ক্যাটেগরিঃ আন্তর্জাতিক, ফিচার পোস্ট আর্কাইভ

hillary-usa

নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। যেহেতু পরাশক্তি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান এখনো অক্ষুণ্ন সেহেতু এর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনও পৃথিবীজুড়ে আগ্রহের বিষয় হিসেবে বিদ্যমান। তবে এ উপলব্ধিও স্পষ্ট যে, যতটা আলোচিত হয় পরবর্তীকালে এ নির্বাচনের ফলাফল ততটা প্রভাব ফেলতে পারে না।

কেননা যে ব্যক্তিই প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হোন না কেনো, যুক্তরাষ্ট্রের বিদেশনীতিতে কোনো পরিবর্তন আসে না, যুক্তরাষ্ট্র একইভাবে অন্য দেশগুলিকে স্বার্থ আদায়ের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে যায়। তারপরও তাদের সম্ভাব্য প্রেসিডেন্টের ব্যাপারে অনেকের কৌতুহল থাকে।

সেই প্রেক্ষাপটে এবারের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দুই প্রধান প্রার্থীর আমলনামা একটু খতিয়ে দেখা যায়। নির্বাচনে প্রার্থী শুধু এ দু’জন নয়, কয়েকশত জন। বাকীরা আঞ্চলিক প্রার্থী, জটিল নির্বাচনী প্রক্রিয়া শেষে পরাজয়ই হবে যাদের অনিবার্য নিয়তি।

রাজনৈতিক নির্বাচনে মানুষের দৃষ্টি কাড়তে প্রার্থীরা অপ্রধান বিষয়কে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু বানান, যেমন হিলারির পক্ষ থেকে হিলারির নারীত্বকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। বস্তুত এর কোনো মূল্য নেই যেমন ওবামার কৃষ্ণাঙ্গ হওয়ারও ছিলো না। হিলারি নারী হওয়ায় নারীদের ভাগ্যে কোনো পরিবর্তন আসবে না।

নারীর ক্ষমতায়ন মানে কোনো এক নারীর সর্বোচ্চ ক্ষমতায় আসীন হওয়া না হওয়া নয়, বরং ব্যাপকসংখ্যক নারীর ক্ষমতার প্রতিনিধিত্ব লাভ করা। হিলারির প্রেসিডেন্ট হওয়া তার ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও গোষ্ঠীগত স্বার্থের সহায়ক হবে মাত্র। অন্যদিকে সংখ্যাগরিষ্ঠ নারীরা আগের মতোই শোষিত ও নির্যাতিত হয়ে যাবে।

এবার ব্যক্তি হিলারির নৈতিকতার মানের দিকে নজর দেই। অন্তত ৩টি কারণে হিলারিকে সৎ, মানবিক ও বিশ্বস্ত বলে গণ্য করা যায় না। ইনি সেই হিলারি যিনি ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরির ধর্ষকের পক্ষে অাইনজীবী হিসেবে কাজ করেছেন, ধর্ষককে জামিন পাইয়ে দিয়েছেন।

হিলারি পেশাগত দায়িত্ব পালন করেছেন বলে অজুহাত দেয়ার উপায় নেই। অাইনজীবী পেশায় ব্যক্তিগত ইচ্ছের উপর কোনো বাধ্যবাধকতা থাকে না। গুটিবাজ অাইনজীবীরাও চিহ্নিত খুনি-ধর্ষকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। তাই একজন শিশু ধর্ষকের পক্ষে কাজ করার কোনো যুক্তি থাকতে পারে না। হিলারি যে অর্থের জন্য মানবিকতা ত্যাগ করেছিলেন তা স্পষ্ট।

অামেরিকা যখন অন্যায়ভাবে ইরাক অাক্রমণ করেছিলো হিলারি তখন নির্দ্বিধায় সেই অাক্রমণকে সমর্থন করেছেন। মিথ্যে অভিযোগে ইরাক ধ্বংস করা এবং লাখো লাখো নিরীহ ইরাকী শিশু-নারী-বৃদ্ধকে খুন করার নারকীয় উৎসবের বিপক্ষে পৃথিবীর শান্তিকামী মানুষেরা যখন দেশে দেশে প্রতিবাদের ঝড় তুলেছিলো হিলারি তখন বুশকে উস্কানি দিয়েছেন ইরাকী শিশুদের কবর রচনা করতে।

হিলারি যে দলীয় অবস্থান থেকে ইরাক অাক্রমণকে সমর্থন করেছেন এমনও নয়। তখন হিলারি ছিলেন বিরোধীদলীয় সিনেটর। তিনি ব্যক্তিগতভাবে ইরাক যুদ্ধের পক্ষাবলম্বন করেছেন। অথচ অামাদের স্বাধীনতাযুদ্ধে মার্কিন সরকার অমাদের বিপক্ষে থাকার পরও বিরোধীদলীয় সিনেটর রবার্ট কেনেডি বাংলাদেশের পক্ষে জোরালো ভূমিকা পালন করেছেন।

হিলারির স্বামী ক্লিনটন ক্ষমতায় থাকাকালে এক নারী কর্মচারীর সাথে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। দৃঢ়চেতা, অাত্মসম্মানবোধসম্পন্ন যে কোনো নারীই এরূপ বিশ্বাসভঙ্গকারী পুরুষকে পরিত্যাগ করবে। কিন্তু নিজেকে নারীদের অধিকারের ‘পাহারাদার’ বলে দাবী করা হিলারি নিঃসংকোচে ক্লিনটনের স্ত্রী হিসেবে সংসার করে যাচ্ছেন।

ক্লিনটনের স্ত্রী পরিচয়ে তিনি যে সুবিধা লাভ করেছেন তা ছেড়ে এসে কর্তব্য পালনে ব্রতি হওয়ার মতো নির্লোভ তিনি হতে পারেন নি। তিনি সাধারণ এক লোভী নারী বলে ব্যক্তিগত অার্থিক লাভের ভিত্তিতে তিনি ইউনুস সহ অারো অনেককে নিয়মবহির্ভূত বিভিন্ন সুবিধা পাইয়ে দিয়েছেন ক্ষমতার অপব্যবহার করে।

তবে কি অপর প্রার্থী ট্রাম্পের নির্বাচিত হওয়াটা ভালো হবে? প্রশ্নই উঠে না। ট্রাম্পের মতো বিকৃত মানসিকতার এক উগ্র সাম্প্রদায়িক বর্ণবাদী ব্যক্তি কোনো দেশের প্রেসিডেন্ট হবে এটা কল্পনার বিষয় হিসেবে খুবই পীড়াদায়ক। তার অসংখ্য কটূক্তি ও মন্তব্যের মধ্যে একটিমাত্র উল্লেখ করলেই বুঝা যাবে প্রেসিডেন্ট হওয়ার জন্য তিনি কতটা অযোগ্য।

তিনি তার এক উপদেষ্টাকে একবার জিজ্ঞাসা করেছেন, “অামরা কেনো অামাদের পারমানবিক বোমাগুলি ব্যবহার করছি না? পারমানবিক বোমা থাকার পরও যদি আমরা তা ব্যবহার করি না তবে এগুলি রেখে লাভ কী?” পারমানবিক বোমা কী বস্তু সেটাও মনে হয় তার বোধগম্য নয়।

স্নায়ুযুদ্ধকালীন সময়ে বলা হতো, “রুশ-মার্কিন সম্পর্ক যতই খারাপের দিকে যাক না কেনো, ওয়াশিংটন বা মস্কোতে যতদিন পর্যন্ত না কোনো পাগল ক্ষমতায় আসবে ততদিন পর্যন্ত পারমানবিক বোমার ব্যবহার হবে না।” ট্রাম্প নির্বাচিত হলে সেই সময়টা অতি নিকটে চলে আসার সম্ভাবনা প্রবল।

যে দুই প্রার্থীর একজন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হবেন তাদের কাউকেই তাই যোগ্য বলা যায় না। এদের কারোর নির্বাচিত হওয়ায় পৃথিবীতে দূরের কথা, আমেরিকায়ও কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা দেবে না। তবে শুধুমাত্র ট্রাম্পকে ঠেকাতে অনেকে হিলারিকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দেখতে চাইবেন।

ব্যাপারটা মন্দের ভালোকে নির্বাচিত করা নয়, দুই মহামন্দের মধ্যে তুলনামূলকভাবে কম ক্ষতিকরটাকে বেছে নেয়া।