ক্যাটেগরিঃ ব্লগালোচনা

গত ২রা ফেব্রুয়ারী ২০১৫ শাহবাগের প্রজন্ম চত্বরে অনুষ্ঠিত হলো ব্লগ দিবস। ব্লগার এন্ড অনলাইন এক্টীভিষ্ট নেটওয়ার্ক (বোয়ান) এই দিবসটি পালন করে আসছে গত কয়েকবছর ধরে। বোয়ান বাংলাদেশের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী আন্দোলনের সুচনা করে সারা পৃথিবীর মানুষকে জানিয়ে দিয়েছিলো বাংলাদেশের মানুষ এখনো তার ৭১ কে ভুলে নাই। বাংলাদেশের মানুষ ৩০ লাখ শহীদের রক্তের সাথে বেইমানী করতে জানেনা। সেই কথার প্রমান দিয়ে শাহবাগের চত্বরকে গুটিকয়েক ব্লগার এক্টিভিষ্ট ইতিহাসের অংশে পরিনিত করে দিয়েছে।

গতকালের সমাবেশ খুব বড়ো কিছু ছিলো না। এবং সেইসাথে মনে হয়েছে যে কয়েকজন ব্লগার মিলে যে সংঘঠন টি প্রতিষ্ঠা করেছেন তারা নিজেদের নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে চান। ব্লগার দিবস পালন করার জন্যে যে পরিমান প্রচার প্রচারনা প্রয়োজন ছিলো সেটাও ছোখে পড়ার মতো নয়। আমি নিয়মিত শাহবাগে একবার হলেও যাই কিন্তু গত দুইদিনে কোন প্রচার বা প্রচারনা চোখে অরে নি বলেই মনে হয়েছে।

দ্বিতীয়ত ব্লগার দিবসের অনুষ্ঠানে উপস্থাপক বা সভাপতি বা যে কয়েকজন বক্তা বক্তৃতা দিলেন তাদের প্রত্যেকের বক্তব্যই সুন্দর ছিলো একথা বলাই বাহুল্য কিন্তু আশ্চয্যজনক সত্য হলো এই যে শাহবাগ আন্দোলনকে সফল করতে, এর পিছনে শ্রম দিয়ে দাড় করাতে যেয়ে যে কয়েকজন ব্লগারকে প্রাণ দিতে হয়েছে বা হামলা শিকার হয়ে বহদিন হাসপাতালের বেডে যন্ত্রনায় ছটফট করতে হয়েছে তাদের কথা কেউ বলেন নাই। কেউ একবারের জন্যে তাদের আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নিরবতাও পালনের উদ্যোগ নেন নাই।

আন্দোলনের শুরুতে যে কয়েকজন উদ্যোক্তা থাকেন পরবর্তীতে অনেক সময় এই উদ্যোক্তাদের মধ্যে বিভাজন আসতেই পারে। নীতি বা আদর্শের মিল থেকেই কিন্তু এই আন্দোলন শুরু হয়েছিলো এবং আন্দোলনের প্রায় প্রথমদিকেই এই সব ব্লগারদের জীবন দিতে হয়েছিলো। তাই তাদের স্মরন করার মধ্যে যদি কার্পণ্য থাকে তাহলে ব্লগারদের এই দিবস পালনের জন্যে এতো ঘটা করার কোন যৌক্তিকতা থাকতে পারে না বলেই মনে হয়।

বাংলাদেশে বিশেষ করে ঢাকা শহরে কিছু পাকিস্তানী ভাবধারার বা স্বাধীনতা বিরোধী লোক বা গোষ্ঠী ছাড়া ব্লগারের সংখ্যা এখন অনেক। এবং অনেকেই বোয়ানের ফেসবুক আইডিতে লাইক দিয়ে সংহতি প্রকাশের মধ্য দিয়ে সংঘঠন এর সদস্য হবার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। কিন্তু আমাদের কাছে মনে হয়েছে এই সংঘঠনটি নিজেদের কয়েকজনকে নিয়েই থাকতে পছন্দ করে। সেই স্বাধীনতা তাদের থাকতেই পারে কিন্তু এই কথাও তাদের স্মরনে রাখা উচিত আপনারা একটি আন্দোলনের ডাক দিয়েছিলেন এবং বাংলার মানুষ আপনাদের না চিনেই সেই ডাকে সাড়া দিয়েছিলো। জনগনের অংশগ্রহনে এবং ভালোবাসায় সরকার বাধ্য হয়েছিলো খুনি রাযাকার কাদেরের ফাঁসীর রায় দিয়ে কায্যকর করতে। জনগনের সেইদিনের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণই ছিলো আপনাদের সাফল্যের মুল চাবিকাঠি। সেই সাফল্যই আপনাদের নিয়ে গেছে এক ঐতিহাসিক দায়িত্ববোধের জায়গায়। এবং আমাদের মনে হয় সেই ঐতিহাসিক দায়িত্ব থেকে সরে আসার আর কোন পথ নেই।

এই দায়িত্ববোধের কথা মাথায় রেখেই ভবিষ্যতে আপনাদের এই দিবস টি আরো সুন্দরভাবে পালন করবেন  এই প্রত্যাশা আমাদের সবার। আসুন আমরা যারা মুক্তিযুদ্ধের কথা বলি, যারা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান এবং যারা এই দেশে মাত্র একটাই পক্ষ থাকবে এই বিশ্বাস নিয়ে দেশকে গড়তে চায় তাদের নিয়ে মহাসমাহরে আগামী ব্লগ দিবসটি পালনের উদ্যোগ নিন। শ্লোগান হোক বিরোধী দল বা সরকারী দল সবাইকেই মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি হতে হবে।এছাড়া স্বাধীন বাংলাদেশে কারো রাজনীতি করার অধিকার থাকবে না।