ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 
34_Yunus_CTG_171013

পুড়ছে মানষ, পুড়ছে দেশ। সেই সাথে পুড়ছে মানুষের প্রতিদিনের স্বপ্ন গুলোও। বাংলাদেশের মানুষ খুব অল্পেতেই সন্তুষ্ট হতে পারে। তাই বিশ্বের অন্যান্য অনেক দেশের চেয়ে অর্থনৈতিক ভাবে পিছিয়ে থেকেও সুখী মানুষ হিসাবে বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে। দু’বেলা দু’মুঠো মোটা চালের ভাত আর ডালের ব্যবস্থা করে উঠতে পারলেই আর কোন চিন্তা থাকে না যে দেশের মানুষের সেই দেশের মানুষগুলোই আজ দিশেহারা, উদ্বিগ্ন আর চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছে। স্বজন বাড়ির বাহিরে গেলেই প্রতিক্ষন কাটে অনিশ্চয়তায়। স্বজন কি ফিরে আসবে সুস্থ্যভাবে নাকি আগুনে পূড়ে কয়লা হয়ে।

এইরকম এক চরম দুর্দশায় যখন বাংলাদেশের মানুষের দিন কাটছে তখন আমাদের দেশের একমাত্র নোবেল বিজয়ী শান্তির দুত ডঃ মুহাম্মদ ইউনূস সাহেব বিদেশের মাটিতে সামাজিক ব্যবসা আর তার ক্ষুদ্র ঋণ ব্যবস্থা নিয়ে সেমিনার করে বেড়াচ্ছেন। এ যেন নিজের ঘরে অন্ধকার রেখে পরের ঘরের আলো জ্বেলে বেড়ানো।

আমাদের দেশের জিন্য সবচেয়ে বড়ো সুনাম বয়ে নিয়ে এসেছেন এতেই আমরা ধন্য হয়ে গেছি এই কথা চিন্তা করেই হয়তো তিনি অন্যান্য দেশকে ধন্য করার জন্যে কাজ করে বেড়াচ্ছেন। উনি শান্তির দুত, শান্তির জন্যে বিশ্ব মাতব্বর রা উনাকে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার দিয়ে দিয়েছেন। অথচ নিজের দেশের উনার একজন প্রিয় নেতৃত্ব ক্ষমতায় যাওয়ার জন্যে দেশের মানুষকে পুড়িয়ে মারার নির্দেশ দিচ্ছেন, সেই নির্দেশ অনুযায়ী একদল হায়েনা সারাদেশে চোরের মতো বাসে, ট্রাকে আর ট্রেনে আগুন দিয়ে মানুষ মেরে ফেলছে। অথচ তিনি কোন টু শব্দটি পর্যন্ত করছেন না। এটাই সবচেয়ে বিস্ময়কর ব্যাপার হয়ে দাড়িয়েছে।

সরকার যখন নিয়মানুযায়ী গ্রামীন ব্যাংকের পরিচালনা বোর্ড থেকে তাকে সরিয়ে দিলো তখন তিনি সারা বিশ্বের সকল নেতাদের কাছে ধর্না দিলেন। সরকারের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুললেন। এমনকি শেখ হাসিনা সরকারকে সরিয়ে দেওয়ার মহান কাজেও মাঠে নেমে পড়লেন। বাংলাদেশের গরীব মানুষের প্রতিষ্ঠান নিয়ে সরকার ছিনিমিনি খেলছে এই অভিযোগে অভিযুক্ত করলেন সরকারকে। কিন্তু আজ যখন সারা বাংলাদেশ বার্ন ইউনিটে পরিনত হওয়ার পথে, মানুষ জন আগুনে বোমার আতঙ্কে দিশেহারা। তখন একটি সাধারন বিবৃতিও তিনি দিতে পারছেন না। কেনো পারছেন না সেতাই আজ দেশবাসী জানতে চায়।

এর আগেও ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারি নির্বাচন ঠেকানোর নামে যে তাণ্ডব এবং যুদ্ধাপরাধীদের রায়ের প্রতিক্রিয়ায় জামাত-শিবির যে তাণ্ডব চালিয়েছিল সেই সময়ও এই শান্তির নোবেল বিজয়ীর কোন প্রতিবাদ আমরা দেখতে পাইনি। তবে ধরে নেওয়া যায় যে শান্তির নোবেল জয়ী এই শান্তির দুত জামাত শিবিরের এই হত্যা, নির্যাতন, বিএনপির আগুন দিয়ে মানুষ মারা তিনি সমর্থন করেন।

এই শান্তির দূতের অনেক কিছুই শোনা যায়, অনেক কৃতির কথা শোনা যায় কিন্তু ’৭১ সালে উনি কোথায় ছিলেন বা তার কি ভুমিকা ছিলো তা আমাদের জানা নেই বললেই চলে। এ ব্যাপারে কোথাও কোন বিবরন আমরা দেখেছি বলে মনে পড়ছে না। হয়তো আছে বা নেই। কিন্তু এটাও তো সত্যি এতো বড়ো মাপের একজন ব্যক্তিত্ব তার আমাদের দেশের স্বাধীণতায় কি ভুমিকা ছিলো তা জাতির জানা থাকবে না এইতা তো হতে পারে না। বিশেষজ্ঞদের মতে এই দুর্যোগের সময় বা যুধাপরাধীদের রায়কে কেন্দ্র করে যে হত্যা নির্যাতন হয়েছে সাম্প্রতিক কালে সে ব্যাপারে তার নিশ্চুপ থাকার কারন অই একাত্তরের ভুমিকা থেকেই পরিস্কার হয়ে যাবে।