ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

zafor iqbal 1

আমার পরম শ্রদ্ধেয় জাফর ইকবাল স্যারের একটুখানি শান্তি লেখা টা পড়ে মনটা ভালো হয়ে গেলো। স্যার যখনই এই দেশটা, সমাজটা, শিক্ষা ব্যবস্থা বা মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লিখেন তখনই আশায় বুক ভরে যায়। অসংখ্য ভন্ডামী আর মিথ্যার বেসাতি যখন পুরো জাতিকে তার জন্মের ইতিহাস ভুলিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্রে মেতে উঠে তখন স্যারের মতো গুটিকয়েক মানুষ আমাদের ঘুরে দড়ানোর সাহস যোগান।

লেখাটা প্রকাশ হয়েছে এমন এক সময় যখন সারা দেশে গনতন্ত্র উদ্ধারের নামে চালিত এক ধ্বংসযজ্ঞের অবরোধ শুরু হয়েছে।শুরু হয়েছে বাড়ী থেকে বের হওয়া বাবার না ফেরার সম্ভাবনার দিন, শিশুর মাতা পিতা কে ছেড়ে অকালে ঝরে যাওয়ার দিন, প্রিয়তম স্বামীর অথবা স্ত্রীর আর না ফেরার সম্ভাবনায় এক নিদারুন উৎকণ্ঠার সময়। এতোকিছু হচ্ছে শুধুমাত্র ক্ষমতায় যাওয়ার জন্যে, গনতন্ত্র উদ্ধারের নামে । যে গনতন্ত্রে থাকে শুধুই ক্ষমতার ব্যবহারের দাপট, দায়িত্ব পালনের নয়।

এই লেখাটির অনেকাংশই স্যারের লেখার কপি হয়ে যেতে পারে কিন্তু তাতে আমার কোন লজ্জা নেই। আমার কাছে মনে হয়েছে ছোট বেলাতে যেমন স্বপ্নে দেখা লেখা যে পড়বে তাকেই শত বা হাযার কপি করে বিলি করতে হবে তেমনি ভাবে যাফর স্যারের প্রতিটা লেখা যেই পড়বে সে যদি বিবেকবান হোন তাকেই হাযার কপি করে মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে।

গত বছর বাংলাদেশে গনতন্ত্রের একমাত্র মাপকাঠি হিসাবে নির্ধারিত  সাধারন নির্বাচন  যখন হলো তখনো বিএনপি জামাত জোট সেই নির্বাচনকে প্রতিহত করার নামে হাজার হাজার মানুষ কে বোমা মেরে, গুলি করে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে এবং চলন্ত ট্রেন বাস বা ট্রাকে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মেরেছিলো। তারপরেও যখন সেই নির্বাচন ঠেকিয়ে রাখতে পারেনি তখন বিদেশী শক্তির উপর ভরষা করে অপেক্ষা করেছে ক্ষমতায় আসার জন্যে। দুর্ভাগ্যের বিষয় যখন কিছুদিনের মধ্যে বিদেশী রাষ্ট্র গুলিও ৫ই জানুয়ারীতে নির্বাচিত সরকারের সাথে কাজ করার জন্যে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হতে শুরু করলো তখনি বিএনপি জামাত জোট তাদের সেই পুরানো ধ্বংসাত্মক রাজনীতিতে ফিরে গেলো।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে যত বিরোধী দলই থাকুক আপত্তি নেই, যত দল তত মত এবং তাতে সামাজ ও রাষ্ট্রের বিকাশ হওয়ার সম্ভাবনা বেশীই থাকে। কিন্তু একটি ব্যাপারে অবশ্যই বাধ্যবাধকতা থাকতে হবে,  মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কোন দ্বিমত থাকতে পারবে না। মুক্তিযুদ্ধের সময় যারা পাকিস্তানী দালাল হিসাবে মুক্তিযুদ্ধকে অস্বীকার করে এদেশের মানুষদের উপর হত্যা নির্যাতন চালিয়েছিল তাদেরকে ক্ষমা করার ব্যাপারে কোন আপোষ চলবে না এই শর্ত মেনে চলতে হবে। বঙ্গবন্ধুর রাজনীতির ব্যাপারে বা তার মতাদর্শে দ্বিমত থাকতে পারবে কিন্তু জাতির পিতা হিসেবে তাকে মেনে নিতে হবে। তাকে নিয়ে কোন আপত্তিকর মন্তব্য করা থেকে অবশ্যই বিরত থাকতে হবে।

বিএনপি যদি সত্যিকারের মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি হিসাবে নিজেকে জনগনের সামনে উপস্থাপন করতে চায় তাহলে সত্যিকারভাবে জামাত শিবিরকে পরিহার করতে হবে। স্বাধীনতা বিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের শাস্তির ব্যাপারে পরিস্কার সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আমার বিশ্বাস এই সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারলে বিএনপি রাজনৈতিকভাবে লাভবান হবে। জনগনের কাছে আবার গ্রহনযোগ্যতা ফিরে পাবে।

আমরা সবাই বিএনপির এই ধ্বংসাত্মক রাজনীতি থেকে মুক্তি পাওয়ার প্রতিক্ষায়। আমরা বিএনপির খুব শীঘ্রই শুভবুদ্ধির উদয় হবে সেই প্রত্যাশায় আছি। বাংলাদেশের মানুষ বড়ো অল্পেতেই তুষ্ট হতে পারে। এতো প্রতিকুলতার মধ্যেও বাংলাদেশের মানুষ পৃথিবীর সুখী মানুষদের মধ্যে অন্যতম। বাংলাদেশের মানুষ তার অনেক বড়ো শত্রুকেও হাসিমুখে ক্ষমা করে দিতে পারে। আমরা সবাই একটুখানি শান্তির প্রত্যাশায় অপেক্ষমান। কবে আসবে সেই সুন্দর সকাল যেদিন কোন সংবাদ মাধ্যমে বোমার আঘাতে লন্ডভন্ড কোন ছবিই দেখবো না, শুনবো না কোন বাসে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মারা শিশু আর মহিলার দগ্ধ হওয়ার খবর।