ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

না হলো না। কিছুতেই কিছু হচ্ছে না। পেট্রোল বোমা মেরে শতাধিক মানুষ কে পুড়িয়ে মেরে, হাজার খানেক মানুষ কে পুড়িয়ে ঝলছে দিয়ে দেড় মাসাধিক ধরে অবরোধ হরতাল চালিয়েও খালেদা ম্যাডাম কিছুই করতে পারলেন না ক্ষমতার কাছাকাছি যেতে। সারা দেশের সমস্ত চলাচলকে বাধা দিয়ে, উন্নয়নকে বন্ধ করে, দেশকে বিশ্বের  কাছে জঙ্গী রাষ্ট্র হিসাবে তুলে ধরতে নানা রকম চেষ্টা চালিয়েও কোন কিছুতেই সফলতা আনতে পারেন নাই খালেদা জিয়া এবং তার পুরানো বন্ধু জামাত শিবির। এরি পাশাপাশি ২০দলীয় জোট বিশ্বের বিভিন্ন মাতব্বর দেশ এবং সংস্থার দিকে তাকি্যে ছিলেন যদি সরকার কে চাপে রেখে তাদের কল্পিত সংলাপের পথে এগিয়ে যাওয়া যায়। সেসমস্ত সম্ভাবনাকে ধূলিসাৎ করে দিয়ে নিভছে দেউরীর বাতিগুলো।

জাতিসংঘ বান কি মুন থেকে শুরু করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং সর্বোপরি তাদের পুরানো আশার স্থল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পর্যন্ত সব যায়গাতেই ছিলো তাদের পদচারনা। দেশের মানুষ কে জিম্মি করে আন্দোলনের নামে জঙ্গি কার্যক্রম চালিয়ে তারা বিশ্বের নজ্র কাড়তে চেয়েছিলেন। হতে চেয়েছিলেন জঙ্গীবাদের মুল নায়ক। বাংলাদেশকে বানাতে চেয়েছেন আই এস গোষ্ঠীর আরেকটি ফ্রন্ট।

জাতিসংঘের মহসচিব মিঃ বান কি মুন সংলাপের কোথা বলেছেন তবে সেই সাথে একথাও বলে দিয়েছেন জঙ্গী বা মানুষ খুন করে রাজনৈতিক সমস্যার সমাধান হতে পারে না। আর তাই দুই পক্ষকে বলেছেন আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খুজতে। গণতান্ত্রিক রীতি-নীতির প্রতি শ্রদ্ধা রেখে সব দলের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা উচিত,” বলেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন আগেও বলেছিলো বিএনপি কে আগে জামাত ছাড়তে হবে, আর এবারো একই কথা শুনিয়েছেন। বলেছেন রাজনৈতিক সমস্যার সমাধান সন্ত্রাসের দ্বাড়া সমাধান হতে পারে না। তারা দুই পক্ষকেই চরম পথকে বাদ দিয়ে শান্তির মাধ্যমে এগিয়ে আসার আহবান জানিয়েছেন। ভারতের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অনেক আশা ভরসার সাথে বিএনপি তাকিয়েছিলো মোদী সরকারের সমর্থন পাওয়ার জন্যে। অথচ মোদী সরকার বাংলাদেশের সাথে আরো ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গুড়ে টলার কোথা ঘোষনা দেওয়ায় সেই আশাতেও পানি ঠেলে দিয়েছিলেন। এবার কিছুদিন আগে বর্তমান পরিস্থিতিতে হাসিনা সরকারের সাথে থাকার কথা ঘোষনা দিয়ে সবরকম সম্ভাবনার বাতিকে নিভিয়ে দিয়েছে।

সর্বশেষ ভরসা ছিলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরকারের ভুমিকার উপর। কারণ এই দেশটির সাথে বিশেষ সম্পর্কের কোথা শোনা যায় আমাদের শান্তির দুত ডঃ ইউনুস সাহেবের। যিনি আবার শান্তির দুত হওয়ার জন্যে বিএনপি জামাত গোষ্ঠীর মানুষ হত্যাকে হত্যা মনে করেন না। তিনি দেশে বিএনপি জামাত কর্তৃক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকে নিরবে সমর্থন করে যান অবলীলায়। সেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি জামাত জোটকে ক্ষমতার কাছাকাছি নিয়ে যাবেই এই বিশ্বাসবোধ থেকে খালেদা জিয়া কারো কোন অনুরোধ কে পাত্তাই দিতে চাচ্ছিলেন না। অথচ গতকাল আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রীর সাথে নির্ধারিত সরকারী বৈঠকের পরে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রী জন কেরি বলেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কখনোই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকে সমরথন করতে পারে না। এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিন এশিয়ার রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের পরিবর্তনের কোথা স্পষ্ট ভাবেই প্রকাশ করছেন।

এবার খালেদা জিয়াকে বেছে নিতে হবে উনি সত্যিকারভাবেই গনতন্ত্রের পথে হাঁটবেন নাকি পাকিস্তানী কায়দায় বাংলাদেশকে একটি অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিনত করার সিদ্ধান্তে অটল থাকবেন।

আগামীকাল মাহন একুশে ফেব্রূয়ারী। ভাষা শহীদদের স্মরন করবে সারা দেশ। বেগম খালেদা জিয়া কি করবেন! উনি কি তাঁর সাম্প্রতিক আবাসস্থল গুলশান কার্যালয় থেকে বের হয়ে মধ্যরাতে শহীদ মিনারে যাবেন? জনগনের কাতারে এসে শহীদদের বেদীতে পুস্পাঞ্জলী কি করবেন? এইসব অনেক কোথা জনগনের মনের মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে। আবার অনেকের মনে প্রশ্ন আছে একুশে ফেব্রুয়ারী কি জামাতকে সঙ্গে নিয়ে যে অবরোধ তিনি চালিয়ে যাচ্ছেন সেই অবরোধ কি তুলে নিবেন? নাকি একুশে ফেব্রূয়ারীতেও তিনি তার মানুষ মারা মিশন চালিয়ে যাবেন?

অনেক প্রশ্ন নিয়ে বাংলাদেশের মানুষ তাকিয়ে আছে খালেদা জিয়ার দিকে।

অপ্রিয় হলেও সত্য বর্তমান সরকার জামাত কে বিএনপি থেকে সরিয়ে আনার জন্যে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এবং রায় কার্যকরে কিছুটা সময়ক্ষেপন করছিলেন। কিন্তু দেরীতে হলেও সরকার যুদ্ধাপরাধীদের রায়ের ব্যাপারে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে আবার পথ চলা শুরু করেছেন। সন্ত্রাসের কাছে আত্মসমর্পণ করে গোটা জাতিকে বিপদে ফেলে দেওয়ার কোন অবকাশ নেই বলেই সাধারন মানুষের মত। বরঞ্চ ৭১ এর মতো দৃঢ় চিত্তে গোটা জাতিকে সাথে নিয়ে সন্ত্রাসের বিরূদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। এবং এই প্রতিরোধের নেতৃত্ব দিতে হবে মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দানকারী সংঘঠন গুলোকেই।