ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

একটি দেশ তার নির্ধারিত সংবিধানের আলোকেই চলে। রাষ্ট্র তার শাসন ব্যবস্থা পরিচালনার জন্যে একটি সরকারি ব্যবস্থা চালু রাখে। এই শাসন ব্যবস্থাও পরিচালিত হয় রাস্ট্রের সংবিধানের আলোকে। এই সংবিধান কে পরিবর্তন, পরিবর্ধন বা সংশোধন করা যায় কিন্তু যে পর্যন্ত সংবিধান বহাল থাকে সেই পর্যন্ত রাষ্ট্রের সকল পর্যায়ের নাগরিকের কর্তব্য সংবিধান মেনে চলা, রাষ্ট্রের আইন কানুন মেনে চলা। সে প্রধানমন্ত্রী হোক বা রাষ্ট্রের প্রধানতম ব্যক্তিই হোক সংবিধান মেনেই চলতে হবে। সংবিধান মতে যে আইন বহাল থাকবে সেই আইনের আলোকে প্রত্যেক নাগরিককেই আইনানুযায়ী চলতে হবে এতাই সাধারন, এটাই স্বাভাবিক।

২০০৭ সালে বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের ক্ষমতা আঁকড়ে থাকার ফলশ্রুতিতে উদ্দীন সাহেবদের সেনা সমর্থিত তত্বাবধায়ক সরকারের আমলে মাইনাস টু ফর্মুলার আলোকে দুই নেত্রী সহ অনেক রাজনৈতিক ব্যক্তিদের দুর্নীতির মামলায় গ্রেফতার করা এবং বিভিন্ন মামলা দায়ের করা হয়। শেখ হাসিনা এবং বেগম খালেদা জিয়াও এই গ্রেফতার থেকে এবং মামলা থেকে রেহাই পান নাই। পরে অবশ্য দুই নেত্রীসহ প্রায় সবাইকেই জামিনে মুক্ত করা হলেও মামলা গুলো তুলে নেওয়া হয় না।

২০০৮ সালে শেখ হাসিনা এবং তাঁর মহাজোট সরকার ক্ষমতায় এলে এক কমিটি গঠনের মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনা সহ সরকারী দলের অনেকেরই মামলা তুলে নেওয়া হলেও অপ্রিয় হলেও সত্যি বেগম খালেদা জিয়া বা তার দলের অন্যান্যদের মামলা তুলে নেওয়া হয় নাই।

এই মামলা সত্যি কি মিথ্যা সে প্রশ্ন অনেক পরের ব্যাপার। শেখ হাসিনা তার এবং তার দলের অন্যান্য নেতাদের মামলা তুলে নিয়ে অন্যায় করেছে কি ন্যায় করেছে সে প্রশ্নও আলোচনা সাপেক্ষ ব্যাপার। কিন্তু একটি মামলা বিচারাধীন এবং যে বিচারে এর আগেও খালেদা জিয়া হাজিরা দিয়েছেন সেখানে বিচার ব্যাবস্থাকে অস্বীকার করে বা অমান্য করে তিনি আইনের বেড়াজাল ডিঙ্গাতে পারেন নাই। বাংলাদেশের ত্রিশ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে পাওয়া সংবিধান এই ক্ষমতা কাউকেই দেই না।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট্রি দুর্নীতি মামলার ৬৩ হাজিরা দিবসের মধ্যে বেগম খালেদা জিয়া মাত্র সাত দিন হাজিরা দিয়েছেন। এবং তিনি যে উপস্থিত হতে পারবেন না সে ব্যাপারে তাঁর আইনজীবী দের মাধ্যমে কোর্টকে প্রাক অবহিতও করেন নাই। উনার বিজ্ঞ আইনজীবী গন এই বিষয়ে অবগত হলেও আইনগত কোন পদক্ষেপ গ্রহন করেন নাই। সেক্ষেত্রে বিজ্ঞ আদালত অত্যন্ত নিরূপায় হয়েই বেগম খালেদা জিয়ার জামিন বাতিল করে গেফতারী পরোয়ানা জারী করেন। এখানে উল্লেখ্য যে, এর মধ্যে খালেদা জিয়া বিচারকের উপর তাঁর অনাস্থার আবেদন উচ্চ আদালতে দাখিল করলেও উচ্চ আদালত কোন সিদ্ধান্ত জানান নাই। তাহলে কি  বেগম খালেদা জিয়া আদালতে হাজির না হয়ে আদালতকে অবমাননা করেছেন নাকি এদেশের সংবিধান কে মান্য করতে রাজী নন সেটা পরোক্ষ ভাবে বুঝিয়ে দিয়েছেন?

বেগম খালেদা জিয়া সুস্পষ্ট ভাবেই বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থার প্রতি অবজ্ঞা দেখিয়ে পরোক্ষভাবে বাংলাদেশের প্রতিই চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন। উনি গনতন্ত্র উদ্ধারের জন্যে মরণপণ আন্দোলন করতে পারেন, বাংলাদেশের মানুষ কে পেট্রোল বোমা মেরে পুড়িয়ে মেরে ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখতে পারেন কিন্তু যে দেশের ক্ষমতায় যাওয়ার জন্যে তিনি এতো মানুষ কে মেরে ফেলতে দ্বিধা করছেন না সেই দেশের বিচার ব্যবস্থা কে বূড়ো আঙ্গুল দেখানোর স্পর্ধা কি খুব বেশী বাড়াবাড়ি নয়। তাঁর নিয়োজিত আইনজীবীগন এই ব্যাপারে কি তাঁকে কোন ধারনাই দেন নাই?

বিশেষজ্ঞদের মতে আগামীতে যদি বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের ক্ষমতায় আসীন হোন এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকে বিচারের সম্মুখীন করেন তখন কি পদক্ষেপ নিবেন এব্যাপারে কি তাঁর কোন চিন্তা আছে? আওয়ামী লীগের তৃণমূল পর্যায়ে যে সাংঘঠনিক ক্ষমতা আছে, সেই ক্ষমতা কে মোকাবেলা করার ক্ষমতা যে বিএনপি এবং তার বিশ দলীয় জোটের নেই সে প্রমাণ গত ২০০১ – ২০০৬ সালের ক্ষমতা থাকাকালীন সময়ে নিশ্চয় টের পেয়েছিলেন।

২০০৭ সালের প্রেক্ষাপটে করা এই মামলা একটি দুর্নীতি মামলা। সেক্ষেত্রে বেগম খালেদা জিয়া দোষী কি নির্দোষী সেটা বিচারের পরেই বিবেচ্য। জাতিসংঘের মহাসচিব বেগম খালেদা জিয়ার জামিন আদেশ বাতিল করে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারীর বিরুদ্ধে বিবৃতি দিয়েছেন। বাংলাদেশের মানুষের মনে প্রশ্ন জেগেছে একটি দুর্নীতি মামলার বিচারাধীন ব্যক্তির পক্ষে জাতিসংঘের মহাসচিব এই বিবৃতি দিয়ে তিনি কি বুঝাতে চেয়েছেন? তিনিও কি বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থাকে অস্বীকার করে এই বিবৃতি দিয়ে বাংলাদেশের সার্বভৌমকে অবমাননা করেন নাই। জনগন জাতিসংঘের মহাসচিবের এই বিবৃতির কারণে তীব্র নিন্দা জানানোর জন্যে সরকারকে আহবান জানাচ্ছে।