ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

 

বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। এগিয়ে যাচ্ছে অর্থনৈতিক সুচকে, এগিয়ে যাচ্ছে শিশুমৃত্যু হার রোধে, নারী শিক্ষায় সাফল্য চমকে দেওয়ার মতো, শিক্ষা খাতে অনেক দেশকেই পিছনে ফেলার সফলতা, মাত্র গত কয়েকবছরে জাতীয় আয় বেড়ে দাড়িয়েছে প্রায় তিন গুনের বেশী।

নোবেল পুরস্কার বিজয়ী অধ্যাপক অমর্ত্য সেন বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়নে বিস্মিত হয়েছেন, তিনি বলেছেন অনেক ক্ষেত্রেই বিশেষ করে সামাজিক খাত গুলোতে বাংলাদেশ ভারত পাকিস্তানকেও পিছনে ফেলে এগিয়ে গেছে। অবশ্য আমাদের দেশের বিভিন্ন গবেষনা সংস্থা এইসব উন্নয়নের ব্যাপারে সবসময়ই উদাসীন থেকে তাদের গবেষনা পত্র আমাদের সামনে উপস্থাপন করে থাকেন। এই উদাসীনতা কি শুধুই রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে কিনা তাই আজ গবেষেনার বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে। বাংলাদেশের মিলিনিয়াম গোলের অনেক লক্ষ্য অর্জনের পথে সাফল্য অর্জন করেছে এবং সেটা নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সম্ভব করেছে বাংলাদেশ। অথচ আমাদের কিছু সুশীল বুদ্ধিজীবি মানুষ সবসময়ের জন্যেই নেতিবাচক মন্তব্য করে দেশকে পিছিয়ে নেওয়ার কথা বলছেন বলে মনে করছে বিদগ্ধ জনেরা।

সেই সব বিদগ্ধ জনেদের জানা আছে কিনা জানি না তবে তাদের উদ্দেশ্যে জানাতে চাই যে, নারীদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ, শিশুমৃত্যু হার এবং মেয়েদের স্কুলে যাওয়ার হারসহ ১২টি সামাজিক সূচকের ১০টিতেই এশিয়ার উন্নয়নশীল দেশগুলোর তুলনায় বেশ এগিয়ে আছে বাংলাদেশ।(সুত্রঃ http://sharebarta.com)

এ প্রসঙ্গে উল্লেখ্য গতকাল সংসদে পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল জানান, ২০১৪ সালের প্রাক্কলিত হিসাব অনুযায়ী দেশে দারিদ্যের হার শতকরা ২৪ দশমিক ৭ ভাগ।(সুত্রঃ http://bdnews24.com)

এখানে আরো উল্লেখ্য যে স্বাধীনতার ৪৩ বছরে দারিদ্র্যের হার নেমে এসেছে ৭০ থেকে ৩১ শতাংশে। বেড়েছে ক্রয়-ক্ষমতা, গড় বার্ষিক আয়। এই পরিসংখ্যানটি কোন সরকারী তথ্য ভান্ডারের নয়, খোদ সিপিডির গবেষনায় উঠে এসেছে।(সুত্রঃ http://sharebarta.com)

তিনি জানান, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ খানাভিত্তিক আয় ও ব্যয় জরিপ ২০১০ অনুযায়ী দেশে দারিদ্রের হার শতকরা ৩১ দশমিক ৫ ভাগ, যা  ২০০৫ সালে ছিল শতকরা ৪০ ভাগ।

অন্যদিকে সাংসদ এম আবদুল লতিফের লিখিত এক প্রশ্নের জবাবে পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, পরিসংখ্যান ব্যুরোর স্যাম্পল ভাইটাল রেজিস্ট্রেশন সিস্টেম ২০১৩ সালের ফল অনুযায়ী দেশের মানুষের গড় আয়ু ৭০ দশমিক ১ বছর। ২০১২ সালের এটা ছিল ৬৯ দশমিক ৪ বছর, যা তার আগের বছর ছিল ৬৯ বছর।(সুত্রঃ http://bdnews24.com)

রাজনৈতিক ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড থাকা সত্বেও বাংলাদেশের এই এগিয়ে যাওয়া সত্যিই বিস্ময়কর। এই বিস্ময়কর এগিয়ে যাওয়ার জন্যে অবশ্যই বাংলাদেশের মানুষকে জানাতে হবে প্রাণঢালা অভিনন্দন। সেই সাথে অবশ্যই মনে রাখতে হবে এইসব অর্জনের পথে এগিয়ে যাওয়ার জন্যে সরকারের আন্তরিকতা কোন অংশেই কম নয়। জনগন এবং সরকারের যৌথ অংশগ্রহন আর ঐকান্তিক চেষ্টা না থাকলে কোন পরিকল্পনাই তার নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌছতে পারে না। সেইসাথে এই কথাও অবশ্যই বিবেচ্য যে দেশে যদি রাজনৈতিক স্থিরতা থাকতো, বিরোধীদলের যৌক্তিক বিরোধীতা আমাদের দেশটাকে আরো অনেক দূর এগিয়ে নিতে পারতো সেটা দিনের আলোর মতো পরিস্কার। অথচ আমাদের দেশের প্রধান বিরোধীদল দেশের স্বাধীনতা বিরোধী চক্রের সাথে হাত মিলিয়ে দেশকে পিছনে নেওয়ার কাজে প্রতিনিয়ত সহযোগিতা করে যাচ্ছে। তারপরেও বাংলাদেশ এগিয়ে চলেছে তার অভীষ্ট লক্ষ্যে। সাধারন মানুষের ঐকান্তিক প্রচেষ্টার কাছে সকল ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হয়ে একটি মধ্যম আয়ের দেশে দিকে ছুটে চলছে আমাদের এই সোনালি স্বদেশ।