ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতা নেত্রীরা শুধু মাত্র নিজেদের ক্ষমতায় দেখতেই ভালোবাসেন এমন একটি কথা এখন সর্বত্র। আমরা জনগন সত্রুর মুখে ছাই দিয়ে এ কথাকে উড়িয়ে দিতে চাই সবসময়। আমরা আমাদের  নেতানেত্রীদের দেশপ্রেম নিয়ে কখনোই প্রশ্নবিদ্ধ করতে চাই না। কিন্তু তারপরেও ক্ষমতার জন্যে ক্ষমতায় যাওয়ার জন্যে জ্বলছে দেশ, জ্বলছে আমার স্বজন। ক্ষমতায় যাওয়ার উম্মত্ততা এতোই আগুনে পোড়া মানুষের হাহাজারী, মৃত্যু আর মৃত স্বজনদের হাহাজারি কোন কিছুই স্পর্শ করছে গুলশান  কার্যালয়ে অবস্থান রত আমাদের দেশের প্রায় ৩৮ শতাংশ মানুষের সমর্থিত দেশনেত্রীর। উনি এদেশের ৩৮ শতাং জনগোষ্ঠীর নেতা হয়েও সাধারন মানূষের আগুনে পুড়ে মরার যে যন্ত্রনা তা তাকে স্পর্শ করছে না।

এর মধ্যে উনার দলের কিছু উপদেষ্টা আছেন যারা কিনা আবার তার ক্ষমতায় যাওয়ার দিঙ্কখন পর্যন্ত বলে দিচ্ছেন সংবাদ মাধ্যমে। গতকাল আইনজীবী নেতা জয়নাল আবেদিন সাহেব বলেছেন আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি ক্ষমতার রদবদল হয়ে যাবে। অন্যদিকে রাস্ট্রবিজ্ঞানী এমাজউদ্দিন স্যার বলেছেন আগামী মার্চ এপ্রিলের মধ্যেই দৃশের পরিবর্তন আসবে। সেটা উনারা বলতেই পারেন। যেহেতু উনাদের দলের সৃষ্টি হয়েছিলো সামরিক বাহিনীর ছত্রছায়ায় পিছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতায় আসার মাধ্যমে। তাই তাদের কাছে সবই সম্ভব হয় বলে বিশেষজ্ঞজনেরা মনে করছেন। তবে আপাতদৃষ্টে জনগন বা কোন মহলই এমন কোন সম্ভাবনার পথ দেখছন না।

বাংলা লিক কিছু অডিও ইউটিউবের মাধ্যমে বাজারে ছেড়েছে, যে অডিও গুলোতে বেগম খালেদা  জিয়ার টেলিফোন সংলাপ ধারন করা আছে। এইসব টেলিফোনে বেগম খালেদা জিয়ার সুনির্দিষ্ট নির্দেশ ছিলো যে ঢাকা শহরে যেখানে যে অবস্থায় আছে তা সবকিছু অচল করে দিতে হবে।

২০১১ সালের ১৮ ডিসেম্বর বিএনপি আয়োজিত মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশের স্তল থেকে টেলিফোনে বেগম সাহেব এই ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের নির্দেশ দিয়েছিলেন বলেই টেলিফোনের কথোকপথনে ধরা পড়েছে। তার সেই টেলিফোন নির্দেশের পরে ঢাকা এবং সিলেট শহর সহ বিভিন্ন জায়গায় গাড়ী জ্বালিয়ে দেওয়া হয়।নিহত হয় একজন পথচারী। সংঘর্ষ ছড়িয়ে পরে অন্যান্য জেলা শহর গুলোতেও।

আমি এখানে দুই তিনটি টেলিফোনের কথোকপথন তুলে ধরছি পাঠকদের জন্যে। যদিও এই কথোকপথন গুলো ইতিমধ্যে সংবাদ মাধ্যমে চলে এসেছে, প্রকাশ পেয়েছে।

প্রথম টেপটিতে অন্য প্রান্ত থেকে খালেদা জিয়ার কাছে জানতে চাওয়া হয়- “ম্যাডাম, মুক্তিযোদ্ধাদের প্রোগ্রামটা কি অন থাকবে?”

তখন খালেদাকে বলতে শোনা যায়- “এখন পর্যন্ত অন থাকবে। কিন্তু ওখানে কেউ থাকবে না। ছেলে-পেলেরা সব রাস্তায় থাকবে। ভেতরে কাউকে আমি দেখতে চাই না। ছেলেরা সব রাস্তায় যাবে।”

ঢাকা মহানগর বিএনপির তৎকালীন আহ্বায়ক সাদেক হোসেন খোকা ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালামকে ‘লোক নামানোর’ নির্দেশও দিতে শোনা যায় খালেদাকে।

“খোকা আর সালামকে বলে দেন, বেশি করে লোক নামাতে। ওরা যদি লোক নামাতে না পারে, দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিক। আমি রাস্তায় লোক দেখতে চাই।”

এরপর খালেদাকে বলতে শোনা যায়- “আপনি কি ওদের সঙ্গে কথা বলেছেন।”

অন্য প্রান্ত থেকে যখন ‘জ্বি’ বলে আরও কিছু বলা শুরু হয়, তখন তাকে থামিয়ে দেন বিএনপি চেয়ারপারসন।

“না না, ওই যে, অন্যদের, আপনি যাদের সঙ্গে কথা বলেন। ওরা এখনো নামেনি কেন?…আরও নামাতে বলেন।

“আমাদের লোকজনদের বল, সব প্রেস ক্লাব ও ইঞ্জিনিয়ার (ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন) ছেড়ে রাস্তায় চলে যাও। কাউকে আমি ওখানে দেখতে চাই না। ওখানে শুধু মুক্তিযোদ্ধা যেগুলো আসছে, ওগুলো থাকবে। আর সব রাস্তায়।”

দ্বিতীয় কথোপকথনে তৎকালীন মহানগর বিএনপি সাধারণ সম্পাদক আবদুস সালামকে খালেদা বলেন, “তাড়াতাড়ি করে যত পার পাঠাও লোক। দেরি করো না, দেরি করলে অসুবিধা হয়ে যাবে। বুঝছ।”

তৃতীয় কথোপকথনে বিএনপির জোটসঙ্গী জামায়াতে ইসলামীকে সক্রিয় করতে একজনকে নির্দেশ দেন খালেদা।

“জামায়াতকে বলেন, ওদের লোকজন নামাই দিতে বলেন। শুধু ঢাকায় না, সব জায়গায়।… আর মৃদুলকে বলেন যে ও ওর জায়গাটা ভাল করে করতে।”

চতুর্থ কথোপকথনটি খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাদেক হোসেন খোকার।

খালেদা বলেন, “আপনার কমিশনারদের বলুন, যার যার এলাকায় নিয়ে যাক। রাস্তাগুলো ব্লক করে দিক আর কী।…এলাকা ভিত্তিক।”

পঞ্চমটিতে চট্টগ্রামের গোলাম আকবর খন্দকারের সঙ্গে চট্টগ্রাম মহানগর কমিটি নিয়ে কথা বলেন, যাতে নগর বিএনপির সভাপতি আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসেনের নাম এসেছে।

খালেদাকে বলতে শোনা যায়, “শাহাদাতকে বলেছি, একটা কাজের দায়িত্ব দিয়েছি। খসরু যেন কোনো কাজে বাধা না দেয়, তাকে এই মেসেজ দেন।”

অন্য প্রান্ত থেকে কিছু বলতে চাইলে খালেদা বেশ জোরের সঙ্গে বলেন, “সে বাধা দিচ্ছে, আপনি তাকে বলে দেন। বলে দেন যে কোনো কাজে বাধা দেবে না। বাধা দিলে আমি ইমিডিয়েটলি রিমুভ করব তাকে।

এক পর্যায়ে অন্য প্রান্তের ব্যক্তির ওপর বিরক্ত হয়ে খালেদা বলেন, “আপনি ডিপ্লোমেট (গোলাম আকবর খন্দকার খালেদার শাসনামলে ওমানের রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করেন) ছিলেন, বাট ইউ ডোন্ট নো হাউ টু টক।

“আপনি ইমিডিয়েটলি খসরুকে বলেন, কোনো বাধা দেবে না, বুঝছেন কি না।”(সুত্রঃ বিডিনিউজ২৪)

অতএব বিশ্লেষক দের মতে ৫ই জানুয়ারী ২০১৫ এর নির্বাচন বা নির্বাচন ব্যবস্থা কোন ঘটনা নয় বেগম খালেদা জিয়া পুরো দেশটাকে পাকিস্তানের মতো করে তুলতে চাইছেন বলেই এখানে প্রতীয়মান হচ্ছে।। এই সব কথোকপথন দ্বারা একটা কথাই স্পষ্ট হয় তা হলো ক্ষমতা যাওয়া বা না যাওয়া নয় এদেশের স্বাধীনতা বিরোধীদের সঙ্গে নিয়ে এদেশের ৭১ এর বিজয়কে ম্লান করে দেওয়ার পরিকল্পনাই হচ্ছে আসল লক্ষ্য।

এই টেলিফোনের কথা যদি সত্যি হয় তাহলে সরকার নয় জনগনই নির্ধারণ করতে পারবে এই বিরোধীদলের জন্যে জনগনের কি উপহার থাকা উচিত। যে দেশনেত্রী জনগনকে, জনগনের জানমাল নিয়ে এমন ধ্বংসাত্মক নির্দেশ দিতে পারেন তাঁর এবং তাঁর দল – জোটের কাছ থেকে মানুষ আর কি ভালো আশা করতে পারে!

জনগন তারপরেও আশায় বুক বাধছে এইসব টেলিফোনের কথোকপথন যেনো সত্যি না হয়। আমরা বরতমান দুই রাজনৈতিক শক্তির বিরোধীতা করতে পারি কিন্তু যদি দলগুলো এবং তাদের নেতা নেত্রীরা সাধারন মানুষের জিবঙ্কে তাদের ক্ষমতায় যাওয়ার শুধুই সোপান মনে করেন তাহলে তাদেরদিক থেকে ঘৃণায় মুখ ফিরিয়ে নেওয়া ছাড়া অন্য কোন পথ থাকবে না বলেই মনে করেন সচেতন সমাজ।