ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

 

শিক্ষাব্যবস্থাকে অচল করার লক্ষ্যেই যেনো বিশ দলীয় জোট তাদের আন্দোলনকে পরিচালিত করছে। গত ৮৮ দিন লাগাতার ভাবে একটি অকার্যকর অবরোধ এবং হরতাল চালিয়েও যখন সমাধানের পথ পেলো না বিরোধী দলের আন্দোলন তখন জনগন মনে করেছিলো ঢাকা এবং সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপি এবং তার বিশদলীয় জোট এই ব্যর্থ আন্দোলনের গোলকধাধা থেকে বেড় হয়ে আসার পথ বের করে নিবে এবং বাংলাদেশের প্রায় এগারো লাখ উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার্থী নির্বিঘ্নে তাদের পরীক্ষা সম্পন্ন করতে পারবে। মাত্র একদিন হরতাল বন্ধ রেখে বিএনপি জামাত জোট বাংলাদেশের মানুষের সাথে মসকরা করে আবার হরতালের ডাক দিয়ে প্রমাণ করেছে গনতান্ত্রিক আন্দোলন শুধুই মুখের বুলি। আসল উদ্দেশ্য হলো বাংলাদেশকে অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিনত করা। এযেনো বাংলাদেশের উন্নয়ন কে থামিয়ে দিয়ে পাকিস্তান নামক রাষ্ট্রটির সমপর্যায়ে নিয়ে যাবার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের তৎপরতা।

গত ফেব্রুয়ারি মাসে যখন মাধ্যমিক পরীক্ষা শুরু হলো তখনও বাংলাদেশের মানুষের আশা আকাংখাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বিএনপি এবং জামাত জোট হরতাল অবরোধ এবং পেট্রল বোমা মেরে মানুষ মারার কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছিলেন।

’৭১ টিভিতে এক অনুষ্ঠানে অধ্যাপক মেসবাহ অত্যন্ত দুঃখের সাথে বলেছেন গত জানুয়ারিতে শুরু হওয়া নতুন শিক্ষা বর্ষের শিক্ষার্থীরা অনেকেই আজ প্রথম ক্লাসে গেছে। গত তিন মাসে এইসব কোমল্মতির শিশুরা কেউই তাদের শিক্ষালয়ে যেতে পারে নাই। বছরের এক চতুর্থাংশ মাস চলে গেলেও সিলেবাসের কোন কিছুই এখনো তারা শিখতে পারে নাই। ইংলিশ মিডিয়ামের বেশীর ভাগ স্কুলই ছিল বন্ধ। ও লেভেল এবং এ লেভেলের অনেক শিক্ষার্থী একবছর লোকসান দিয়েছে এই হরতাল অবরোধের কারণে।

মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক এবং বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষার সময়ে রাজনৈতিক দলগুলো অনেক হিসাব নিকাশ করে কর্মসূচি নির্ধারণ করে থাকে। কিন্তু ইদানীং সেইসব হিসাব নিকাশকে কোন তোয়াক্কা না করেই রাজনৈতিক কর্মসূচি প্রদান করছে। এক্ষেত্রে সাধারনের মতে সন্তানদের পড়াশুনা করার চাইতে ক্ষমতায় যাওয়া অনেক বেশী গুরুত্বপূর্ণ।

গনতন্ত্র একটি দেশের আবশ্যিক বিষয় কিন্তু সেই গনতন্ত্র কাদের জন্যে প্রযোজ্য এই বিষয়টি চন্তার সময় এসেছে। যেদেশের মানুষ যতবেশী শিক্ষিত সেই দেশের গনতন্ত্র ততবেশী কার্যকর এবং প্রতিষ্ঠিত। আমাদের দেশে যখন নিজ দলের ক্ষমতায় যাওয়ার প্রয়োজন হয় তখন গনতন্ত্রের বুলি আউরাই। আর যখন ভোটে জিতে ক্ষমতায় বসে যায় তখন জনগন হয়ে যায় অপাংতেয়।

এই অবস্থাটা বেশি কার্যকর হয় যখন দেশের মানুষ অশিক্ষিত থাকে। যখন একটি দেশের মানুষ শুধুমাত্র মার্কা দেখে ভোট দেয় তখন ক্ষমতায় যাওয়াটা সহজ হয়। আমাদের দেশের রাজনৈতিক শক্তিগুলোর কর্মসূচি দেখে মনে হচ্ছে বাংলাদেশের মানুষের শিক্ষার হার বেড়ে যাওয়াটা পছন্দ করছেন না। আর তাই পাবলিক পরীক্ষাগুলোকে ট্রাগেট করে রাজনৈতিক কর্মসূচি নির্ধারণ করছেন। যে দেশে অশিক্ষার হার বেশী সে দেশে ক্ষতায় যাওয়া অনেক বেশী সহজ। সেই দেশে রাজিব, অভিজিৎ, ওয়াসিকুরসহ হুমায়ন আযাদ্ স্যারদের প্রকাশ্যে মেরে ফেলা সহজ হয়ে উঠে। অন্ধকারের রাজত্ব কায়েমের জন্য অশিক্ষা একটি বড়ো সুযোগ।

আমাদের রাজনীতি আজ সেই পথেই হাঁটছে। দেশের একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দল, যে দল একাধিকবার ক্ষমতায় আসীন ছিলো, সেই দল আজ ক্ষমতায় যাওয়ার লোভে অন্ধ হয়ে অন্ধকারের শক্তির সাথে হাত মিলিয়ে দেশকে ধ্বংসের দাড়প্রান্তে নিয়ে যাচ্ছে। একথা কোন বিবেকবান মানুষই বিশ্বাস করতে পারছে না।

এদেশে আন্দোলন অনেক হয়েছে। কিন্তু একমাত্র আমাদের স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় ছাড়া এইভাবে কখনোই শিক্ষাব্যবস্থাকে অচল করে রাজনৈতিক কর্মসূচি চালানো হয় নাই। বছরের প্রথমদিনে বই দেওয়া একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। কিন্তু সেই পদক্ষেপকেও বাধাগ্রস্থ করতে বই বহনকারী গাড়ীতে আগুন দেওয়ার ঘটনাও এদেশের মানুষ প্রত্যক্ষ করেছে।