ক্যাটেগরিঃ পাঠাগার

নষ্ট ভূখণ্ডে নয়, নষ্টদের সময়ে জন্মেছি,
সোনার জঠরে দেখছি,গুবরে পোকার ভ্রুণ
চোখ, মাথা দেখছি না, দেখছি নখ আর দাঁত
হাতিরা বিভৎস শূঁড়ে টেনে নিচ্ছে গোটা পূর্ণিমার চাঁদ!
স্বাস্হ্যলয়ে জীবক জিহ্বা চেটে খাচ্ছে মাংসল দেহ
যন্ত্রশিল্পীরা নিসর্গ কেটে তৈরি করছে জ্বলন্ত গেহ
মীর জাফরেরা মন্ত্রণা সভায় গাচ্ছে চর্যাগীত
কোন পথে যাবো আমি কাঙাল পথিক?

-আবু তাহের।

সবাই কবি নয়, কেউ কেউ কবি। আমাদের দেশে হাতে গোনা কিছু কবি বাদে অকবির সংখ্যাই বেশি।আর লোকসমাজে বাঙালিদের কবিয়ানা দেখে বেশ কিছু কথাও প্রচলিত আছে।

বলা হয়,বাঙালিরা জন্মমাত্রই কবি। ষড়ঋতুর বাংলাদেশের মানুষের হৃদয় অনেক কোমল,আবেগী ও চঞ্চল। প্রকৃতির অংশ যেহেতু মানুষ,সে কারণে পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি প্রাকৃতিক পরিবেশের বৈচিত্র্যের দরুন আমরাও মানুষ হিসেবে মননে,চেতনায়,ও ধরনে বৈচিত্র্যময় চারিত্রিক গুণের অধিকারি।

এমন কোন শিক্ষিত বাঙালি নর নারী পাওয়া যাবে না,যারা যৌবনে বা জীবনের যে কোন প্রান্তে দু’চার লাইন কবিতা লিখেনি। তাই বলে কি সবাই কবি?

কবি হওয়াটা কোন সাধারণ ব্যাপার নয়।কবিরা জন্মায়।কবিদের তৈরি করা যায় না।পৃথিবীতে কোনও বিশ্ববিদ্যালয় নেই যেখানে কবি বানানোর শিক্ষা দান করা হয়। বরং বিশ্ববিদ্যালয়গুলি কবিদের নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণে ব্যস্ত থাকে।

তবে  প্রতিভা থাকলে পরিপূর্ণ বিকাশের সুযোগ পেলে অনেকেই কবি হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায়। কবিদের প্রতিষ্ঠা পাবার বেলায়ও প্রেক্ষাপট প্রয়োজন পড়ে।স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে বা তার পূর্বের প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে মুখে মুখে কাব্য কর্মের মূল্যায়নের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা পাবার সুযোগ ছিলো।কিন্তু আজকের এই সময়টাতে দাঁড়িয়ে এটা অনেক চ্যালেঞ্জিং।

এখন প্রেক্ষাপট বদলে গেছে। পাঠকের চেয়ে লেখক বেশি। উপযুক্ত প্লাটফর্ম নেই।এখন পদক বিক্রি হচ্ছে। কবিতার মূল্যায়ন হচ্ছে। ফেসবুকের সস্তা প্রচারে অনেক ভালো ভালো লেখা যেগুলি সত্যিকারের কবিতা হয়ে উঠছে, সেসবও হারিয়ে যাচ্ছে।কবি হবার স্বপ্ন অনেকেরই অধরাই থেকে যাচ্ছে।

যে মানুষ কবিতা ভালোবাসে।যাদের কাছে কবিতা হলো অষ্টাদশী প্রেমিকার মত। নীরবে, নিভৃতে তারা কিন্তু কবিতা আঁকড়ে বেঁচে থাকে।পড়ে,লিখে নিজে নিজে আবৃতি করে।দু চার পরিচিত মানুষের কাছে দেখায়।কেউ কেউ তিরস্কার করে। কেই বাহবা দেয়।

মেঠোপথ আর ভাওয়াই গান শুনে বেড়ে ওঠা এক কিশোর কবিতায় স্হান পায় পরম মমতায়।কবিতার কোলে ঠাঁই নিয়ে বেঁচে থাকার স্বপ্ন নিয়ে পড়তে থাকে বিখ্যাত কবিদের কবিতা। দিনে দিনে কবিতায় বসতের সাথে সাথে ভেতরে ভেতরে পোক্ত হতে থাকে কবি সত্বা।মাধ্যমিকের গন্ডি পেরোনোর আগেই তার রচিত নাটক মঞ্চায়িত হয় পঞ্চগড়ের বিভিন্ন পল্লী এলাকায়।বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা তুলে আনে এসব নাটকে।

তারপর জীবন বাস্তকতার শিল্পায়িত রুপ ফুটিয়ে তুলে উপন্যাসে। সদ্য প্রয়াত শাহজাহান বাচ্চু তার পাণ্ডুলিপি প্রকাশ করে; উপন্যাস ‘কোথাও পেলাম না এতটুকু সুখ’।

কিন্তু সাহিত্যের অভিজাত শাখার নাম হলো কবিতা। সম্ভবত সবচেয়ে কঠিনতম ও শুদ্ধতম শাখা।মানুষের হৃদয়ে আঘাত করার অন্যতম অস্ত্র।সে শাখায় বিচরণ শুরু করেন কবি আবু তাহের।

কবিতার পাণ্ডুলিপি এবার বই আকারে প্রকাশ পায়  – পদ্ম পাতার জল।

এই ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার যুগে মিডিয়া ফোকাস ছাড়া কোন প্রচার প্রসার হবার সুযোগ নেই।কবি আবু তাহের ফেসবুকেই তার কবিতার প্রকাশ করছেন।বেশ কিছু কবিতা সত্যিকারের কবিতা হয়ে উঠেছে।

স্বয়ং রবীন্দ্রনাথও একবারে বিখ্যাত কবি বা বিখ্যাত কবিতা রচনা কোনটাই হয়ে উঠতে পারেনি।কেটেছেন লিখেছেন। রবীন্দ্রনাথ তার উজ্জলতায় ভাস্বর।বাকিদের জায়গা বাকিদের নিজ নিজ জগতে।কেউ কারো প্রতিদ্বন্দ্বী নয়।সবাই সবার জায়গায় উজ্জ্বল।

কবি আবু তাহের জীবনের তাগিদে, বেঁচে থাকার তাগিদে একটি পোশাক কারখানায় কাজ করছেন। বাংলা বিভাগ হতে কৃতিত্বের সাথে স্নাতোকোত্তর করেছেন।কিন্তু বাংলাদেশের কর্মক্ষেত্রের কঠিন মারপ্যাঁচে কবি জড়াননি।কেননা তিনি সাহিত্যে পড়েছেন ।পড়ছেন। প্রতিযোগিতার বাজারে নিজেকে নামিয়ে সকল স্বপ্ন সাধ বিলিয়ে না দেবার ভয়ে গার্মেন্টসে চাকরি করছেন।

তবে আমি মনে করি, এই সব তরুণ প্রতিভাবান কবি বলেন আর সাহিত্যের ছাত্রই বলেন, আরো ভালো জায়গা পাওয়া দরকার। তাদের জন্য সমাজের হৃদয়বান বা সমঝদার ব্যক্তিদের পৃষ্ঠপোষকতা দরকার।তবেই নিজেদের স্বপ্নগুলোর পেখম মেলতে সাহস পাবে।

কবি আবু তাহের যেমনটি লিখেছেন-

পথের, ধূলো মলিন ভাঁটফুলটির জন্য একটি কবিতা লিখে যাবো
ক্ষুধা ছাড়া কোন চিত্তাকর্ষক শব্দ জানা নেই।
লিখে যাবো বিশ্বাসের বিষ-দংশে নীল নদীটির জন্য-
প্রেম ছাড়া কোন দামি মহর চিনি না।
খেউরি গাছের ডালে বসে থাকা ফিঙে পাখিটিও কবিতার মর্ম বোঝে,
ও সরল গান ছাড়া কোন বুলি শিখেনি।
বোধের ধান খেয়ে যাবে অযাচিত মাজরা পোকা
জমির গতরে লাঙল চালালেই কি ফসল ফলে?
সংসার উদাসী নারী পতির পৌরুষের রটনা ছড়ায়
ভোগের গোলাম!তুই আমার কবিতা ছুঁবি না।

 

 

slide

কবি আবু তাহের