ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

আমাদের প্রধান রাজনৈতিক নেতা নেত্রীরা ছোট বেলায় ঘুড়ি উড়ানোর সুযোগ পেয়েছিলেন কিনা জানি না। অনেকেই ঘুড়ি উড়ানোর সময় লাটাইয়ের সুতা ছাড়তেই থাকে। ছাড়তে ছাড়তে এক্ এক সময় ঘুড়ি চলে যায় দৃষ্টির সীমানার বাইরে। যে ঘুড়ি উড়ায় সে থাকে অনেক আনন্দে। অনেক নিশ্চিন্তে। কারণ সে মনে করে ঘুড়ি তুই যাবি কোথায়, লাটাই এবং সুতা তো আমার হাতে। যখন এই ঘুড়ি ফিরিয়ে আনার জন্যে লাটাইয়ের সুতা গুটিয়ে আনে তখনি টের পাওয়া যায় সুতা আছে, লাটাই আছে কিন্তু ঘুড়ি নেই। লাগামহীন সুতা ছাড়ার ফলে ঘুড়ি আপনা আপনিই চলে গেছে তার নিয়ন্ত্রনের বাহিরে। ঘুড়ির লাটাই হাতে থেকে যায় কিন্তু ঘুড়ি আর ফিরে আসে না।

আমাদের দেশের দুই রাজনৈতিক দলের কর্মসূচী এবং জনগণকে টানাহেচড়া করার যে সংস্কৃতি শুরু হয়েছে তাতে করে ঘুড়ি মতো তাদের ক্ষমতায় যাওয়ার ইচ্ছেটা ফোকাট্টা হয়ে যায় কিনা তাই আজ প্রশ্নের সম্মুখীন। তবে এটাই তাদের জীবনে সবচেয়ে বড়ো টারনিং পয়েন্ট হয়ে দাঁড়িয়েছে। সন্ত্রাসকে সঙ্গে নিয়ে সন্ত্রাস চালিয়ে জনগনের অধিকার আদায়ের নামে মানুষ পুড়ানো আন্দোলন চালাবেন নাকি স্বাভাবিক আন্দোলনের দ্বারা দাবী আদায় করবেন সেটা নির্ধারণের সময় এখনই। অন্যদিকে জনগন এই সন্ত্রাস, এই আগুন পুড়ে মরা এসব হয়তো সহ্য করছে না কিন্তু আর কতদিন এই অবস্থাকে মেনে নেবে। জনগনের জীবনের নিরাপত্তা দেবার দায়িত্ব নিয়েই তো ক্ষমতায় আসা। সেই নিরাপত্তা যদি ক্ষমতাসীন দল দিতে না পারে তবে তাকেই বা ক্ষমতায় রাখবে কেনো।

রাজনীতিতে বা ভোটের রাজনীতিতে নেগেটিভ ভোটে জয়লাভের একটা উদহারন আছে। জনগন ক্ষমতাসীনদের অক্ষমতার কথাকে চিন্তায় নিয়ে যারা অরাজকতার জন্যে দায়ী, যারা মৃত্যুর জন্যে দায়ী তাদেরকেই জিতিয়ে নিয়ে আসে। সেখানে উন্নয়নের কথা চিন্তায় আসে না। আসে নিজেদের নিরাপত্তার কথা। নিজের জীবনের নিরাপত্তা যেখানে প্রতিনিয়ত হুমকীর মুখে সেখানে উন্নয়নের ছোঁয়া কোনই কাজে লাগে না  এইটাই সবচেয়ে বড়ো সত্য দেখা দেয় অন্য কিছু না।

আমাদের মনে রাখতে হবে নেগেটিভ ভোটে নির্বাচিত সরকারের কিন্তু কোন দায়বদ্ধতা থাকে না। এই ধরনের জয়লাভে স্বাভাবিক বিচারবুদ্ধিও লোপ পায়। আর এর ফলশ্রুতিতে মুল্য দিতে হয় শান্তিপ্রিয় মানুষদের। যারা শান্তির পক্ষে থাকে, প্রগতির পক্ষে থাকে, অসাম্প্রদায়িক চেতনার জন্যে কাজ করে তারা হয় টার্গেট। এখনি আমরা এইসব মানুষদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হচ্ছি। তখন প্রতিবাদ করারও ক্ষমতা থাকবে না।

আমরা বিশ্বাস করি বাংলাদেশের রাজনৈতিক দল বা জোট গুলো এখনো শান্তিপূর্ণ উপায়ে রাজনৈতিক দ্বন্ধের সমস্যা রাজনৈতিক সমাধানেই বিশ্বাস করে। বিএনপি এবং আওয়ামী লীগ যদি মনে করে একে অন্যকে  ধ্বংস করে নিজেদের নিরঙ্কুশ ক্ষমতা বজায় রাখবে সেক্ষেত্রে দানবের ক্ষমতায় আসা শুধুমাত্র সময়ের ব্যাপার। রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নেই। বাংলাদেশের মানুষ অন্য কাউকেই পছন্দ করে না বিএনপি এবং আওয়ামী লীগ ছাড়া এটা প্রমাণিত সত্য। প্রতিবার সংকটে পড়েছে বাংলাদেশ আর প্রতিবারই এই দুই রাজনৈতিক শক্তির  উপরেই নির্ভর করেছে।

সময় এখনি। দুই দলই ঘুড়ির সুতা অনেক ছেড়ে দিয়েছেন। ঘুড়ির নিয়ন্ত্রন হারিয়ে ফেললে কিছুই করার থাকবে না। এক এগারোতে যে সুবিধা পেয়েছেন সেই একই সুবিধা এবার নাও পেতে পারেন। অন্যদিকে জনগনেরও ধৈয্যের বাধ ভেঙ্গে যেতে পারে যেকোন সময়। সেক্ষেত্রে দুই পক্ষেরই ক্ষতির সম্ভাবনা থেকে যায়। এবং অপ্রিয় হলেও সত্যি সরকারে যারা থাকে তাদের ক্ষতির সম্ভাবনা অনেক বেশী। সুতার মাথায় ঘুড়ির নিশ্চয়তা রেখেই সুতার লাগাম ছাড়ুন। এখনো সময় হয়তো পার হয়ে যায় নি।