ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

গত বুধবার বিকেল থেকেই ইলেকট্রনিক মিডিয়ার স্ক্রোল বারে বার বার একটি গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ স্থান পেয়েছে। বেগম খালেদা জিয়া প্রায় বাহান্নো দিন পরে সংবাদ সন্মেলনের মাধ্যমে জাতির কাছে কিছু বলতে চান। সেই সংবাদ সন্মেলনের জন্যে বাংলাদেশের আপামর মানুষ প্রতিবারের মতোই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেছিলো। গতকাল থেকে প্রতিটি মানুষ চিন্তা ভাবনা করেছেন সংবাদ সন্মেলনে তিনি কি বলবেন। তিনি কি অবরোধ তুলে নিয়ে জন জীবনে স্বস্তির বাতাস বইয়ে দিবেন। তিনি কি তার সংবাদ সন্মেলনে গত দুইমাসের অধিক কাল ধরে যে বিভীষিকাময় জীবনযাপন চলছে তার অবসান ঘটাবেন। নাকি সেই আগের অবস্থানেই অনড় থেকে দেশবাসীর আশায় ধূলো দিবেন। সংবাদপত্র গুলো তাদের সংবাদে অনেক কিছুই বলেছেন, আশার বাতি জ্বালিয়েছেন, কেউ কেউ আরো এক ধাপ বাড়িয়ে দেশে সংলাপের আবহ তৈরী করেছেন।
এইসব কিছুকেই বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে আমাদের সাবেক বিরোধী দলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া সেই পুরানো গল্পই বলে গেছেন। তিনি তার আন্দোলনের যৌক্তিক পরিণতি না আসা পর্যন্ত আন্দোলন অবরোধ, হরতাল মানুষকে পুড়িয়ে মারা, সবকিছুই পরোক্ষভাবে চালিয়ে যেতে বলেছেন। এই হরতালে – অবরোধে তার বা তার দলের কোন ক্ষতি হয় নাই, এবং হচ্ছে না। সেদিন এক টেলিভিশনে দেখিয়েছে এই হরতালে এবং অবরোধে তার নিজের দলের নেতা কর্মীদের কল কারখানা ব্যবসা বানিজ্য সবকিছুই চলছে। যে দলের নেতা কর্মীরা তাদের প্রাণপ্রিয় নেত্রীর ডাকে হরতাল অবরোধে নিজেদের প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে পারেন না সেই দলের হরতাল অবরোধ কতটুকু জনগনের কাছে তাৎপর্যপূর্ণ সেটা ভেবে দেখা উচিত ছিলো মাননীয় নেত্রীর।
মাননীয় নেত্রী বিদেশের নেতা নেত্রী দের কাছে বার বার ধর্না দিয়ে যাচ্ছেন কিন্তু বিদেশীদের পরামর্শ শুনছেন না। ইউরোপীয় ইউনিয়ন অনেকবার বলেছে যে বিএনপিকে জামাত শিবিরের সঙ্গ ছাড়তে হবে। এদিকে একটি বাংলা দৈনিক আওয়ামী লীগের অসমর্থিত সুত্রের বরাত দিয়ে সংবাদ করেছে পাঁচ টি শর্ত মেনে নিলে আওয়ামী লীগ সংলাপে বসতে রাজী। সেই পাঁচটি শর্তের প্রথমটিই হলো বিএনপিকে আগে জামাত শিবির ছাড়তে হবে। বিএনপি একটি মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের দল। তাদের দলের প্রতিষ্ঠাতার ঘোষনাতেই নাকি দেশের মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়েছিলো। তাহলে সেই মুক্তিযুদ্ধের ঘোষকের প্রতিষ্ঠিত দল স্বাধীনতা বিরোধী ও যুদ্ধাপরাধীদের সাথে নিয়ে এই দেশের গনতন্ত্র উদ্ধার করবে এটা কি বিশ্বাসযোগ্য! সেক্ষেত্রে বলা কি যায় না বিএনপি যে গনতন্ত্রের জন্য মায়া কান্না কাঁদছে সেটা কুমিরের অশ্রুরাম্ভ ছাড়া কিছুই নয়! এই অবস্থায় বাংলাদেশের আরো লাখোখানেক মানুষও যদি মারা যায় তাতেও কোনো যাবে আসবে না বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার।
সেজন্যেই আজ আবার নতুন করে আন্দোলনের যৌক্তিকতা না আসা পর্যন্ত মানুষ পুড়ানো, অর্থনীতি ধ্বংসের হরতাল অবরোধ চালিয়ে যাবার ঘোষনা তিনি স্বচ্ছন্দে দিতে পারেন।