ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

উনিশ শতকের প্রারম্ভে ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টির ধারাবাহিকতায় পাকিস্তানের পূর্ব অংশে বহু সফল সামাজিক রাজনৈতিক আন্দোলনের দল হিসেবে কমিউনিস্ট পার্টি এক ঐতিহ্য বাহিকতার ধারা হিসাবেই অগ্রগন্য হয়ে বিকাশ লাভ করেছে। বহু কৃষক আন্দোলন, ভাষা আন্দোলন সহ এদেশের স্বাধিকার আন্দোলনেও এই পার্টির প্রতিটি অংশেরই গৌরবজ্জল অংশগ্রহন যে কোন রাজনৈতিক দলের জন্যেই শিক্ষনীয়। বাংলাদেশের স্বাধিনতা যুদ্ধে দুএকটা বিচ্ছিন্ন অংশ ছাড়া প্রতিটা বাম সংঘঠনই সক্রিয় অংশ গ্রহনের মধ্য দিয়ে তাদের দেশ ও জাতির প্রতি ত্যাগ ও তিতিক্ষার সাক্ষর রেখেছে সাহসিকতার সাথে।

‘৭৫ এর দুঃখজনক পটপরিবর্তন এর মধ্য দিয়ে যখন এদেশের রাজনীতি এক ক্রান্তি কাল অতিক্রম করছিল সেই সময়েও বাম সংঘঠনগুলো অত্যন্ত সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে জনগনের এবং গনতন্ত্রের পক্ষে অবস্থান গ্রহন করে রাজাকার, আল বদর আর স্বাধীনতা বিরোধীদের নিয়ে রাজনীতি করার ঘৃণ্য চক্রান্তের বিরুদ্ধে সোচ্চার থেকেছে।

স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের সফল সংঘঠক ছিল বাংলাদেশের বামদলগুলো। এই বামদলগুলোর নেতাদের সীম সাহস আর আপোষহীনতার জন্যেই স্বৈরাচার এরশাদকে নয় বছরের ধারাবাহিক আন্দোলনের দ্বারা উচ্ছেদ করেছিলো। তখন আমাদের দেশের জনগনের আশা ভরসার আশ্রয়স্থল ছিলো এদেশের বামদল এবং দলের নেতৃবৃন্দ। অথচ আজ যখন দেশ জাতি এক বিকল্প রাজনীতির  বিকল্প নেতৃত্বের আশায় দিন গুনছে তখন বাম দল আর নেত্রিত্বের দেউলিয়াত্ব দেশ এবং জাতিকে শুধু হতাশই করছে না বরঞ্চ সমগ্র জাতি ধর্মান্ধ দলের উত্থানের আশংকায় দিনাতিপাত করছে।

বাম দলগুলোর এবং তাদের নেতৃত্বের এই ভয়াবহ দেউলিয়াত্বের কারণ অনুসন্ধান করা আজ বিশেষ ভাবে প্রয়োজনীয় হয়ে পড়েছে। কেনো প্রায় সত্তুর আশি বছরের গৌরবজ্জল আন্দোলনের  এবং বিজয়ের ইতিহাস থাকা সত্বেও জাতির এই ক্রান্তিকালীন সময়ে কেনো নেতৃত্ব দিতে পারছে না তা গবেষনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এ প্রসঙ্গে দুটো ঘটনার উল্লেখ না করে লোভ সামলাতে পারছি না। ঘটনা দুটো বড়োই খুদ্র এবং সামান্য কিন্তু আমার মনে হয়েছে বাম রাজনীতির দেওলিয়াত্বের জন্য এই দুই ঘটনা কিছুটা হলেও দায়ী বলে আমার ক্ষুদ্র জ্ঞানে মনে হয়েছে।

কিছুদিন আগে এক অনুষ্ঠানে আমার কিছু কথা বলার সুযোগ এসেছিলো এবং সেই বক্তব্য শুনে এক প্রখ্যাত বাম জননেতা আমার সাথে হাত মিলিয়ে আমাকে ধন্য করেছিলেন, অতো বড় মাপের নেতা আমার কথা শুনে আমার সঙ্গে হাত মিলাবেন এটা আমার কল্পনাতেও ছিল না। অথচ তার মাত্র তিনদিনের মাথায় সেই নেতার সাথে আমার দেখা হয়েছিলো আরেক জেলার একটি অনুষ্ঠানে এবং আমি উনাকে কয়েকবার সালাম দিয়ে আমার উপস্থিতি জানালাম কিন্তু দুঃখের বিষয় তিনি আমাকে চিনতে পারলেন না।

আরেক দিন আরেক জাতীয় নেতা যার সঙ্গে দীর্ঘদিন রাজনীতি করার সৌভাগ্য হয়েছে আমার। উনার সাথে আমার দেখা হলো প্রায় কয়েক বছর বাদে তিনি আমার সালাম গ্রহন করলেন কিন্তু অন্যদিকে তাকিয়ে। এই দুটি ঘটনা খুবই ব্যক্তিগত কিন্তু আমার কাছে মনে হয়েছে আমাদের বামনেতারা এইভাবেই নিজেদের কর্মীদের সাথেই দুরত্ব তৈরি করছেন সেখানে জনগনের সাথে তাদের সম্পর্ক ভেবে দেখার মতো। আমরা বঙ্গবন্ধু এবং ভাষানিসহ অনেক জাতীয় নেতাদের ইতিহাস পরে জেনেছি যে তারা জনগনের একেবারে কাছে চলে গিয়েছিলেন বলেই তাদের রাজনীতি এবং দল সফলতা পেয়েছিলো।

উপরের ঘটনা দুটো উল্লেখ করার জন্যে আমি সত্যিই লজ্জিত। কিন্তু দেশ জাতির স্বার্থে আজ বাম দলগুলোর খোলনলচে পালটিয়ে জনগনের পাশে এসে দাঁড়ানোর সময় এসেছে।