ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

বাংলাদেশের রাজনীতির রঙ্গমঞ্চে বারংবার কৌতুকের জন্ম দেয়া এক ‘রাজনীতিবিদে’র সর্বশেষ ‘বচন’ অতীতের কিছু কাহিনীকে আবার মনে করিয়ে দিলো।

১৯৯৭ সালে আওয়ামী লীগ সরকার পার্বত্য চট্টগ্রামের দাঙ্গা বন্ধ করতে শান্তিচুক্তি করে। এতে ঐ অঞ্চলে দুই দশকের বেশি সময় ধরে চলতে থাকা হানাহানি-খুনোখুনি থেমে যায়। খালেদা তখন বলেছিলেন, এ চুক্তির ফলে ফেনী পর্যন্ত নাকি ভারত হয়ে যাবে। হয়েছে? বরং এ চুক্তির পর খালেদা নিজে ঐ ফেনী থেকে একাধিকবার এমপি নির্বাচিত হয়ে এসেছেন। তাহলে তিনি কি ভারতের এমপি হয়েছিলেন?

খালেদা প্রায় প্রতিটি জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে বলেছেন, আওয়ামীলীগকে ভোট দিলে নাকি মসজিদে মসজিদে উলুধ্বনি শোনা যাবে। আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসার পর কোনো মসজিদে কি কখনো এই ধ্বনি শোনা গিয়েছে? রাজনৈতিক ফায়দা লাভের উদ্দেশ্যে এমন জঘন্য উক্তি করে খালেদা কি মসজিদ তথা ইসলামকে এবং একটি নির্দিষ্ট ধর্মের অনুসারীদেরকে ছোট করেননি?

আন্তর্জাতিক কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশকে ফ্রি-তে সাবমেরিন কেবলে যুক্ত হয়ে ইন্টারনেট সংযোগ লাভের প্রস্তাব দিয়েছিল। খালেদা সেই প্রস্তাব নাকচ করে দেন এই বলে যে, এতে নাকি বাংলাদেশের সব তথ্য ভারত চলে যাবে। এই খালেদাকে সমর্থন করা মানে স্বভাবতই মস্তিস্কের সীমাবদ্ধতাকে তুলে ধরা। বাংলাদেশকে পরবর্তীতে কয়েক কোটি টাকা খরচ করে উল্লেখিত সাবমেরিন কেবলে যুক্ত হতে হয়েছে।

দেশের নৌশক্তি বৃদ্ধির লক্ষ্যে যখন দু’টি সাবমেরিন ক্রয় করা হলো তখন খালেদা দেশবাসীকে জানালেন যে, শেখ হাসিনা নাকি জনগণের টাকা নষ্ট করে চীন থেকে দু’টি সাবমেরিন নিয়ে এসেছেন যেগুলি পানির উপরে ভাসে না, পানিতেই ডুবে থাকে।

ভাবতে অবাক লাগে না যে, এই খালেদা এদেশে সরকার গঠন করেছিলেন? যিনি জানেন না যে, সাবমেরিন বা ডুবোজাহাজের কাজ হলো পানির নিচে।

এই সেদিন খালেদা বললেন, পদ্মা সেতু নাকি জোড়াতালি দিয়ে বানানো হচ্ছে। এত দীর্ঘ একটি সেতু জোড়া দিয়ে বানানো হবে না নাতো কি আকাশস্থিত কোনো ফ্যাক্টরি থেকে কয়েক কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের সেতুটি একেবারে বানিয়ে এনে নদীর উপর বসিয়ে দেয়া হবে?

পদ্মা সেতু নির্মাণ প্রক্রিয়ায় কোনো দুর্নীতি হয়েছে? এমনকিছু তো বিশ্বব্যাংকের কর্তারাই উঠেপড়ে লেগে প্রমাণ করতে পারেননি, তাদের বাংলাদেশি সহযোগীদের আপ্রাণ চেষ্টার পরও। বরং আন্তর্জাতিক মহল প্রত্যয়ন করেছে যে, পদ্মা সেতু নির্মাণে দুর্নীতির কোনো প্রমাণ তারা পায়নি। তাহলে? শুধুই খালেদার অন্তর্জ্বলুনি, শেখ হাসিনার সাফল্যে!

দেশী টাকায় খালেদা যেখানে একটা মানসম্মত কালভার্টই সঠিকভাবে বানাতে পারেননি সেখানে শেখ হাসিনা পদ্মা সেতুর মতো এযাবতকালের সর্ববৃহৎ প্রকল্প নির্মাণ করছেন সম্পূর্ণ দেশীয় অর্থায়নে!

তাই মনোবেদনায় ভারাক্রান্ত হয়ে খালেদা এটা অনুধাবন করার সামর্থ্যও হারিয়ে ফেলেছেন যে, এরকম কোনো সেতুর উপরে একটি কেনো হাজারো গাড়ি একসাথে উঠলেও তা ভেঙ্গে পড়বে না, এমনকি যদি তা পুরোপুরি মানসম্মতভাবে নির্মিত না হয় তবুও।

নিজের কথামতো খালেদাকে তাহলে পদ্মা সেতুর উপর দিয়ে নয়, নিচ দিয়ে চলাচলের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।