায সমাপন করার পর পৃথিবীর আনাচে কানাচে (কর্মক্ষেত্রে) ছড়িয়ে পড় এবং (কর্ম-শ্রমের মধ্য দিয়ে) আল্লাহ্‌র অনুগ্রহ তালাশ করতে থাক।” অর্থাৎ শুক্রবার জুমার নামাযের জন্য পেশাগত কাজকর্ম থেকে দূরে থাকতে হবে এমন কিছু স্বয়ং আল্লাহ্‌ও চান নি।

কিন্তু ঐ সামরিক স্বৈরাচার আগের সাপ্তাহিক ছুটির দিনকে পরিবর্তন করে শুক্রবারকে সাপ্তাহিক ছুটির দিন ঘোষণা করেছে। কেনো? অবশ্যই ধর্মীয় কারণে নয়, নিজের রাজনৈতিক স্বার্থের প্রয়োজনে। যুগে যুগে পাপীরা এভাবে ধর্মকে ব্যবহার করেছে।

অন্য এক প্রেক্ষাপটেও রাষ্ট্রধর্মের ব্যাপারটিকে অর্থহীন মনে হয়। পুরো পৃথিবীই যেখানে ধর্ম বিশেষত ইসলাম এর আওতাভুক্ত সেখানে অবশিষ্ট পৃথিবীকে বাদ দিয়ে কোনো এক নির্দিষ্ট দেশের সংবিধানকে ধর্মের লেবাস পরিয়ে ধার্মিক করে তোলা ধর্মের চাওয়ার সমান্তরালে যায় কি?

তাছাড়া ধর্মের নামে গঠিত রাষ্ট্র শেষপর্যন্ত আর রাষ্ট্র থাকে না, শোষণের হাতিয়ার হয়ে যায়, এর রাষ্ট্রধর্ম যাই হোক না কেনো। উদাহরণ হিসেবে ইসরাইলের কথা বলা যায়। তেমনি ভারতে যখন রামরাজ্যপন্থীরা শক্তিশালী হচ্ছে তখন সেখানে নানাবিধ নির্যাতনমূলক কার্যকলাপ বৃদ্ধি পেয়েছে।

তাই বলা যায়, রাষ্ট্রকে ধর্মীয় রূপ দেয়ার চেষ্টা করা মুখোশের আড়ালে নিজেদের অপরাধ ঢেকে রাখার অপকৌশল মাত্র।