ক্যাটেগরিঃ কৃষি

আজ দিন ফুরালেই ৭৬ দিন পার হবে বিএনপি জামাত জোটের লাগাতার অবরোধ এবং হরতালের আন্দোলন কর্মসূচী। গনতন্ত্র উদ্ধারের এই আন্দোলনের নামে বিএনপি জামাত জোট কতটুকু গনতন্ত্র উদ্ধার করতে পারছে সে প্রশ্ন অনেক পরের। কিন্তু এরই মধ্যে দেড়শতাধিক মানুষ পেট্রোল বোমার আঘাতে মারা গেছেন। শত শত মানুষ দেশের বিভিন্ন বার্ন ইউনিটের বিছানায় শুয়ে মৃত্যু যন্ত্রনায় কাতরাচ্ছে। অনেক মানুষের সোনার সংসার পুড়ে ছাড়খার হয়ে গেছে। এই মরে যাওয়া এবং এই সংসার ধ্বংস হয়ে যাওয়া কিন্তু থেমে যায় নি। থেমে যায় নি সহিংসতার দানবীয় প্রলয়। গনতন্ত্র উদ্ধারের নামে, দেশের মানুষের ভোটের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে সাধারন মানুষকে পুড়িয়ে মারার ইতিহাস বাংলাদেশে এর আগে কখনো ঘটে নাই। স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে এদেশের ছাত্ররা নয় বছর ধরে আব্দোলন সংগ্রাম করে স্বৈরাচারকে উৎখাত করেছে, নিজেরা বুকের রক্ত দিয়েছে কিন্তু অধিকার আদায়ের নামে একটিও সাধারন মানুষের জীবনকে বিপদ সংকুল করে তুলে নি।

বাসে আগুন, ট্রাকে আগুন, রেলে আগুন, রেলের স্লীপার খুলে হাজার যাত্রীর জীবন কে নিয়ে ছিনিমিনি খেলা আমরা গত কয়েক মাস ধরে দেখেছি। এই হত্যার বিরুদ্ধে সারা দেশের মানুষ প্রতিবাদী হয়ে উঠলেও আমাদের দেশের নেতানেত্রীদের ঘুম ভাঙ্গানো যায় নাই। রাজনৈতিক দলের নেতাদের সাথে সাথে আমাদের দেশের সুশীল সমাজও আজ দ্বিধা বিভক্ত হয়ে পরেছে। কোন কোন সুশীল আবার পেট্রল বোমার আঘাতে মানুষ মারার এই ঘৃণ্য কর্মকাণ্ড কে জায়েজ করার নামে পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসা রত সন্ত্রাসীদের কথা বলে মানুষের দৃষ্টিকে অন্যদিকে ঘোরানোর চেষ্টায় ব্রত হয়েছেন।

এবার বিএনপি জামাত জোট মানুষ মারার পাশাপাশি দেশের মানুষের সহায় সম্বল নিয়ে ছিনিমিনি খেলা শুরু করেছে। সবাই জানে বাংলাদেশ যতই শিল্প কারখানায় উন্নতি করে থাকুক এখনো পর্যন্ত কৃষিই মুল চালিকা শক্তি। জমিই হল আমাদের দেশের মানুষের সহায় সম্বল। সেই কৃষি এবং কৃষক কে পঙ্গু করে দেওয়ার জন্যে বিএনপি জামাত জোট দেশের বিভিন্ন উপজেলার ভূমি অফিসে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিচ্ছে রক্ষিত সকল দলিলাদি। প্রথম ঘটনার পরে মনে করা হয়েছিল এটি একটি দুর্ঘটনা। কিন্তু পরপর একই ঘটনায় সবার টনক নড়েছে। এক্ষেত্রে বিশিষ্টজনেদের মতে বিএনপি জামাত জোট পরিকল্পিত ভাবেই এইসব নাসকতা মুলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। আজ সত্যিকারের ভাবেই প্রমাণিত হচ্ছে যে বিএনপি নেতৃত্ব জামাতের প্ররোচনায় বাংলাদেশকে অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিনত করার পরিকল্পনায় নিখুঁতভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

অবরোধ মেনে নিতে পারা যায়, হরতাল একটি গনতান্ত্রিক সমাজের অধিকার, আন্দোলনের নামে দুয়েকটা দুর্ঘটনা ঘটতেই পারে। এবং এইসব দুর্ঘটনাকে গনতন্ত্রের জন্য মেনে নেওয়াও যেতে পারে। কিন্তু যখন মানুষের মৃত্যু কে পুঁজি করে কেউ বা কারা ক্ষমতায় যেতে চায়, দেশের অর্থনীতিকে, দেশের কৃষক সমাজকে পঙ্গু করে দেওয়ার চেষ্টা চালাতে থাকে তখন কোনভাবেই এইসব সন্ত্রাসী কাজকে মেনে নেওয়া যেতে পারে না।

অবশ্য সরকার বিভিন্ন মন্ত্রনালয়ে এবং পরিদপ্তরে সতর্কতা মুলুক প্রজ্ঞাপন জারী করে হুশিয়ার করে দিয়েছে এই সমস্ত নাশকতা কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে। এক্ষেত্রে শুধু সরকারকেই সর্তক হলে চলবে না। দেশের সাধারন মানুষকেও সর্তক হতে হবে। দেশের কৃষি এবং কৃষক সমাজকে ধ্বংস করার এই হীন চক্রান্তকে যেভাবেই হোক রুখে দাড়াতে হবে। বিএনপি জামাত জোটের কৃষক মারার টার্গেট কখনোই সফল হতে দেওয়া যায় না।