ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রবাসীদের আয় করা বৈদেশিক মুদ্রা আজ এক উল্লেখজনক ভুমিকা রাখছে। প্রতিবছর এই মদ্রা রিজার্ভের পরিমান সকল রেকর্ড ভেঙ্গে শুধু বৃদ্ধিই পেয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এখন বিশ্বের যেকোন দেশের জন্যেই ঈর্ষার কারণ।  এই বৈদেশিক মুদ্রা আহরিত হচ্ছে আমাদের দেশের বেশীর ভাগ অদক্ষ শ্রমিকের রক্ত পানি করা পরিশ্রমের দ্বারা। জনশক্তি রপ্তানীর জন্যে সৌদি আরব ছিলো সবচেয়ে বাংলাদেশ ছিলো সবচেয়ে বড়ো বাজার। আমাদের দেশ থেকে জনশক্তির প্রায় দুই তিন শতাংশ যেতো সৌদি আরবে।

২০০৮ সাল বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানীতে এক বিরাট ধাক্কা খেলো বাংলাদেশ। সৌদি আরব বাংলাদেশ থেকে জনশক্তি নেওয়া বন্ধ করে দিলো। অবশ্য সেই বন্ধটা ছিলো সাময়িকভাবে। ২০০৯ সালের জানুয়ারী মাসে দ্বিতীয়বারের মতো আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসলে আমাদের দেশের কিছু কুলাঙ্গার রাজনীতিবিদ এবং কূটনীতিক এর চক্রান্তে এই জনশক্তি নেওয়া বন্ধ হয়ে গেলো প্রায় দীর্ঘদিনের জন্যে এবং অনির্দিষ্ট কালের জন্যে। বাংলাদেশের সরকার বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা চালিয়ে যেতে থাকে বাংলাদেশের এই বিরাট জনশক্তি রপ্তানীর বাজার কে উম্মুক্ত করার।

শোনা যায়, বাংলাদেশে স্বাধীনতার চল্লিশ বছর পর যখন এদেশের স্বাধীনতা বিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার শুরু হলো, তখন এদেশের কিছু রাজনীতিবিদ আবারো যুদ্ধাপরাদীদের ব্যাপারে সৌদি আরবকে ভুল বুঝিয়ে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যেতে থাকে। এইসব অপরাজনীতিবিদরা দেশের মানুষের কথা চিন্তা না করে, দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে দেশকে পঙ্গু করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হলো। সৌদি সরকারকে নানাভাবে ভুল বুঝানোর প্রক্রিয়ায় দেশের স্বার্থকে জলাঞ্জলি দিলো। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকে ইসলাম বিরোধী কার্যকলাপ হিসেবে চিহ্নিত করে বাংলাদেশের সরকারকে অসহযোগিতা করার পরামর্শ দিয়ে এদেশ থেকে জনশক্তি রপ্তানীতে বাধ সাধতে কাজ করে গেলো।

আজ প্রায় আট বছর পর সৌদি আরব সরকার সকল ষড়যন্ত্র বুঝতে পেরে বাংলাদেশ থেকে আবারো জনশক্তি নেওয়ার কথা নীতিগতভাবে স্বীকার করেছে।

শিগগিরই  বাংলাদেশ থেকে ফের শ্রমিক নেওয়া  শুরু  করবে  সৌদি  আরব।  সম্প্রতি  সৌদি  আরবের শ্রমমন্ত্রী আদেল  ফাকিহ  এই ঘোষণা  দিয়েছেন। দেশটিতে বর্তমানে বাংলাদেশ সরকারের  প্রবাসী  কল্যাণ ও  কর্মসংস্থানবিষয়ক  মন্ত্রী  ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন অবস্থান করছেন।  খন্দকার মোশাররফ হোসেনের  সঙ্গে  বৈঠক  করার পর সৌদি শ্রমমন্ত্রী  বাংলাদেশিদের  এই সুসংবাদ  দেন।  শ্রমিক  নেওয়া শুরু  প্রসঙ্গে  সৌদি শ্রমমন্ত্রী  বলেন,  ‘এতে  দুই দেশের  মধ্যে সম্পর্ক আরো  উন্নত হবে।’ এ  সময়  বাংলাদেশ থেকে তিনি দক্ষ  জনশক্তি  নিতে  আগ্রহ  প্রকাশ  করেন। তবে  যথাযথ  প্রক্রিয়ার ওপর তিনি গুরুত্ব দেন। –  সুত্রঃ http://www.bkagoj1.com।

সৌদি মন্ত্রীর কথা অনুযায়ী আমরা বুঝতে পারি জনশক্তি রপ্তানীর জন্যে দুটি ক্ষেত্রে আমাদের দেশের যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। এই পদক্ষেপ গুলো শুধুমাত্র সৌদি আরবের ক্ষেত্রেই নয় সকল দেশের বেলাতেই প্রযোজ্য। অদক্ষ শ্রমিক রপ্তানী করে আমাদের দেশ যে পরিমান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে তার থেকে এই শ্রমিক ভাইদের যদি আমরা প্রশিক্ষনের মাধ্যমে দক্ষ করে গড়ে তুলতে পারি সেক্ষেত্রে আমাদের শ্রমিকের চাহিদা বাড়বে অনেক। সেইসাথে বৈদেশিক মুদ্রার আয় হবে দিগুন।

দ্বিতীয়ত আমাদের দেশের গ্রামের সাধারন অশিক্ষিত – আধাশিক্ষিত, দক্ষ-অদক্ষ মানুষ বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে অনেক বিপত্তির মধ্য দিয়ে যেতে হয়। আদম ব্যবসায়ী, দালাল, পাসপোর্ট তৈরী, মেডিক্যাল সহ বিভিন্ন যায়গায় ঠেকতে ঠেকতে প্রায় বিপর্যস্ত হয়ে যাত্রা শুরু করে। এর মধ্যে হারাতে হয় কৃষির জমি, অথবা বন্ধক রাখতে হয় সংসারের সবকিছু।

তৃতীয়ত অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে যদিওবা বিমানে উঠে তার নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌছায় কিন্তু সেখানেও বিপত্তি পিছু ছাড়ে না। হয়তো দেখা যায় ভুয়া কাগজপত্রের দ্বারা অথবা কোন কাজের ব্যবস্থা না করেই আদম ব্যবসায়ী বা দালালরা তাদেরকে বিদেশের মাটিতে এনে নামিয়ে দিয়েছে। তখন হয় ভাগ্য জোরে কোন কাজ বেআইনি ভাবে যোগার করা নয়তো সেইদেশের জেলখানায় পচে মরা ছাড়া অন্য কোন উপায় থাকে না।

জনশক্তি রপ্তানী ক্ষেত্রে সরকারের অনেক সংস্কারের প্রয়োজন। সুষ্ঠ নীতিমালা গ্রহন করে আমাদের দেশের সাধারন মানুষগুলোকে অযথা হয়রানির হাত থেকে রক্ষা করতে হবে। সৌদিআরবের মতো মালেয়েশিয়া এবং কুয়েতও বাংলাদেশ থেকে জনশক্তি রপ্তানীর উপর নিষেধাজ্ঞা জারী ছিলো। বর্তমান সরকার তার সফল কূটনৈতিক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে সেই নিষেধাজ্ঞা বা অবরোধ তুলে নিতে সফল হয়েছে। আমরা এখন অধীর আগ্রহ নিয়ে সরকারের এক কার্যকরী পদক্ষেপের আশায় দিন গুনছি। আমরা চাই না আর যেনো কোন ভাইকে সব হারিয়ে বিদেশের মাটি থেকে হতাশ হয়ে ফিরে আসতে হয়।