ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

ডঃ কামাল এবং তার উদ্যোগে সংলাপের কথা শুনে মানুষের ১৯৬৫ সালের পাক – ভারত যুদ্ধের তাসখন্দ চুক্তির কথা মনে পড়ছে। যুদ্ধে যখন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর নাস্তানাবুদ অবস্থা এবং পরাজন্যের দ্বারপ্রান্তে,  তখনি পাকিস্তান সরকার যুদ্ধ বিরতির জন্যে সোভিয়েত সরকারের শরনাপন্ন হয়ে মান বাচানোর চেষ্টা করে এবং তাসখন্দ চুক্তি করতে সফল হয়, এতে করে ভারত যুদ্ধে এগিয়ে থাকলেও  রাজনৈতিকভাবে এবং মনস্তাত্ত্বিক ভাবে পিছিয়ে পরে।

আজ প্রায় ৫০ বছর পর ডঃ সাহেবরা একই রাস্তায় চলে বিএনপি এবং জামাত জোটকে প্রাজয়ের গ্লানি থেকে বাচানোর চেষ্টা শুরু করেছেন।সরকার যখন কঠোর হস্তে সন্ত্রাসবাদী আন্দোলনকে দমনের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহন করলো। আগুনে বোমার হামলা যখন সত্যিকার অর্থেই বিরোধীদলের আন্দোলনের পালে হাওয়া লাগাতে ব্যর্থ হচ্ছে তখন ডঃ কামাল হোসেন সাহেব তার সঙ্গীসাথী নিয়ে সংলাপের উদ্যোগ নিলেন। এ উদ্যোগ আগুনে বোমার হাত থেকে মানুষকে বাচানোর জন্যে নয়। এ উদ্যোগ বিএনপি এবং তার ২০ দলীয় জোটের আন্দোলনের ব্যর্থতার অপমান থেকে বাচানোর জন্যেই প্রতীয়মান হচ্ছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। যদি তাই না হবে তাহলে গত ছত্রিশ দিন ধরে প্রতিদিন আগুন বোমার আঘাতে দেড় শতাধিক মানুষ মারা যাওয়ার সময় কেনো নিলেন না। পরিস্থিতি যখন আইন শৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর হস্তক্ষেপে স্বাভাবিক হওয়ার পর্যায়ে ঠিক তখনোই ডঃ সাহেব এবং উনার সুশীল সমাজ ব্যস্ত হয়ে পড়লেন সংলাপের উদ্যোগ নিতে।

কামাল সাহেব নিজেদের নিরেপেক্ষ প্রমাণের জন্যে সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার সামসুল হুদা সাহেবের মতো কিছু নির্বিবাদী মানুষকে সঙ্গে নিয়ে সংলাপ উদ্যোগ গ্রহন করেছেন।

আমেরিকায় অবস্থানরত বিএনপির নেতা ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকা যখন একই সময় বলেন সংলাপের উদ্যোগ নিলেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে ঠিক সেইসময় ডঃ কামাল সাহেবের সংলাপের জন্য দৌড়ঝাপ মানুষের মনে প্রশ্নের উদ্রেক করেছে।

সাবেক মেয়রের বক্তব্য অনুযায়ী এখানে দুটো বিষয় পরিস্কার। এতোদিন বিএনপি বলে আসছিলো এইসব আগুনে বোমা মেরে মানুষ আওয়ামী লীগ মারছে। এখন খোকা সাহেবের কথায় এই আওয়ামীলীগের উপর দোষ দেওয়াটা মিথ্যা প্রমাণিত হলো এবং বিএনপি জামাত জোট যে এইসব হত্যাকান্ড ঘটাচ্ছে সেটা আজ দিনের আলোর মতো পরিস্কার হয়ে গেলো।

খোকা সাহেবের এই স্বীকারোক্তি থেকে পরিস্কার ডঃ কামাল সাহেব বেগম খালেদা জিয়ার ব্যর্থতা ঢাকতেই তড়িঘড়ি করে কিছু নিরেপেক্ষ মানুষকে নিজেদের সঙ্গে রেখে দ্রুত সংলাপের উদ্যোগ নিয়েছেন।

জনগনের কথা গত ছত্রিশ দিনে যেসব মানুষ আগুনে পুড়ে মারা গেলো, যারা আগুনে পুড়ে হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে এখনো যন্ত্রনায় ছটফট করছে, গত দিনগুলোতে যে পঁচাত্তর হাজার কোটি টাকার জাতীয় আয়ের ক্ষতি, প্রানের ক্ষতিপুরন কে দিবে? আপনাদের সংলাপ মানেই তো এতোগুলো সাধারন মানুষের হত্যার বিচার না হওয়া।

ডঃ কামাল তার আয়োজিত সভায় বলেছেন যারা সুশীল সমাজের স্মালোচনা করেন তারা অজ্ঞ। অবিবেচক। সুশীল সমাজ ভালো কি মন্দ সে বিচারে জনগনের কিছু যায় আসে না। যে জ্ঞান বা সমাজ উট পাখীর মতো বালুতে মুখ গুজে থেকে ঝড়ের মোকাবেলা করতে চায় জনগন সেই জ্ঞান এবং সমাজের সমালোচনা করবেই। কাকের মতো চোখ বুজে যদি মনে করেন আমি কিছু দেখি নাই অতএব পৃথিবীরও কেউ কিছু দেখেনি। সেটা বিবেচনা প্রসুত হয় না বলেই  সাধারন মানুষের তাদের উপর থেকে নির্ভরতা হারিয়ে গেছে।

গত একমাস ছয়দিন ধরে প্রতিদিন বিএনপি এবং তার বিশ দলীয় জোট আগুনে বোমা মেরে প্রায় দেড় শতাধিক মানুষকে হত্যা করলো, হাজার খানেক মানুষকে আহত করে হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে যন্ত্রনায় করেছে, কোটি কোটি টাকার সম্পদ পুড়িয়ে দিলো কিন্তু আমাদের সুশীল সমাজের বিদগ্ধ জনেরা চোখেও দেখলেন না, কানেও শুনলেন না। আর যখনই সরকার দেশটাকে এই সন্ত্রাশের হাত রক্ষা করতে কঠোর অবস্থানে গেলো তখনি উনারা সংলাপের জন্য উদ্গ্রীব হয়ে উঠলেন, মানবতা গেলো মানবতা গেলো বলে চিৎকার শুরু করে দিলেন। জনগন এই ধরনের সুশীলদের আর চায় না।

পাক ভারত যুদ্ধের বিরতি হয়েছিলো ঠিকই কিন্তু সংঘাত থেমে থাকে নি। আপনার সংলাপ দিয়ে আপাতত বিএনপির মান বাচাতে পারবেন কিন্তু সন্ত্রাসের যে সিন্দাবাদের দৈত বিএনপি এবং দেশনেত্রী খালেদার ঘাড়ে চেপেছে তার বিনাশ আমাদের করতেই হবে। নচেৎ বাংলাদেশকে একটি অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিনত করার যে চক্রান্ত শুরু হয়েছে তা থামবে না।