ক্যাটেগরিঃ নাগরিক মত-অমত

আমাদের বেশ কিছুদিন ধরেই ফিরে আসার না মেটা সাধে পেয়ছে। আচ্ছা, আমরা তাহলে কোথায় আছি? আমরা কি ইউলিসিসের মতো পথ হারিয়ে ঘুরতে ঘুরতে ক্লান্ত হয়ে কেবল ঘরে ফিরতে চাইছি? কোন ঘরে ফিরব আমরা? কে আছে আমাদের অপেক্ষায় ? যে ঘরে প্রদীপ জলে, তার ঠিকানা কেই বা বলে? আমরা কি কোথাও যাবো না? ফিরব না নিজের সত্তায়। এই বেশ ভালো আছি! আমরা ফিরব না আমাদের অতীতে। কি দরকার? ছেড়েছি তো অনেক কিছুই পুরনো অভ্যাস।

আজকাল আমরা নতুন নতুন গান ধরেছি। এক বৃন্তে দুটি কুসুম দলের সঙ্গে পদ্মফুলের দল। পদ্মফুল জোড়াফুল দলকে বলবে, তুমি বৃষ্টি ভিজো না/ ঠান্ডা লেগ যাবে। পাগল হলে নাকি/ আমার কী হবে? এক বৃন্তে দুটি কুসুম পদ্মফুল দলকে বলবে, তুমি চশমা পরো না/ চোখ ঢেকে যাবে/ পাগল হলে নাকি/ আমার কী হবে? আমরা ম্যাগি-পেপসি-কোককে একটু কড়কে দেব। আমরা কি বিদেশি ফাস্ট ফুড, পানীয় ছোঁব না, কেননা ওরা কী যেন বেশি বেশি মেশাচ্ছে? এ আমাদের আদরের ও আপসের লড়াই। আমরা দিশি পানীয়, খাবার খাওয়ার অভ্যাস অনেকদিন ছেড়ে দিয়েছি। আমরা এখন দেবতা। মেঘের ওপরে থাকি। অবশ্য বাইরে আমরা একটু ঝগড়া ঝগড়া খেলব, তারপর আমরা ঘুমিয়ে পড়ব।

আমরা আর ফিরব না। আমরা কি আন্দোলন করব? কোন এক কবি বলেছিলেন, দুর্গম গিরি কান্তার মরু দুস্তর পারাবার। লঙ্ঘিতে হবে। ঘোড়ার ডিম হবে। আমাদের শরীরে এখন শুধুই চর্বি। আমরা চাই আমাদের ছেলে-পুলেদেরও চর্বি হোক। মগজ অবধি তা ছড়িয়ে যাক। মগজে কারফিউ। খাও, দাও, ঘুমোও। কী বললে? কে বললে? খেতে পাইনা! ‘খাই খাই করো কেন এস বস আহারে/ খাওয়াব আজব খাওয়া ভোজ কয় যাহারে।’ পেটে খেলে পিঠে সয়, এত কভু মিছে নয়, লাগে ভয়।’ ভয়? ‘ভয় পেয়ো না, ভয় পেয়ো না তোমায় আমি মারব না।’ লোক দেখিয়ে মারব না। আতে মারব। পাতে মারব। খুব দরকার না হলে সামনে থেকে মারব না।

লোকে না, আমাদের শুধু শুধু ভুল বোঝে। ভাবে পদ্মফুলের মধু কেন খায় না বধু। খাই গো খাই। নুক্কে নুক্কে খাই। শিবের বাবাও টের পায়না। কোথায় কী হচ্ছে আমরা জানি না। দরকারও নেই। ওয়ান-টু বাকল মাই শু। মরি লো মরি, আমায় বাঁশিতে ডেকেছে। আহা মরি বাংলা ভাষা। আমার ছেলে আমেরিকায়, মেয়ে প্যারিসে, শালি ইংল্যান্ডে। ওরা না একটুও বাংলা বলতে পারে না। আহারে। বাংলা আমার জীবনানন্দ। বাংলা না বললে চুল টেনে দেব, তারপর আমেরিকা যাব। বার বার যাব। আমার ছেলে আমেরিকায় থাকে, তাকে বাংলা শেখাতে হবে না! আমাদের কিন্ত কোনও দেশ নেই। আমরা সবাই সুবোধ বালক। আমরা জোড়াফুল খাই। পদ্মফুল খাই, গাঁদা ফুল খাই। যে ফুলের মধু আছে সেই ফুলই খাই।

এ পোড়া বঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী একটু অন্যরকম। তাঁর বড় ‘মমতা’। ক্ষমতার অপব্যবহারে তাঁর জুড়ি নেই। তিনি যাহা চান তা ভুল করে চান। যাহা পান তাহা চাননা। চোখ পিটপিট গাঁটে গাঁটে গিট।

যাই হোক না কেন সেই দুঃখের দিনে, তাড়া খাওয়ার দিনে, ছেঁড়া ত্যানা পড়ার দিনে আমরা আর ফিরব না। সেই সুনীলসাগর তীরে বালুকা বেলায় আমরা যারা এককালে ট্রয়ের যুদ্ধে লড়েছিলাম, সেই আমরা আর ফিরব না। আজকাল পশুখামারের কথা মনে আসে। হায় নেপোলিয়ান তুমি কি পূবতন খামার মালিকদের সঙ্গে পানভোজন করিতেছ? হায় আমার কি হবে?

সকল ঘুমকাতর শিক্ষিত মানুষদের জন্যে আজ নতুন ইশারা রচিত হয়েছে – ভ্রূপল্লবে ডাক দিলে দেখা হবে ‘শাহবাগের পথে’।