ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

বিএনপি নেত্রী নিজের এবং তার দলের কফিনে মনে হয় শেষ পেরেকটি নিজেই ঠুকে দিলেন। দেশে বিদেশে নানা দিক থেকে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতা কে নিয়ে একটা সমাধানের উদ্যোগ গ্রহনের চেষ্টা চলে আসছিলো। যদিও সরকার এবং বিজ্ঞজনেরা এই বর্তমান অস্থিরতা কে রাজনৈতিক অস্থিরতা বলে মানতে নারাজ। তারপরেও দেশ এবং দশের নিরাপত্তার কথা ভেবে একটি সমাধানের লক্ষ্যে সংলাপ করার ব্যাপারে কোন দ্বিমত পোষন করেন নাই। সরকার বলেছে থিক আছে এতো মানুষের মৃত্যুর পরেও সংলাপ হতে পারে কিন্তু তার আগে মানুষ মারা বন্ধ করতে হবে।

এই অবস্থায় বিএনপি চেয়ারপারসন সংলাপের উদ্যোগে সাড়া না দিয়ে সংলাপ উদ্যোগকে নাকচ করে দিয়েছেন এবং বলেছেন শেখ হাসিনা সরকারের পদত্যাগ শেষ কথা। এরপরে সংলাপ হলে হতে পারে। তিনি গণঅভ্যুত্থান করে এই সরকারের উৎখাত করবেন।

গুলশান কার্যালয়ের শীতাতাপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে বসে তাঁর কয়েকজন অপরিপক্ক রাজনৈতিক মোসাহেব নিয়ে গণঅভ্যুত্থান যে হয় এই কথাটাই হয়তো উনাদের জানা নেই। অথবা ম্যাদামকে সারা দেশের পরিস্থিতি সম্পর্কে ভুল ধারনা দিয়ে এক ফ্যান্টাসীর জগতে রেখে দেওয়া হয়েছে।

পেট্রোল  বোমা মেরে কিছু মানুষকে পুরিয়ে মারা, কিছু বাসে আগুন দেওয়া, ট্রাকের সবজি, অবোধ গরু আর দু’এক জায়গার ট্রেনের ফিস প্লেট খুলে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের নাম রাজনীতি নয়। এ হোলো শুধুই পাকিস্তানী কায়দায় জঙ্গী হামালার নামান্তর। এই সন্ত্রাসের দ্বারা গণঅভ্যুত্থান সফল করা যায় না বা হয় না। সরকারের বিরুদ্ধে সাধারন মানুষের জনরোষ যখন রাস্তায় নেমে আসে তখনই একটী সফল রাজনৈতিক আন্দোলনের পরিসমাপ্তি ঘটে। কিন্তু বিএনপি এবং তার জঙ্গী সহযোগী জামাত শিবির জঙ্গনের সম্পৃক্ততা ছাড়াই বাংলাদেশে একটি গণঅভ্যুত্থানের স্বপ্ন দেখছেন। বিএনপি নেত্রী কি এমন কোন উদহারন দেখাতে পারবেন যেখানে আপনার দলের নেতা কর্মী রাজনৈতিক মিছিল মিটিং ক্রার চেষ্টা করেছে এবং পুলিশ গুলি করে সেই মিছিল মিটিং ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছে বা দুএকজন কর্মীকে হত্যা করেছে? অতএব আপনি এবং আপনার জোটের মুল পরিকল্পনাই হচ্ছে জঙ্গী কায়দায় কর্মকাণ্ড চালিয়ে ক্ষমতায় যেতে চান।

গতকার প্রধানমন্ত্রী যথার্থই বলেছেন সংলাপ হতে পারে কোন রাজনৈতিক দলের রাজনৈতিক আন্দোলনের প্রেক্ষিতে। কিন্তু কোন দানব বা জঙ্গী গোষ্ঠীর সাথে নয়। বিএনপি এবং তার জোট আজ বাংলাদেশের মানুষের কাছে দানবে পরিনত হয়েছে। কোথাও কোণ স্বাভাবিকতা নেই, পথে ঘাটে, বাড়ীতে অফিসে, শহরে গ্রামে সর্বত্রই আজ জঙ্গী হামলায় প্রাণনাসের ভয়, সম্পদ হারানোর ভয়, স্বজন হারানোর ভয়, এই ভয়ের সৃষ্টি কারী কারা? একটি গনতান্ত্রিক দল এবং তার জোটের। স্বাভাবিক রাজনীতিতে ব্যর্থ হয়ে ষড়যন্ত্রের রাজনীতি নিয়ে যখন ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখা হয় তখনই একটি রাজনৈতিক দল আন্দোলনের পথ থেকে সরে এসে জঙ্গী কার্যক্রমকে ক্ষমতায় যাওয়ার হাতিয়ার হিসেবে গ্রহন করে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং সাধারন মানুষের ভাষ্য হলো এতো মানুষ হত্যার পরে হত্যাকারীদের সাথে কোন সংলাপ হওয়া মানেই এইসব হত্যাকাণ্ডকে মেনে নেওয়া, প্রতিদিন যে জাতীয় সম্পদের ক্ষতি হচ্ছে তা মেনে নেওয়া। এবং এই সব হত্যাকারীদের বিচারের আওতায় না এনে তাদের কে রাজনৈতিক সন্মান দেখিয়ে সংলাপে বসলে বা বসতে চাইলে ভবিষ্যতের গ্যারান্টি কেউ দিতে পারবে না। আজ বিএনপি জামাত জোটের সাথে এতো গূলো মানুষ হত্যার পরেও যদি কোন সংলাপে বসতে হয়, তবে এটা নিশ্চিত যে আগামী কাল আরেকদল একি রকমের জঙ্গী কর্মকান্ড চালিয়ে নিজেদের অযৌক্তিক দাবীর জন্যে আন্দোলনের নামে মানুষ হত্যা শুরু করবে।

ভারত বাংলাদেশে বেশ কিছু বাম সংঘঠন আছে এবং ছিলো। রাজনৈতিক রনকৌশলের কারণে এই দলগুলো শ্রেনীশত্রু খতমের নামে হাজার হাজার মানুষ খুন করেছিলো কিন্তু সেই হত্যাকান্ড নিন্দনীয় হলেও দেখা গেছে এই দলগুলো কখনোই নিরীহ মানুষকে পুরিয়ে মারেনি। বাসে বা ট্রেনে বা রেল লাইন উপড়ে দিয়ে হাজার মানুষের জীবন নিয়ে খেলে নাই। বর্তমান প্রেক্ষাপটে সরকারকে যারা সংলাপে বসার তাদিগ দিচ্ছেন তাদের উদ্দেশ্যে সবিনয়ে জানাতে চাই। একজন হত্যাকারীর সাথে যদি রাজনইতিক সংলাপে বস্তে হয় তবে হয়তো একদিন আপনিও এই হত্যাকান্ডের শিকার হবেন অন্য কোন রাজনৈতিক দলের হাতে। তখনো কি আপনার পরিবার সংলাপের মাধ্যমে আপনার হত্যার সমাধান চাইবেন।