ক্যাটেগরিঃ ব্লগালোচনা

 
durga-visarjan-e1411973671387

বেজেছে বিসর্জনের সুর। চারটে দিন বাপের বাড়িতে থাকা। কত হুল্লোড়। আনন্দ। হেসে-কেঁদে, কাঁদিয়ে-হাসিয়ে ঊমা এবার চলল শ্বশুর বাড়ি। পুজো উপলক্ষে যেমন শ্বশুর বাড়ি থেকে মেয়ে বাপের বাড়িতে আসে, এও যেন সেরকম। জামাই বেড়িয়ে পড়েছে। মেয়ে তখনও কথা বলছে মা, বোন, ঠাকুমার সঙ্গে। মেয়ের চোখে জল, মায়ের চোখেও। মেয়ের বাবা, বাড়ির কর্তামশাই ঘনঘন মুখ মুছছেন। তাঁর চোখেও জল আসছে যে। ছোট্ট নাতনিটা কিতকিত খেলছে। প্রতিবার লাফিয়ে পা ফেলার সঙ্গে দুলে উঠছে তার হলুদ ফ্রকটা। নদী-নালার দেশ। ঘাটে বাঁধা নৌকোয় জামাই উঠে পড়েছে। ওঠানো হয়েছে ঢাউস দুটো ব্যাগ। নাতনি দাদুর কোল থেকে নামতে চাইছে না। সে
থাকবে। মা তাকে অনেক বুঝিয়ে, আবার খুব তাড়াতাড়ি আসবে কথা দিয়ে নৌকোয় তুলেছে। হাওয়ায় টান। নৌকো বাঁকে অদৃশ্য হয়ে গেল। মা বাপেরবাড়ির দুঃখ নিয়ে শ্বশুর বাড়ি রওনা দিল। আর এক মা মেয়ের দুঃখে মুখে আঁচল দিয়ে শ্বশুর বাড়িতে ঘর করতে গেল।

দুই মা কোথায় যেন মিলে গেল। তাই না! মিলে গেল ঊমাও। মা দুর্গা। চার দিনের এত হই-হুল্লোড়ের পর চলে যাওয়া। আসলে যেতে তো হবেই। যাওয়ার জন্যেই তো আশা। তবু আমাদের মন মানে না? নদীর জলে মাটির প্রতিমা যখন মিশে যায় তখন আমাদের চোখের জল বাঁধ মানে কই? ভারত-বাংলাদেশ মিশে যাবে ইছামতিতে। এও তো বছরের একটা দিনই ঘটে। তৈরি হয় অখন্ড বাংলা। “আজও যে আমি বাংলা দেখলে বাংলাদেশ পড়ি ( কবীর সুমন)।” চোখে জল আসবে না? তাই বোধহয় আজ বিজয়া। যাইহোক আমরা বরং বলি, মা সামনে বছর আবার এসো। এই সময়টা তোমায় লুকিয়ে রাখি হিয়ার মাঝে।

আর এই ফাঁকে ব্লগের সমস্ত পাঠক-পাঠিকা, ব্লগার বন্ধু ও ব্লগ টিমকে জানাই বিজয়ার শুভেচ্ছা। প্রার্থনা করি, সকলের ভালো হোক।