ক্যাটেগরিঃ আন্তর্জাতিক

সমস্যাটি যারা তৈরি করে রেখে গিয়েছিলো সেই ব্রিটিশদের দায়ভারের কথা প্রথমেই উল্লেখ করতে হয়। আরো অনেক কিছুর ন্যায় কাশ্মীরের ঝামেলাও তাদের সৃষ্ট। এ বেনিয়ারা ঠাণ্ডা মাথায পরিকল্পিতভাবে কাশ্মীরিদের এ বিপদে ফেলে গেছে। স্পষ্টত তা ছিলো উপমহাদেশের স্থিতিশীলতাকে ভঙ্গুর করে রাখার ষড়যন্ত্র।

ব্রিটিশদের হাত থেকে মুক্ত হয়ে উপমহাদেশের প্রায় সবগুলি অঞ্চল নতুন সৃষ্ট দুই দেশ ভারত ও পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত হয়, ব্রিটিশরাই ভাগাভাগির এ কাজ করে। কিন্তু পার্শ্ববর্তী জম্মু-কাশ্মীর নামের লোভনীয় রাজ্যকে যেমন ভারত বা পাকিস্তানের সাথে যুক্ত করেনি তেমনি একে স্বাধীন কোনো দেশ বলেও ঘোষণা করে যায়নি।

স্বাভাবিকভাবেই এতে রাজ্যটি দখলদারের হাতে পড়ার জন্য উন্মুক্ত হয়ে পড়েছিলো। মজার ব্যাপার হলো, কাশ্মীর দখল করে রাখার জন্য বর্তমানে ভারতকে দায়ী করা হলেও মূলত পাকিস্তানই এ সমস্যার শুরু করেছিলো, ব্রিটিশদের দেখানো পথে হেটে কাশ্মীর দখল করতে গিয়ে।

সেই ১৯৪৭ সালেই পাকিস্তানি সৈন্যরা কাশ্মীরে প্রবেশ করে কাশ্মীর দখল করতে। তখন কাশ্মীরের রাজা আত্মরক্ষার্থে ভারতের সাহায্য চান। ভারত সাহায্যের শর্ত হিসেবে জম্মু-কাশ্মীরকে ভারতের সাথে যুক্ত করার প্রস্তাব দেয়। কাশ্মীরের রাজা তাতে রাজি হন। এরপর ভারতীয় সৈন্যরা কাশ্মীরে ঢুকে সেখান থেকে পাকিস্তানিদের তাড়াতে।

প্রায় বছরখানেক সময় যুদ্ধ করে ভারত জম্মু-কাশ্মীরের তিন ভাগের দুভাগ নিজেদের দখলে নিয়ে নেয় আর পাকিস্তানের ভাগ্যে জুটে তিন ভাগের এক ভাগ। পাকিস্তান সেই এক ভাগের নাম দেয় আজাদ কাশ্মীর বা স্বাধীন কাশ্মীর অথচ বাস্তবে তা পাকিস্তানেরই অংশ হয়ে আছে।

পক্ষান্তরে চুক্তি অনুযায়ী ভারত তার দখল করা ভাগকে পৃথক রাজ্যের মর্যাদা দিয়ে নিজেদের দেশের অংশ করে নেয়। সেই থেকে কাশ্মীরে চলছে অশান্তি। তাতে কাশ্মীরের জনগণের স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা কিংবা ভারতীয় কর্তৃপক্ষের জবরদস্তিমূলক কর্মকাণ্ডের যেমন ভূমিকা আছে তেমনি আছে পাকিস্তানের অপতৎপরতারও।

সংখ্যাগরিষ্ঠ কাশ্মীরির চাওয়া হলো স্বাধীন জম্মু-কাশ্মীর রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা, ভারত বা পাকিস্তান কারোর সাথেই যুক্ত থাকা নয়। কিন্তু ভারত যেমন জোর করে হলেও কাশ্মীরকে দখলে রাখতে চায় পাকিস্তান তারচেয়েও বেশি চায় কাশ্মীরকে নিজেদের আয়ত্ত্বে পেতে।

এ গ্যাঁড়াকলে পড়ে কাশ্মীরিদের মূল দাবী কখনো জোরালো হতে পারে নি। মদ্যপ পাকি জেনারেলরা যেনতেনভাবে কাশ্মীরে একটা যুদ্ধ বাজিয়ে নিজেদের আখের গোছাতে সর্বদা ব্যস্ত। তাই তারা সন্ত্রাসবাদকে পুঁজি করেছে, অনেক স্বাধীনতাপন্থী কাশ্মীরিকে বিচ্ছিন্নতাবাদী বানিয়েছেে। ফলে কাশ্মীরিদের চাওয়া পূরণ হচ্ছে না।

ভারত-পাকিস্তানের কেউই কাশ্মীরের শুভাকাঙ্ক্ষী নয়। দুই দেশেরই চাওয়া কাশ্মীরকে নিজেদের করায়ত্ত্ব করে রাখা। এক দেশ থেকে মুক্ত হয়ে আরেক দেশের সাথে যুক্ত হওয়ার মানে তো স্বাধীনতা নয়। নিজেদের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখার অধিকার লাভ করাই স্বাধীনতা।

সুতরাং কাশ্মীরের জনগণের উচিত পাকিস্তানিদের ফাঁদ থেকে বেরিয়ে আসা।