ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

একুশে ফেব্রুয়ারী আমাদের শোকের দিন, প্রথম বিজয়ের দিন। একুশ আমাদের অহংকারের দিন, আমাদের জাতি হিসেবে মাথা উঁচু করে দাড়াবার দিন। ৭১ এর আগে পর্যন্ত একুশ ছিলো আমাদের আন্দোলনের শপথ নেবার দিন, ছিলো এক পা এক পা করে স্বাধীন হবার পথে স্বপ্ন বুনুনের দিন।

৭১ এর পর ২১শে এলো আমাদের শোক, শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় মাখা অহংকারের দিন হিসাবে। ৭৫ এর পটপরিবর্তনের পর সেই একুশ আবার আমাদের কাছে অন্ধকারের বিরুদ্ধে জ্বলে উঠবার প্রেরনার দিন হয়ে দেখা দিলো। দেখা দিলো সামরিক শাসক, স্বৈরাচার আর খুনীদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে লড়াই করার শপথের দিন হয়ে। নব্বই এর শেষে স্বৈরাচারের বিদায়ের আগ পর্যন্ত একুশ আমাদের সকল অপশক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করার সাহস যুগিয়েছে।

একুশে আমাদের অহংকারের দিন হওয়ার পর থেকেই এদেশের পাকিস্তানী ভাবধারার কুলাঙ্গাররা একুশকে অস্বীকার করার ষড়যন্ত্র করে আসছে। একুশের প্রভাতফেরীকে মূর্তিপূজার সাথে তুলনা করে শহীদ মিনারকে ভেঙ্গে ফেলতে চেয়েছে বারবার। বাঙ্গালী তার প্রাণের বিনিময়ে এই একুশকে আগলে রেখেছে। একুশ এখন আর শুধুমাত্র বাঙ্গালীর সম্পদ নয়। একুশ এখন আমাদের পৃথিবীর সকল ভাষাভাষীর।  আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসাবে জাতিসংঘ কর্তৃক স্বীকৃতি পাওয়ার পর থেকে সারা বিশ্বের মানুষ একুশ কে নিজ নিজ পরিমন্ডলে স্মরন করার উদ্যোগ নিয়েছে।

সেই একুশে ফেব্রূয়ারী আজ পালিত হলো বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে। বাংলাদেশের সকল শ্রেণি পেশার মানুষ তাদের হৃদয়ের সকল ভালোবাসা ঢেলে দিয়ে স্মরন করেছে একুশের বীর ভাষা সৈনিকদের। একুশের প্রথম প্রহর থেকেই বাংলাদেশের প্রতিটি শহীদ মিনার ভরে যায় সাধারন – অসাধারন মানুষের পদভারে। একটু খানি ফুল হাতে নিয়ে তাদের প্রিয় শহীদদের স্মরন ক’রে শ্রদ্ধাবনত চিত্তে।

রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী পরিষদ সদস্য, সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা এবং বিদেশী রাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত থেকে শুরু করে সবাই ছুটে আসেন একুশের প্রথম প্রহরে। আর প্রথম প্রহরে যারা আসতে পারেন নাই তারা চলে আসেন ভোরের সুয্য উঠার আগেই। প্রায় দুপুর পর্যন্ত চলে এই শ্রদ্ধাঞ্জলী।

কিন্তু যায় না এদেশের কিছু কুলাঙ্গার। যারা আমাদের দেশেই থাকেন কিন্তু স্বপ্ন দেখেন পাকিস্তানের। স্বপ্ন দেখেন উর্দুতে, ভাষা শহীদদের মনে করেন বিশ্বাসঘাতক। সেই সব নেতাদের, সেইসব মানুষদের আমরা শহীদ মিনারে দেখতেও চাই না। অবশ্য আমরা বিএনপি নেত্রীকে কখনোই এই শ্রেনীর মধ্যে ফেলতে চাই নাই।

জাতি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে ছিলো সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও সাবেক বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া সকল জল্পনা কল্পনার অবশান ঘটিয়ে একুশের দিন অবরোধ তুলে নেবেন। একুশের প্রথম প্রহরে  অথবা ভোরে শহীদ মিনারে এসে ভাষা শহীদদের প্রতি তার শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন।

না খালেদা জিয়া আসেন নাই । তিনি তার গুলশান কার্যালয় থেকে বের হলেন না। তবে কি তিনি জনগনের রোষ থেকে বাচার জন্যেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন? নাকি যেহেতু তিনি জঙ্গী গোষ্ঠীর সাথে ঐক্যের বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন তাই একুশের চেতনা থেকে তিনি সরে গেছেন? অনেকেই মনে করেন তিনি একুশের চেতনাকে কখনোই ধারন করেন না। বা বাংলা ভাষার প্রতি তার ভালোবাসা আছে কিনা তা নিয়েও অনেকে  সন্দেহ করেন। ধিক এই সিদ্ধান্ত। ধিক এই রাজনীতি। যে দেশের ক্ষমতায় যাওয়ার জন্যে মানূষকে পুরিয়ে মেরে  আন্দোলন গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন সেই দেশের চেতনাকে ধারন না করে কি বুঝাতে চেয়েছেন সেটাই আজ বড়ো প্রশ্ন হয়ে দাড়িয়েছে।