ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

 
Durgotsav

আগমনীর আবাহনে বেজে উঠেছে সুর। দুর্গেশ্বরী মা দুর্গা। সৃষ্টি, স্থিতি, বিনাশ। সে আমরা বুঝি আর না বুঝি। সারা জীবন আকাশের তলা দিয়ে হাঁটলুম,মাটিতে পা ;
কিন্ত আদৌ সচেতন নই। আকাশের দিকে হয়ত তাকাই, ভূমির দিকে তাকাই না। ও তো থাকবেই, যেমন থাকবে আকাশ। ভূমি আর আকাশের মাঝখানে
আমরা ‘স্যান্ডউইচ’। কবীর বললেন, ‘ওই দ্যাখো, এক গৃহবধূ জাঁতায় গম পিষছে।’ ‘তা আপনার চোখে জল কেন?’ কবীর বললেন, ‘আরে আমি কী গম দেখছি? আমি
একটা অন্যরকম বিরাট যাঁতা দেখছি। যার দুটো চাকার একটি হল আকাশ, অন্যটা ভূমি। মাঝখানে গমের দানার মতো হাজার হাজার মানুষ। পেষাই হচ্ছে। অসহায় মানুষ।পালাবার পথ নেই। তবে এও দেখছি, কিছু গম দন্ডটাকে আঁকড়ে ধরে ঘুরছে, কিন্ত পেশাই হচ্ছে না। তাই আমি বলছি, কিল পাকাড়কে রহ। ঈশ্বর সেই শক্তি। শক্তিকে কষে ধরে এই জগতকান্ডে ঘুরপাক খাই।’

আমাদের দেহের দিকে তাকালে দেখা যাবে হাত দুটো, পা দুটো, কান, চোখ সবই দুটো দুটো। দেহাংশ ও নানা যন্ত্রপাতি নিয়ে একটা মানুষ। অদৃশ্য কাল সমুদ্রে সাঁতার।
মানুষের ভেতর কাল খেলা করছে। মানুষ জীবনের শেষের দিকে বুঝতে পারে সে হেরে যাচ্ছে। অনিবার্য হার। নিজেকে ‘লকারে’ বসিয়ে রাখলেও সময় চুরি হয়ে যাবে।
মজার অঙ্ক এক, দুই, কুড়ি, ষাট, শূন্য। যোগফল ‘জিরো’। হাতের সঙ্গী হাত। পায়ের সঙ্গী পা। মানুষটার সঙ্গী কে? কেউ না। সব সম্পর্কই ঠুনকো। প্রতিমায় যে রূপই ধরা পড়ুক, একটি শব্দেই আমাদের সব দেনা-পাওনার সমাধান। শব্দটি হল ‘মা’। দশ হাত না কুড়ি হাত, আমার জানার দরকার নেই। কবে, কটার সময়, কোন যুদ্ধে, কোন অসুর মেরেছিলেন আমার জানার দরকার নেই। তুমি আমার মা। মায়ের উপাসনা। ‘মা’ শব্দ উচ্চারণে শক্তির তরঙ্গ খেলে যায়। ‘মা’ এই শব্দ উচ্চারণে জীবনের স্থিতি, ধৃতি, আরাম, বিরাম, কূল, অকূল। “মা তুমি কে কেউ যানে না/ তোমায় নানা লোকে বলছে নানা/ চিদাকাশে যার যা ভাসে তাই তাদের বোধের সীমানা”।