ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 
Manna-4

মানুষ পোড়ানো হলো, বাসে ট্রেনে ট্রাকে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়ে দেওয়া হোল মানুষসহ অবোধ পশু, মুরগী সহ অনেক জাতিয় সম্পদ। তারপরেও কিছু হলো না বিএনপি জামাতের ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন পুরন। এর আগেও বলেছি বিদেশী প্রভুদের দরবারে নানাভাবে চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছে এই জোটের আন্দোলন। কিন্তু থেমে থাকেনি মানুষ  মারার অবরোধ – হরতাল। ভাষা শহীদদের স্মরণ দিবস আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসেও ককটেল মেলে, পেট্রোল বোমা মেরে মানুষ হত্যা থেকে পিছু হটেন নাই বেগম খালেদা জিয়া এবং তার প্রানের সখা জামাত শিবির।

এবার উনাদের পরিকল্পনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মানুষ হত্যার। উনারা পরিকল্পনা করেছেন ছাত্র সমাজের মধ্যে যদি গুলি চালিয়ে দুয়েকজন ছাত্রের লাশ পাওয়া যায় তাহলে আন্দোলনের গতি পাওয়া যাবে। এই পরিকল্পনার নায়ক হলেন একসময়ের ডাকসুর সহসভাপতি মাহামুদুর রহমান মান্না। ২০০৭ সালের এক এগারোর পটপরিবর্তনের পর জাসদ বাসদ হয়ে আওয়ামী লীগে আসা এই সাবেক ভিপি হয়ে গেলেন সংস্কারপন্থী। উনি আওয়ামীলীগের মধ্যে অন্য অনেকের সাথে সংস্কার করে পরিবর্তন আনার মহান দায়িত্ব নিয়েছিলেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনের পর তিনি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংঘঠনিক পদ থেকে অব্যাহতি লাভ করেন। সেই মান্না সাহেব বেশ কয়েকবছর ধরেই দেশের মানুষকে ইলেকট্রনিক মিডিয়ার মাধ্যমে গনতন্ত্র এবং রাজনীতি সম্পর্কে অনেক জ্ঞান দান করে আসছিলেন। উনি ডঃ কামাল, আ,স,ম, রব এবং কাদের সিদ্দিকী কে সঙ্গে নিয়ে গনতন্র উদ্ধারের জন্যে উঠে পরে লেগেছেন। উনি এবং নুরুল কবীর দুজনে মিলে মুখে মানুষ হত্যার বিরূদ্ধে কথা বলেন ঠিকই কিন্তু টার্গেট থাকে বেগম খালেদা জিয়ার সকল কর্মকাণ্ডকে জায়েজ করা।

বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে দেশে বিদেশে অনেক আলাপ আলোচনা হছে সন্দেহ নেই। সবাই বাংলাদেশে একটি সন্ত্রাস মুক্ত পরিবেশ বজায় থাকুক এই প্রত্যাশাতেই আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।

গতরাত পর্যন্ত এবিষয়ে কারো কোন সন্দেহ ছিলো না। সন্দেহ ছিলো না মান্না কামাল সাহেবদের উদ্যোগ নিয়েও। সেই বিশ্বাসের মাথায় আঘাত করে মান্না সাহেব এর টেলিফোনিক কথোকপথন দেশের মানষের মনে নতুন সন্দেহের বীজ বোপন করে গেলো। মান্না সাহেব, সাদেক হোসেন খোকা সাহেবের সাথে টেলিফোনে তাদের ঘৃণ্য পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। জানিয়েছেন নিরেপেক্ষতার নামে কি করে বিএনপি জামাত জোটের আন্দোলনে তিনি সম্পৃক্ত। সাদেক হোসেন খোকা এই মানুষ হত্যা বন্ধ করার পক্ষে মত দিলেও মান্না এই হত্যাকান্ড আরো কিছুদিন চালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করেছেন। তিনি তার জনসভায় এবং আসন্ন মিছিলে বিএনপি জামাতের অংশগ্রহন চেয়েছেন। দশ হাযার মানুষের মিছিল করতে পারলেই তিনি কেল্লা ফতে করে দিতে পারবেন এই আশ্বাসও তিনি দিয়েছেন। সর্বোপরি তিনি ছাত্রদলের মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র হত্যা চেয়েছেন। একটি বা দুটি ছাত্রের লাশ যদি পাওয়া যায় তাহলে তো এই সরকারের পতন মাত্র সময়ের ব্যাপার।

এতো গেলো মান্না-খোকার কথোকপথন, একই সাথে প্রকাশ পেয়েছে আরেকটি টেলিফোনিক কথাবার্তা। সেই কথোকপথন হয়েছে একজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির সাথে। এই কথোকপথনের মধ্য দিয়ে এটাই প্রমাণিত হয়েছে এই অজ্ঞাত ব্যক্তি সাধারন কেউ নন। উনি ক্ষমতাশীন দলের সংসদ সদস্য নির্ধারণেও ভুমিকা রাখেন। সেনাবাহিনীর সাথেও আছে দহরম মহরম।

এদেশের মানুষকে এদেশের রাজনৈতিক নেতারা যতটা বোকা মনে করেন আসলে ততটা নয়। এই কথোকপথন থেকেই প্রামান পাওয়া যায় ২০০৮ সালের পর থেকেই এই সরকারকে উতখাতের জন্যে দেশে বিদেশে একটা চক্তান্ত চলে আসছে। এবং এই চক্রান্ত আরো তীব্র হয়েছে যখন এই সরকার ৭১ এর যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু হয়। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো এই মান্না সাহেব, কামাল সাহেব ৭১ সালে উনারা কোথায় ছিলেন এবং কি ভুমিকা ছিলো সেটা আজোও রহস্যের আবর্তে ঘেরা।

মান্না সাহেবের দুটো কথোকপথন থেকে এটাই প্রমাণ পাওয়া যায় যে দেশকে অস্তিতিশীল করার পরিকল্পনা আজকের নয় বা ৫ই জানুয়ারীর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নয়। দেশকে অস্থিতিশীল করে আবারো এক এগারোর মতো কোন এক শক্তিকে ক্ষমতায় বসানোর অথবা আরো বড়ো ধরনের কিছু ষড়যন্ত্র করে দেশকে জঙ্গীদের হাতে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা।

জনগনের দাবি এই মুহূর্তে মাহামুদুর রহমান মান্না সাহেবকে জিজ্ঞাসাবাদ করে সকল ষড়যন্ত্রের আসল তথ্য বের করে আনা হোক। এই বাংলার মাটিতে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত যেন কোন ষড়যন্ত্রে এই দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট না হয়।