ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

আর ভালো লাগে না। দিনের পর দিন শুধু দুঃসংবাদে আর মৃত্যুর খবরে আমাদের সবকিছুই ম্লান হয়ে যাচ্ছে। ফেব্রুয়ারি মাস এলেই মানুষ বইমেলা, বাংলাভাষার জন্যে গর্ব, ভালোবাসা দিবস আর ফাগুনের পলাশ শিমুলের রাঙ্গা রঙ্গে মনটা কে রাঙ্গিয়ে নিয়ে নতুন ভাবে বেঁচে থাকার মনের খোরাক যুগিয়ে নেয়। নয়তো নতুন কোন অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হয়ে উঠার শপথ গ্রহন করে বিজয়ের পথে এগিয়ে চলে।

‘৫২ এরপর হতে বার বার এই ফেব্রুয়ারী মাস বাঙ্গালীর জীবনে এসেছে শপথ নেওয়ার মাস হিসেবে, বিজয় ছিনিয়ে আনার মাস হিসেবে। এবার সেই মাস এসেছে বাংলাদেশে। অথচ কারো মুখে হাসি নেই, আনন্দ নেই, বিজয় ছিনিয়ে আনার শপথ নেবার গরজ নেই।

সংবাদপত্রগুলো ব্যস্ত মানুষের পুড়ে যাওয়ার খবর নিয়ে, মানুষের নৃশংস ঝলছে যাওয়ার সংবাদে, ক্ষমতায় যাওয়া আর ক্ষমতায় আসার নির্মম প্রতিযোগিতায় মানুষের নাভিশ্বাস উঠার হাহাকারের সচিত্র প্রতিবেদনে। জানুয়ারী মাস শেষ ফেব্রুয়ারী মাস পার হতে চলেছে। বাচ্চাদের স্কুলে ক্লাস নেই, পড়াশুনা নেই, এই সময়টাতে বার্ষিক ক্রীড়ানুষ্ঠান, সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা নেই এমন কি বার্ষিক মিলাদ মাহফিল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হতে পারেনি। এইসব হয়নাই হয়নাই খবরেই সংবাদপত্রের পাতা গুলো ভরে উঠছে। এযেন একটি রাষ্ট্রের হাটি হাটি পা পা করে অকার্যকর রাষ্ট্রের পথে এগিয়ে চলা। যেন আমাদের দেশের আর কোন খবর নেই, খবর থাকতে পারে না।

বাংলাদেশ প্রায় বঙ্গবন্ধু গোল্ড কাপ ফুটবলের সেমিফাইনালে থাইল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে, সাকিব আবার বিশ্বের সেরা অলরাউন্ডারদের সেরা হয়েছে, সউদি আরব প্রায় বিশ লক্ষাধিক শ্রমিক নিবে, কুড়িগ্রামের কৃষকরা এই বোমাবাজী, হরতাল অবরোধের মধ্যেও বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রার দিকে এগিয়ে চলেছে, পঞ্চগড়ের ১৮টি শুকিয়ে যাওয়া নদীর চরে প্রায় এক হাজার ভুমিহীন কৃষক প্রায় ১৭০ হেক্টর জমিতে ইরি চাষ করেছে। এখানে অবশ্যই জেনে রাখা ভালো পঞ্চগড়ের এই ১৮টি নদীই ভারতে খন্ডে বাধ দেওয়ায় প্রায় শুকিয়ে গেছে। সেই শুকনো নদীর চরেই আমাদের দেশের কৃষক ফসল ফলাচ্ছে। এসবই ভালো সংবাদ, এ সবই মানুষকে বিপদের মধ্যে আলো দেখানোর সংবাদ। অথচ এই সব সংবাদ প্রচারে ইলেকট্রনিক মিডিয়া সহ অন্যান্য প্রিন্ট মিডিয়া খুবই খাপছারা ভাবে দায়ছাড়া ভাবে পরিবেশন করে শুধু মানুষের নাজেহাল হওয়ার খবর পরিবেশন করছে।

আমাদের দেশের মিডিয়া জগত ইচ্ছে করলেই এই বোমাবাজি আর মানুষের আগুনে পুড়িয়ে মারার সংবাদ  বন্ধ করে দিতে পারে। এই মিডিয়া যদি বলে আন্দোলনের নামে যারা মানুষ পুড়িয়ে মারছে তাদের কোন সংবাদ প্রকাশ হবে না, পর্দায় দেখানো হবে না, যে হরতাল অবরোধ মানুষের জীবন কেড়ে নেয় সেই হরতাল অবরোধের খবর প্রকাশ হবে না। তাহলে মনে হয় এই নৃশংসতার হাত থেকে জাতি কিছুটা রেহাই পেতে পারে। সহিংসতা বন্ধে শুধু সরকারকেই পদক্ষেপ নিতে হবে এমন কথা কোথাও লেখা নেই। সংবাদপত্রে বা ইলেকট্রনিক পর্দায় এইসব নৃশংসতার সংবাদ যত বেশী প্রচার হয় নাশকতাকারীরা আরো বেশী উৎসাহী হয়ে উঠে।

একটি কথা সবারই মনে রাখা উচিত গনতান্ত্রিক আন্দোলনে সন্ত্রাসের কোন জায়গা থাকে না। গনতন্ত্র উদ্ধারে মানুষ পুড়িয়ে মারার ইতিহাস নেই। বরঞ্চ গনতান্ত্রিক আন্দোলনে মানুষের পুলিশের গুলিতে সাধারন মানুষের মারা যাওয়ার ইতিহাসই স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকে।

আমাদের দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাস, বুকের রক্তে দাবী আদায়ের ইতিহাস। স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনেও আমরা বুকের রক্ত দিয়েছি কিন্তু কারো জীবন কেড়ে নেয়া হয় নি। নুর হোসেন, জেহাদ, মোজাম্মেল আর ডাঃ মিলন সহ অসংখ্য শহীদের রক্তের বিনিময়ে স্বৈরাচার কে বিদায় দিয়ে বিজয় এসেছিলো। সেই নয়বছরের আন্দোলনে কিন্তু একটি ঢিলও ছোড়া হয় নাই জনগন কে লক্ষ্য করে। আমি জনগনের ভোটের দাবীতে আন্দোলন করবো আবার সেই আন্দোলনে জনগনকেই পুড়ীয়ে মারবো এ কেমন আন্দোলনের ধারা সেটাই বোঝা মুশকিল ।

আসুন আমার সবাই মিলে এই মানুষ মারা আন্দোলনকে, হরতাল অবরোধকে বয়কট করি, এইসব মানূষ মারার নৃশংসতার সংবাদ গুলোকে প্রকাশ না করে ভালো আর পজেটিভ বাংলাদেশের সংবাদে সংবাদপত্র আর ইলেকট্রনিক মিডিয়ার পর্দা ভরিয়ে তুলি। বাংলাদেশ ৭১ এ যে বিজয় ছিনিয়ে এনেছিলো সেই বিজয় কখনোই গুটিকয়েক ক্ষমতালোভী রাজনৈতিক দলের ষড়যন্ত্রে বৃথা হতে দেওয়া যায় না।