ক্যাটেগরিঃ স্বাধিকার চেতনা

 

মুক্তিযুদ্ধের পরপরই স্বাধীনতা বিরোধী অনেক রাজাকার, আল বদর এবং আল শামসের বহু সদস্য মুক্তিবাহিনির ভিতরে অনুপ্রবেশ করে। এইসব অনুপ্রবেশকারিরা সেই সময়ের কিছু গোপন বাম দলের বাহিনি, জাসদের গণবাহিনী এবং মুজিব বাহিনির ছত্রছায়ায় নিজেদের আড়াল করে এবং বিভিন্ন লুটপাট, ব্যাংক ডাকাতি আর খুন খারাবির সাথে জড়িত থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের দুর্নাম সৃষ্টিতে উদ্যোগী হয়। এটাও ছিল স্বাধীনতাবিরোধী চক্রের সুদর প্রশারি এক চক্রান্তের নীলনকশা। স্বাধিনতা উত্তর ধ্বংস প্রায় দেশে মানুষ যখন আবার নতুনভাবে দাঁড়াবার চেষ্টা চালাচ্ছিল সেই সময় অত্যন্ত পরিকল্পনা মাফিক তাদের পরাজয় এর ক্ষতে প্রলেপ দেওয়ার জন্য হেন কাজ নেই তারা করে নাই। এবং সেইসময়েই স্বাধীনতাবিরোধী চক্র এদেশের স্বাধীনতার মুল নায়কদের হত্যা এবং রাষ্ট্র ক্ষমতা দখলের পরিকল্পনায় হাত দেয়। এদের এই পরিকল্পনায় হাত মিলায় ছদ্মবেশি স্বাধীনতার স্বপক্ষ শক্তি।

প্রোপাগান্ডা আর দেশি বিদেশি চক্রান্ত স্বাধীনতার শুভ লগ্ন থেকেই এদেশকে নানান জটিলতায় দুর্বিপাকে ফেলে দেয়। সেই সময় পর্যন্ত দেশের অধিকাংশ প্রশাসন, ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার চেয়ারম্যান ছিল পাকিস্তান আমলের নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত। যার ফলে একটি সদ্য স্বাধিন দেশ পরিচালিত হয়েছিল পাকিস্তানি ভুতদ্বারা বেষ্টিত । আগেই বলেছি আমার বাবা ছিলেন একজন মুজিবনগর সরকারের কর্মচারী। সেই প্রেক্ষিতে বয়সে ছোট হলেও আমার ক্ষুদ্র জ্ঞেনে এইসব অসামঞ্জতা ধরা খেয়েছিল। পরবর্তীতে বয়স বাড়ার সাথে সাথে এবং রাজনৈতিক সংঘটনের সাথে জড়িত হবার পর এসব ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র আমাদের কাছে আরও পরিস্কার হয়ে যায়। এক্ষেত্রে অবশ্য কিছু বাম রাজনৈতিক দলের ভিতর থেকে কৌশলে লুকিয়ে থাকা রাজাকারদের অবস্থান সুস্পষ্ট হয় এবং এদের বের করার প্রক্রিয়াও শুরু হয় কিন্তু ততদিনে স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতাদের হত্যার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের ইতিহাস অনেক পিছনে চলে গেছে। বদলে গেছে স্বাধিনতার মুল চেতনা, বিশ্বাস, শ্লোগান আর সর্বোপরি মুক্তিযোদ্ধারা হয়েছে নিগৃহীত। ৭৫এর পর সামরিক বেসামরিক সরকারগুলো নিজেদের ক্ষমতাকে ক্ষুকিগত করার অভিপ্রায়ে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস কে বদলে দিয়েছে প্রতিটি ক্ষেত্রে।

(চলবে)