ক্যাটেগরিঃ প্রশাসনিক

Ctg+Navy_Recover_Malaysiya_Root+(2)

ভারতসহ পৃথিবীর অনেক দেশেই মানবসম্পদ উন্নয়ন নামক এক মন্ত্রনালয় আছে এবং একজন মন্ত্রী থাকেন এই মন্ত্রনালয়ের দায়িত্বে। তিনি মোটামুটি ভাবে ক্ষমতাসীন দলের খুব গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি এই মন্ত্রনালয়ের দায়িত্ব পেয়ে থাকেন। আমাদের দেশ বিশ্বের ৮ম জনবহুল দেশ হিসাবে স্বীকৃত। ঘনবসতি, দারিদ্রতা আর বেকারত্ব হলো এই বাংলাদেশের অন্যতম সমস্যাগুলোর একটি। বাংলাদেশে শিক্ষিত, অশিক্ষিত, অর্ধ শিক্ষিত বেকার সহ সিজনাল বেকারের সংখ্যাও কম নয়। প্রতিবছর আমাদের দেশ প্রচুর পরিমান অদক্ষ শ্রমিক বিদেশে কাজের উদ্দেশ্যে পাড়ি জমাচ্ছেন। এবং সৌভাগ্যের বিষয় হলো এই যে আমাদের অদক্ষ শ্রমিক ভাইদের কষ্টার্জিত আয় আমাদের দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে ঈর্ষনীয় পর্যায়ে নিয়ে গেছে। অথচ প্রবাসকল্যান ও জনশক্তি উন্নয়ন বিষয়ক মন্ত্রনালয় থাকলেও এই বিশাল জনশক্তিকে দক্ষ জনশক্তিতে পরিনত করার কোন পরিকল্পিত পরিকল্পনা নেই। মাঝে মাঝে সরকারি পর্যায় থেকে আমাদের মানবসম্পদকে দক্ষ জনশক্তিতে পরিনত করার কথাবার্তা ছাড়া কারযকর কোন পদক্ষেপ আজো চোখে পরে না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষকেরা আগামী পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় দক্ষ জনশক্তি তৈরির বাস্তব সম্মত পরিকল্পনা গ্রহনের আহ্বান জানিয়েছেন।তাঁরা বলেছেন, শুধু অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগ বাড়িয়ে টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব নয়। এ জন্য স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি করে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে গবেষণায়ও বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান এম এ তসলিম বলেন, চাহিদা অনুযায়ী শিক্ষা দিতে পারলে জনগোষ্ঠী দক্ষ হয়ে উঠবে। তখন উৎপাদন এমনিতেই বেড়ে যাবে। মনে রাখতে হবে, রাস্তাঘাট ইত্যাদি হলো ভৌত অবকাঠামো। আর শিক্ষা ও স্বাস্থ্য হলো সামাজিক অবকাঠামো। এ দুটো খাতকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে। তবেই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়বে ও টেকসই হবে।

অধ্যাপক মমতাজউদ্দিন আহমেদ বিনিয়োগ, মানসম্মত শিক্ষা, কৃষি ও অবকাঠামোকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, মোট বিনিয়োগ মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৩৫-৪০ শতাংশ হতে হবে। বর্তমানে তা সাড়ে ২৭ শতাংশ আছে। এ ছাড়া দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করতে শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনতে হবে।(সুত্রঃ প্রথম আলো, ১৫ জানুয়ারী, ২০১৫)

ডিজিটাল বাংলাদেশ তৈরির যে স্বপ্ন এই সরকার দেখিয়েছে সেই ডিজিটাল বাংলাদেশ তৈরি করার লক্ষ্যে বাংলাদেশে অবস্থিত জনশক্তিকে কম্পিউটার ভিত্তিক শিক্ষায় শিক্ষিত করার পরিকল্পনা নিতে হবে। আউটসোর্সিং বা ফ্রীলান্সিং বাংলাদেশের অরথনীতিতে এক ব্যপক ভিত্তিক পরিবর্তন সচিত করতে পারে। আউটসোর্সিং বা ফ্রীল্যান্সিং এর জন্যে কম্পিউটার এর উপর বিশেষ দক্ষতা অর্জন করার প্রয়োজন পরে না বলেই আমরা জানি। তথাপি সরকার এই খাতে অর্থ বরাদ্দের দ্বারা প্রশিক্ষনএর ব্যবস্থা করতে পারে। আউটসোরসিং এর জন্যে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করে সরকারী উদ্যোগে কাজ সংগ্রহ করে এই সব প্রশিক্ষিত জনশক্তিকে কাজে লাগানো এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের খাতকে শক্তিশালী করে তুলতে পারে।

প্রায় পত্রিকায় খবর পাওয়া যায় আই টি খাতে সরকার অর্থ বরাদ্দ করছেন কিন্তু এই অর্থ কোথায় কিভাবে ব্যয়িত হচ্ছে তা দেখার সময় এসেছে। প্রবাস কল্যান মন্ত্রনালয় এবং জনশক্তি উন্নয়ন মন্ত্রনালয়কে আলাদা করে এখনোই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিতে হবে।আমাদের দেশে আউটসোরসিং এর উপর যেসব প্রতিষ্ঠান প্রশিক্ষন দেওয়ার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন তারা আসলেই যথাযথ প্রশিক্ষন না দিয়েই অর্থ উপার্জন করছেন। সেইসাথে যারা আউটসরসিং এর কাজ করতে আগ্রহী তারা পুরোপুরি প্রতারিত হচ্ছেন।