ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

ধন্যবাদ অধ্যাপক এমাজুদ্দিন স্যারকে। অনেক ধন্যবাদ এই জাতীয়তাবাদী শিবিরের বুদ্ধিজীবি হিসাবে পরিচিত এই রাষ্ট্রবিজ্ঞানী বিএনপি নেত্রীর সাথে ধারাবাহিকভাবে আলোচনা চালিয়ে আসন্ন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে অংশগ্রহনে সম্মত করে বিএনপিকে স্বাভাবিক রাজনীতিতে ফিরিয়ে এনে জাতীকে এক ধ্বংসাত্মক পরিস্থিতি থেকে রক্ষা করেছেন। অবশ্য প্রথম থেকেই এই সাবেক ঢাবি উপাচার্য বিএনপি আহুত অবরোধ ও হরতালের বিপক্ষে নীতিগতভাবে অবস্থান করেছিলেন। তিনি বিএনপি নেত্রীর সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করে অবশেষে আসন্ন এই সিটি নির্বাচনে বিএনপিকে অংশগ্রহনের মধ্য দিয়ে এদেশের রাজনীতিতে জঙ্গী উত্থানের এক ভয়াবহ সম্ভাবনার হাত থেকে সাময়িক ভাবে হলেও স্বস্তি দিয়েছেন।

অনেকেরই সঙ্গে দিপাক্ষিক আলোচনায় মনে হয়েছিলো বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহনের ব্যাপারে স্পস্টতই দ্বিধা বিভক্ত হয়ে পড়েছিলো। একটি অংশ এখনো মনে করে এই নির্বাচনে অংশগ্রহন করে বিএনপি এবং তার বিশ দলীয় জোট তাদের রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নে অনেকটাই পিছিয়ে পড়বে। অন্য অংশটির মতে রাজনীতিতে এই নির্বাচনে অংশ গ্রহন করে আওয়ামী লীগকে একটা ভালো চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি  হয়েছে।

নির্বাচনে যদি জিতে যাওয়া যায় তবে জনগনের ম্যান্ডেট যে বিএনপির পক্ষে সেটা প্রমানিত হবে এবং যথাশীঘ্রই একটি মধ্যবর্তী নির্বাচনের ব্যাপারে জোর দাবীতে আন্দোলনকে বেগবান করা যাবে। অপরদিকে নির্বাচনে যদি কারচুপির আশ্রয় নিয়ে জয়লাভের চেষ্টা করা হয় সেক্ষেত্রেও এই সরকারের অধীনে নির্বাচন সম্ভব নয় সেটা প্রমাণিত হবে। এবং তখন জনগণও তাদের এই যৌক্তিক দাবীর সাথে গলা মিলিয়ে গ্রহনযোগ্য নির্বাচনের জন্য সরকারকে চাপ দিতে পারবে। এবং অবশ্যই নির্বাচন উত্তর আন্দোলনের জন্য মানুষ পোড়ানোর কর্মসূচির প্রয়োজন হবে না।

জনগনের কথা হলো গনতান্ত্রিক সমাজে জনগনই মুল শক্তি। আগুন দেওয়া, পেট্রোল বোমা মেরা মানুষ মারা বা গাড়ী ঘোড়া পুড়িয়ে রাষ্ট্রের ক্ষতি সাধন তথা জনগনের সম্পদ পুড়িয়ে আর যাই কিছু হোক গনতান্ত্রিক আন্দোলন সফল করা যায় না। গত ৮১ দিনের রক্তাত্ত্ব, ঝলসানো আর মৃত্যুর মহামারীতে বিএনপি জামাত জোটের যে কোন লাভ হয়নাই তা যে কোন অরাজনৈতিক ব্যক্তিও এওকই মত প্রকাশ করবে। বরঞ্চ অন্ধকারের শক্তি আর জঙ্গীগোষ্ঠির উত্থানে পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষভাবে মদদ যুগিয়েছে।

সারা দেশের মানুষ তথা সারা বিশ্বের মানুষ এই মুহূর্তে বাংলাদেশের তিনটি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের দিকে গভীর আগ্রহ নিয়ে তাকিয়ে আছে। জনগন একটি সুষ্ঠ এবং অবাধ নিরেপেক্ষ নির্বাচন দেখতে চায়। জনগন মনে করে এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ হারলেও জিতে যাবে। একটি গনতান্ত্রিক সমাজে হটাত করে দশ জন ব্যক্তি এসে গনতান্ত্রিক সমাজ গঠনে একটি নির্বাচন অনুষ্ঠানে সহায়তা করবে। আর বাকী পাঁচ বছর একটি সরকার ক্ষমতা ভোগ করে যাবে এটা বিশ্বের কোন গনতান্ত্রিক সমাজে নেই। তবে ত্রিশ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে পাওয়া আমাদের বাংলাদেশে কেনো এই অদ্ভুত ব্যবস্থা চালু থাকবে।