ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

সরকার কর্তৃক হোক বা নিজ ইচ্ছায় হোক বিএনপি জামাত জোট নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া প্রায় পনেরো দিন অবরুদ্ধ থাকার পরে অবরোধমুক্ত হলেন। অবশ্য তিনি অবরোধমুক্ত হওয়ার পরেও গুলশান কার্যালয় থেকে বাসায় ফিরে যান নি। আর এ থেকেই অনেকটাই নিশ্চিত হওয়া যায় যে তিনি কার্যত সরকার দ্বারা অবরুদ্ধের চেয়ে নিজে থেকে অবরুদ্ধ হয়েই ছিলেন।

অবরোধ মুক্ত হয়েই বেগম খালেদা জিয়া তার নেতৃবৃন্দের সাথে এক বৈঠকে মিলিত হোন। সারা দেশ সেই মিলিত হওয়া সভার দিকে তাকিয়ে ছিলো অধীর আগ্রহে। সকল সংবাদ মাধ্যমের কর্মীরা উম্মুখ হয়ে ছিলেন দেশনেত্রী দেশের মানুষকে স্বস্তি দেওয়ার জন্যে কোন বক্তব্য দিবেন। কিন্তু সকলকে হতাশ করে দিয়ে তিনি আবারো অবরোধ চালিয়ে যাবার অর্থাৎ বোমা মারা, মানূষ মারা, গাড়ী পোড়ানোর উৎসব চালিয়ে যেতে বললেন। তিনি অবশ্য এই মানুষ হত্যার দায় নিজে না নিয়ে সরকারী দলের উপর চাপালেন। যেনো বিরোধী দল নয় এই অবরোধ সরকার ডেকেছে।

Somokal 1

গতকাল জাতীয় এক দৈনিকে এই অবরোধের ফলে প্রতিদিন জাতি কি পরিমান ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে তার এক বিষদ বিবরন মুলক সংবাদ ছাপিয়েছে। জাতীয় অর্থনীতিতে প্রতিদিন এই অবরোধের কারণে ২ হাজার কোটি টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে।

সুত্রঃ দৈনিক সমকাল।

তৈরী পোষাক খাতে গত পনেরো দিনে ক্ষতির পরিমান প্রায় ৬৩০০ কোটি টাকা, দোকানপাট খাতে ৮৪০০ কোটি টাকা, কৃষি খাতে ৪০০০ কোটি, পরযটন খাতে ২৮০০ কোটি, পোল্ট্রি খাতে ২৫৬ কোটি এবং পরিবহন খাতে প্রায় ২৮০০ কোটি টাকার লোকসান হয়েছে জাতীয় অর্থনীতিতে। এছাড়া বছরের শুরুতে নতুন ক্লাসে উঠা শিশু কিশোরদের স্কুলে না যেতে পারা সারা দেশের পছিয়ে পরারই ইঙ্গিত বহন করে। এমতাবস্থাতেও বেগম খালেদা জিয়া দেশব্যাপি অবরোধ কর্মসূচী চালিয়ে যাবার যে ঘোষনা দিয়েছে তাতে করে দেশের অরথনীতির বারোটা বাজার আর বেশী দেরী নআই বলেই মনে করছেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদরা।

এই অবরোধ চালিয়ে যাওয়ার যে প্রত্যয় তিনি ঘোষনা করেছেন তাতে করে মনে হতেই পারে তিনি এক বিশেষ এজেন্ডা বাস্তবায়নের পক্ষেই কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। সেই এজেন্ডা হতে পারে বাংলাদেশকে অকার্যকর ও ভঙ্গুর অর্থনীতির দেশ হিসাবে পরিনত করার এবং সেইসাথে যুদ্ধপরাধিদের বেকসুর খালাসের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা। এই প্রসঙ্গে উল্লেখ করা যায় বিএনপির এই মরনফাদ আন্দোলনের মাধ্যমে জামাত শিবির দুপক্ষ থেকেই সুবিধা লোটার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। একদিকে যদি আন্দোলনে সফলতা আসে তবে বিএনপি জামাত জোটের ক্ষমতায় যাওয়া শুধু সময়ের ব্যাপার, আর ক্ষমতায় গেলেই যুদ্ধপরাধীদের মুক্তি নিশ্চিত। অপরদিকে এই আন্দোলন যত তীব্র হবে আওয়ামী লীগ ততটাই জামাতের ব্যাপারে বা যুদ্ধপরাধীদের ব্যাপারে দ্বিধাগ্রস্থ হবে।

তাই সহজভাবেই বলা যায় বিএনপি- আওয়ামীলীগের এই দ্বন্দ এ মুলত লাভবান হচ্ছে জামাত শিবির চক্র। আর বিশ্লেষকরা নিজের লাভের চেয়ে জামাতীদের উদ্ধারেই বেশী মনোযোগি বলে মনে করছেন বেগম খালেদা জিয়াকে ।