ক্যাটেগরিঃ কৃষি, ফিচার পোস্ট আর্কাইভ

 
01_Palash_Flower_120215_0018

ফুল ফুটুক আর নাই ফুটুক আজ বসন্ত।পৃথিবীর জলবায়ু পরিবর্তনের আবর্তনে ঋতুরাজ বসন্ত এলেই যে গাছে গাছে ফুলের সমারোহে ভরে যাবে সেটা আজ প্রায় হয় না বললেই চলে।তবু বসন্ত আসে, আসে পলাশ শিমুল ফোটার দিন।আগে বাংলাদেশের সমস্ত জায়গায় পলাশের আর শিমুলের ফুলের ছড়াছড়ি ছিলো।সেই পলাশের আর শিমুলের ফুলের আজ ভীষণ দুস্প্রাপ্যতা।যে ফুল ছিলো সাধারন মানুষের প্রেম ভালোবাসা, বিয়ে আর আনুষ্ঠানিকতার সেই ফুল হয়েছে সহজলভ্য, হয়েছে নিত্যদিনের সঙ্গী।আর এটা সম্ভব হয়ে উঠেছে আমাদের দেশের সাধারন ফুলচাষীদের কল্যানে।

সুখবর হলো বাংলাদেশে এখন বানিজ্যিকভাবে ফুলের চাষ হয়। সারা বছর ধরে বাংলাদেশের ফুলের দোকান গুলোতে হরেকরকমের ফুলের সমাহার।ফুলের বানিজ্যিক চাষ এবং এর বাজারজাতকরন একসময় বাংলাদেশের মানুষ কল্পনাই করতে পারতো না। মনে এই সেদিনও একুশে ফেব্রুয়ারী বা অন্য কোন পুজা পার্বণে বা কোন অনুষ্ঠানে ফুলের চাহিদা মেটানো হতো শখের বাগান থেকে সংগ্রহ করে। দেবদারু পাতার গেট বা কাগজের ফুলই ছিলো গ্রামাঞ্চলের অনুষ্ঠানে সাজানোর একমাত্র উপকরন। সেই জায়গায় আজ শহর, নগর, গ্রাম গঞ্জ এমনকি পাড়া গাওয়েও এখন ফুল হচ্ছে সাজানো অন্যতম উপকরন।

শুদ্ধতা, পবিত্রতা ও সৌন্দর্য়ের প্রতীক ফুল এখন অত্যন্ত বাণিজ্যিক পণ্য। এক অনুসন্ধানে জানা গেছে, সারা দেশে ফুল চাষ ও ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করছে ১০ লাখেরও বেশি মানুষ। অন্যদিকে একমাত্র রাজধানীতেই ফুল বিক্রির ওপর ৩০ হাজারের বেশি মানুষের জীবিকা নির্বাহ করছে। ফুল চাষ ও ব্যবসায় সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে পাওয়া গেছে এসব তথ্য। শুধু শাহবাগেই প্রতিদিন বিক্রি হচ্ছে ২০ লক্ষাধিক টাকার ফুল। শাহবাগসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় রয়েছে পাঁচ শতাধিকের উপর ফুলের দোকান। এসব দোকান ও ভাসমান ফুল বিক্রেতা মিলে রাজধানীতে প্রতিদিন বেচাকেনা হয় আড়াই থেকে তিন কোটি টাকার ফুল । আর বিশেষ দিবসে এই অঙ্ক বেড়ে চলে যায় ১২ থেকে ১৫ কোটি টাকায়। গুলশান, বনানী ও বেইলী রোডে গড়ে উঠেছে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ফুলের দোকান। নির্ধারিত দোকান ছাড়াও রাজধানীর বিজয় সরণি, শাহবাগ, বিজয় নগর, ধানমন্ডিসহ ভিআইপি ট্রাফিক সিগন্যাল পয়েন্টে এবং বড় বড় বিপণি বিতানের সামনে অনেক পথশিশু ফুল বিক্রি করে। এরা প্রতিদিন ফুল বিক্রি করে আয় করে দুই থেকে তিনশ টাকা।(সুত্রঃ দৈনিক বাংলাদেশ সময়)

রাজধানীতে প্রতিদিন খামারবাড়ি ও শাহবাগে বসছে ফুলের পাইকারি বাজার। গোলাপ, রজনীগন্ধা, গাঁদা, অর্কিড, গ্লাডিওলাস, কামিনী, বকুল, দোলনচাঁপা, পদ্ম, জিপসিসহ  আরো নানা ধরনের বাহারি ফুলে ঠাসা এই বাজারগুলো। এসব বাজারে রয়েছে নানা ধরনের গাছের পাতার কদরও। দেবদারু পাতা, কামিনী ফুলের পাতা, মেহগনি পাতা এবং বেত ও ঝাউ গাছের পাতা বিক্রি হচ্ছে এখানে।
ভোর রাত থেকেই দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে এসব পাইকারী বাজারে ফুল আসতে শুরু করে। দুই থেকে তিন ধাপে চলে বেচাকেনা। প্রথম ধাপে বেচাকেনা চলে সকাল ১০টা পর্যন্ত। দ্বিতীয় ধাপে চলে বেলা ১১টা পর্যন্ত আর তৃতীয় ধাপে দুপুর ১টা থেকে ২টা পর্যন্ত কিছু ফুল বেচাকেনা হয় একেবারেই খুচরা বিক্রেতাদের কাছে।

বাংলাদেশে উৎপাদিত ফুল শুধুমাত্র দেশেরই চাহিদা মেটাচ্ছে না বরঞ্চ বিদেশে রপ্তানী করেও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে বিশেষ ভুমিকা রাখছে। দুবাই, কাতার, ওমান, সৌদি আরব, কুয়েতসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে বছরে শত কোটি টাকার ফুল রফতানি হচ্ছে। রফতানির জন্য বেশি চাহিদা রজনীগন্ধা, গ্লাডিউলাস ও গোলাপের।

বাংলাদেশে মুলত ১৯টি জেলায় বানিজ্যিকভাবে ফুলের চাষ হয়।জেলাগুলোর মধ্যে যশোর, ঝিনাইদহ, সাতক্ষীরা, রাজবাড়ী, মানিকগঞ্জ, গাজীপুর, বগুড়া, রাজশাহী, সিলেট, ময়মনসিংহ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কঙ্বাজার, নারায়ণগঞ্জ ও চুয়াডাঙ্গা অন্যতম। তবে দেশে বাণিজ্যিকভাবে ফুল চাষের পথিকৃৎ জেলা হলো যশোর। বর্তমানে সারাদেশের চাহিদার ৫০ থেকে ৬০ ভাগ ফুল এই জেলা থেকে সরবরাহ করা হয়। ফুল চাষের ফলে এসব জেলার গ্রামের নারীদেরও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। তাছাড়া ফুলের ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাঁশ বেত শিল্প। এভাবে সারা দেশে দশ লাখের বেশি মানুষ ফুল চাষ ও ব্যবসার সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িয়ে জীবন জীবিকা নির্বাহ করছে। এই ফুলের ব্যবসা কে কেন্দ্র করে বাঁশ, বেত, বিভিন্ন ধরনের ফিতা, রাবার ব্যান্ড এবং সুতলি ও গাম টেপ ব্যবসারও প্রভুত উন্নয়ন সাধিত হচ্ছে।

এই যে প্রতিদিনের ফুলের ব্যবসা এরজন্যে কোন নীতিমালা নেই। নেই কোন জায়গার বরাদ্দ। শাহবাগ এবং ফার্মগেটের খামাড়বাড়ীতে গড়ে উঠা পাইকারী বাজারের নেই কোন অবকাঠামোগত সুবিধা। নিত্যদিনের বাজারে কোন না কোন ঝগড়া ফ্যাসাদ লেগেই আছে নির্দিষ্ট কোন বসার জায়গা না থাকায়।