ক্যাটেগরিঃ স্বাস্থ্য

গাজীপুর সদর উপজেলার গাছা উইনিয়নের শরীফপুর গ্রামে টাকার বিনিময়ে কিনে নিতে হচ্ছে “শিশু কার্ড”। আমি নিজে এ চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়ে সেখানে যাই আজ(বুধবার) বেলা ১টায়। গিয়ে দেখি স্বাস্থ্যকর্মী ও মাঠকর্মী ৩ জনের মধ্যে উপস্থিত আছে একজন এবং একজন স্বেচ্ছাসেবক। বৈশাখের ভরদুপুরে সব কিছু গুছিয়ে তারা খুব মজা করে আমের ভর্তা খাচ্ছে অথচ তখনও কয়েকজন মহিলা দাঁড়িয়ে আছে তাদের বাচ্চা কে টিকা দেওয়ার জন্য কেউ এসেছেন জন্ম নিয়ন্ত্রণ ট্যাবলেট ও জন্ম নিয়ন্ত্রণ সামগ্রী(কনডম) ফ্রি ভাবে নেওয়ার জন্য। কিন্তু ফ্রি তো এখানে কিছুই দেয়া হচ্ছে না,ঔষধ চাইলে বলা হচ্ছে ঔষধের আপা (স্বাস্থ্যকর্মী) নাই। ধারনা করা হচ্ছে সব আগেই টাকার বিনিময়ে বিক্রি করে চলে গেছেন একজন স্বাস্থ্যকর্মী। তাঁর নাম জানতে চাইলে তারা তাঁর নাম জানাতে অস্বীকার করেন। তিনি কোথায় গেছেন জানতে চাওয়া হলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপস্থিত স্বাস্থ্যকর্মী বলেন “আপা ওষুধ আনতে গেছে” অথচ তারাই পরে বলেছিল তাদের কাজ ২টা পর্যন্ত। তাহলে তাদের সে আপা আসবে কখন? কে জানে! আর যারা ঔষধের জন্য দাড়িয়ে আছে তাদের কপালে হয়ত এ মাসেও ফ্রি ঔষধ মিলবে না।

উপস্থিত স্বাস্থ্যকর্মীকে “শিশু কার্ড” করে দিয়ে টাকা নেয়া সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন “মানুষ বুঝে তা (টাকা) নেওয়া হয়”। অপর স্বাস্থ্যকর্মীর কথা জানতে চাইলে উপস্থিত স্বাস্থ্যকর্মী আবার বলেন যে “সাহীদা আপা ঐ বাড়িতে (দূরের এক বাড়ি দেখিয়ে) গেছে “। কেন গেছে জানতে চাওয়া হলে বলেন “কৃমির ট্যাবলেট দিতে” অথচ সেখানেই দাড়িয়ে ছিল এক শিশুর দাদী সে তাঁর নাতির জন্য কৃমির ট্যাবলেট চাইলে তাকে বলা হয় সামনের মাসের ২ তারিখে (২ জুন)আসবেন।আর যখন আমি জানতে চাইলাম বলা হল ২৭মে ঔষধ দিবে। তাহলে স্বাস্থ্যকর্মী সাহীদা পাসের বাসায় কিভাবে কৃমির ট্যাবলেট দিতে গেল জিজ্ঞাসা করা হলে বলল “কাল আমরা উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্র থেকে কৃমির ট্যাবলেট নিয়ে এসেছি যা আগামী ২৭ তারিখে (২৭ মে) দেওয়া হবে”। এর মানে তারা সাধারণ মানুষদেরকে ভুল তথ্য দিচ্ছে।যাতে তারা বেচে যাওয়া ঔষধ বিক্রি করতে পারে।কথা বলতে বলতে স্বাস্থ্যকর্মী সাহীদা সেখানে উপস্থিত হন।কথা বলে বুঝা গেল সে খুব বুদ্ধিমতী একজন মহিলা। তার কাছে টাকা নেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে সে বলল “সকলের কাছ থেকে টাকা নেয়া হয় না যাদের কার্ড হারিয়ে যায় শুধু তাদের কাছ থেকে মাত্র ২০ টাকা নেয়া হয় নতুন কার্ড করে দেওয়ার জন্য।”

কেন টাকা নেয়া হচ্ছে জিজ্ঞাসা করা হলে বলে “টাকা না নেয়া হলে কার্ড যত্ন করে রাখে না অথচ টাকা নেয়া হলে যত্ন করে রাখে”। তখনি গরীব মহিলারা যারা টিকা দিতে গিয়ে সেখানে উপস্থিত ছিল তারা বলেন আমাদের সকলের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়। তারা আরও বলেন আমরা গরীব মানুষ আমাদেরকে সরকার ফ্রি ঔষধ দেয় অথচ আপারা(স্বাস্থ্যকর্মী) আমাদের কাছ থেকে টাকা নিচ্ছে । তারা বড়লোক আমাদের গরীবদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে তারা আরও বড়লোক হবে। সাহসী মেয়ে তাসলিমা বলল “শত শত মানুষ সবার কাছ থেকে টাকা আদাই করেছে এমন কি একজন বৃদ্ধ মহিলা তাঁর নাতিকে সময় হওয়ার আগেই টিকা দিতে নিয়ে আসলে তাঁর কার্ডে কোন তারিখে আসতে হবে লিখে দিয়ে ২০ টাকা আদাই করার পরই তাঁর কার্ড ফিরত দিয়েছে কিন্তু আমি এলাকার মেয়ে বলে আমার কাছে টাকা চায় নাই।কিন্তু এ এলাকাতে বিভিন্ন জেলার গরীব দুঃখী মানুষেরা এসে গার্মেন্টসে চাকরি করে, আর স্বাস্থ্য কর্মীরা এ সুযোগটাই কাজে লাগিয়ে তাদের কাছ থেকে ইচ্ছেমত টাকা তুলে নিচ্ছে। সে আর বলল আমি নিজ চোখে দেখেছি আপা হাতের মুঠ ভরে ভরে টাকা ব্যাগে ভরেছে। গার্মেন্টস কর্মী সালমা বলল তার আঞ্চলিক ভাষায় “আমরার দেশে (ময়মনসিংহ) মাতৃকালীন টিকা দিতে কোন টেকা (টাকা) নেয় নাই কোন দেশে(গাজীপুর)আইলাম টিকা দিতেও টেকা নেয়।” এলাকাবাসী জানান আগে টাকা নেওয়া হত না কিন্তু বেশ কিছুদিন ধরে এধরনের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।