ক্যাটেগরিঃ অভিজিৎ হত্যাকাণ্ড - ব্লগ সংকলন, আইন-শৃংখলা

 

কিছুতেই কিছু লিখতে পারছি না। কি লিখবো? রাজীবের কথা, হুমায়ন স্যারের কথা নাকি অভিজিতের কথা? প্রতিদিন যেভাবে মানুষ মরছে পেট্রোল বোমায়, গুলিতে, অথবা চাপাতির আঘাতে তাতে মৃত্যু নিয়ে লেখার ইচ্ছেটাই উবে গেছে। মনে হয় আমার প্রিয় স্বদেশ আজ মৃত্যুর উপত্যকা। এই দেশ আমার নয়। এযেন পাকিস্তান, না হয় ইরা্‌ক, নাহয় আফগানিস্তান। প্রতিদিন মৃত্যুই যেনো আমাদের পরিনতি। জীবন যেখানে থেমে গেছে। মৃত্যু আর মৃত্যু যেনো অমোঘ সত্য। মৃত্যু সত্য একথা ঠিক। মৃত্যু আসবেই জীবনের এক নির্ধারিত সময়ে। কিন্তু এ কোন মৃত্যু। ৭১এর পর এমন মৃত্যু কি কখনো দেখেছে বাংলাদেশ? সকাল নেই সন্ধ্যে নেই নিয়ম নেই অনিয়ম নেই যখন তখন মানুষের মৃত্যুই যেনো হয়ে উঠেছে একমাত্র গন্তব্য।

প্রানের বইমেলা থেকে বের হয়ে সস্ত্রীক অভিজিৎ যখন বাসায় ফিরছিলেন সেইসময় টিএসসির মোড়ে চাপাতির আঘাতে আঘাতে রক্তাত্ত হলেন রাজীব। রাজীবের স্ত্রী বাধা দিতে যেয়ে নিজেও হলেন রক্তাত্ত। চারিদিকে এতো মানুষ, এতো নিরাপত্তার চাদর তবুও কেউ এগিয়ে এলেন না অভিজিতকে রক্ষায়। অভিজিতের স্ত্রীর চিৎকার চারিদিকে ছড়িয়ে পড়লেও সবাই যেনো হয়ে গেলো বধির। সংবাদ পত্রের ছবিতে দেখা গেলো রক্তাত্ত অভিজিৎ পরে আছেন রাস্তায় আর তার স্ত্রী রক্তাত্ত অবস্থায় হাত বাড়িয়ে সাহায্য চাইছেন। আশেপাশে অনেক লোক দেখা গেলেও কেউ এগিয়ে আসেন নাই সেইসব খুনীদের প্রতিরোধে। সংবাদপত্রের কর্মীরা সংবাদের জন্যে ছবি তুলেন কিন্তু মানবতার জন্যে এগিয়ে আসেন না। কেউ একজন জোরে হাঁক দেন না ‘জাগো বাহে জাগো’।

ইউনুস স্যার মারা যান প্রতিবাদ হয়, বিবৃতি আসে, তদন্ত কমিটি হয় তারপর চুপ হয়ে যায় সবকিছু। আবার রক্তাত্ত হোন হুমায়ন আযাদ স্যার আবার প্রতিবাদ আবার বিবৃতি আবার তদন্ত। এরপরে খুন হোন আরো একজন হুমায়ন অথবা রাজীব অথবা লিনন স্যার প্রতিবারই প্রতিবাদ হয়, বিবৃতি আসে, নিন্দার ঝড়ে তোলপাড় হয় দেশ কিন্তু পরিবর্তন আসে না, খুনীরা যে আঁধারে সেই আধারেই থেকে যায়। সেই সুযোগে আবার খুন হোন অভিজিৎ নয়তো আমি আপনি বা অন্য কেউ।

কর্তৃপক্ষ কয়েকদিন খুব তোলপাড় করে তুলেন বিবৃতি আর তদন্তের কমিটি গঠনে। প্রতিবাদের ঝড় তুলি আমরা যারা এমন মৃত্যু শত্রুর জন্যেও কামনা করি না। আশায় আশায় দিন গুনি এই হয়তো খুনীরা ধরা পরে গেলো। এই বুঝি রহস্যের অন্ধকার থেকে বের হয়ে এলো কালো বিড়াল কিন্তু কিছুতেই কিছু হয় না। হয়তো আর একজন অভিজিতের মৃত্যুর জন্যে অপেক্ষায় থাকা ছাড়া আমাদের আর কিছুই করার নেই।