ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

চলন্ত রেলগাড়ি থেকে নামার প্রয়োজন হলে অনেকেই চেইন টেনে রেলগাড়ি থামিয়ে নেমে পড়ে। বাংলাদেশেও এই নিয়মনীতি চালু আছে। আবার কোন বিপদ আপদ ছাড়া এই চেইন টেনে ট্রেন থামিয়ে নেমে পড়লে জরিমানা প্রথা চালু আছে। আমাদের দেশে সাধারনতঃ চোরাকারবারী, বিনাটিকেটের যাত্রীরাই স্টেশনে ট্রেন ঢোকার আগ মুহূর্তে চেন টেনে বা ভকুয়ূম খুলে ট্রেন থামিয়ে নেমে পরে। এতে করে টিকেট চেকার বা পুলিশের হাত থেকে চোরাইমাল নিয়ে ধরা পরার হাত থেকে বাঁচা যায়। এদের কে অবশ্যই আমাদের সমাজে কেউই ভালো চোখে দেখে না। এককথায় এরা দেশের শত্রু, এরা জনগনের শত্রু।

বেগম খালেদা জিয়া ৫ই জানুয়ারি ২০১৪ সালের নির্বাচনী ট্রেন ফেল করে কিছুদিন ছড়ে যাওয়া ট্রেনের পিছনে ছুটেছেন। এক বছর পরে ২০১৫ সালে এসে ৫ই জানুয়ারি ২০১৫ তে এসে গনতন্ত্র উদ্ধারের নামে পেট্রোল বোমা মেরে সাধারন মানুষকে পুড়িয়ে মেরে তিনমাসাধিককাল ধরে নিজীরবিহীন ভাবে হরতাল অবরোধ চালিয়ে জাতিয় সম্পদ ধ্বংসের উৎসব চালিয়েছেন। উদ্দেশ্য যে ট্রেন তিনি ফেল করেছেন সেই ট্রেনে উঠতে চান। প্রায় দেড় শতাধিক মানুষ হত্যা, হাজার খানেক মানুষকে আহত করে, পঙ্গু করেও তিনি সেই ছেড়ে যাওয়া ট্রেনটি ধরতে পারলেন। এরপরে সরকার যখন তিনটি সিটি কর্পোরেশন এলাকায় মেয়র ও কাউন্সিলার নির্বাচন এর তফসিল ঘোষনা করে নির্বাচনী আমেজ তৈরী করে দিলেন এবং বেগম সাহেবকে মানুষ হত্যার মিশন থেকে বের হবার সুযোগ করে দিলো সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বেগম সাহেব কোর্টে হাজিরা দিয়ে নিজ বাসায় প্রত্যাবর্তন করলেন। সরকারের বদন্যতা এই যে কোর্টের গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি থাকা সত্বেও উনাকে গ্রেফতারে গড়িমশি করে সময় পার করেছেন।

যা হোক! অনেক ঘটনা অঘটনা শেষে বেগম সাহেব তিন সিটি নির্বাচনে অংশগ্রহনে সম্মত হোন এবং একপর্যায়ে নিজে কাউকে কিছু না জানিয়েই প্রচারনায় নেমে পড়েন।

একটি সুষ্ঠ ও নিরেপেক্ষ নির্বাচনের লক্ষ্যে সরকার এবং নির্বাচন কমিশন সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করে ২৯শে এপ্রিল নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যান। অবশ্য কিছুদিন পর থেকেই বিএনপি তাদের নির্বাচনে ভরাডুবির আভাষ পেতে থেকেন। কিন্তু বাস্তবে তা ছিলো না। নির্বাচনের সকাল থেকেই অধিকাংশ ভোট কেন্দ্রেই ছিলো উৎসব পরিবেশ। বিএনপি প্রার্থীরাও কিছু কিছু অনিয়ম এবং কয়েকটি কেন্দ্রে গোলযোগ ছাড়া পরিস্থিতি স্বাভাবিক বলেই মন্তব্য করেছিলেন। বাংলাদেশের স্থানীয় নির্বাচন গুলোতে ভোট কেন্দ্রে গোলযোগ এবং কছু অনিয়ম অস্বাভাবিক ব্যাপার নয়। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ গনতান্ত্রিক রাষ্ট্র ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বা অন্যান্য রাজ্যেও স্থানীয় নির্বাচনে গোলযোগ হয়েই থাকে। অবশ্য সেখানে হয়েছে বা হয় বলেই আমাদের এখানে হতে হবে এমন কথা বলছি না। আমরা যেকোন নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠ, নিরেপেক্ষ এবং গ্রহনযোগ্য হোক এই প্রত্যাশা করে থাকি। অবশ্য ২০০১ সালের মতো অবাধ এবং সুষ্ঠ নির্বাচন আমরা আর কখনোই চাই না।

২৮শে এপ্রিলের সিটি নির্বাচনে মানুষ যখন স্বতঃস্ফূরত ভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করছিলো ঠিক তখনই প্রথমে চট্রগ্রামে এবং পরবর্তীতে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন থেকে নিজেদের অকস্মাৎ প্রত্যাহার করে নিয়ে নিজেদের হাস্যস্পদে পরিনত করলেন। সেইসাথে জনগনের উপর যে তাদের কোন ভরসা নেই সেই কথাই আবারো প্রমান করে দিলেন।

বিপদের সময় ট্রেনের চেন টেনে ট্রেন থামানো নিয়মসিদ্ধ হলেও কোন কারণ ছাড়াই চেন টেনে ট্রেন থামানো কিন্তু বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ। আমাদের দেশনেত্রী হটাত করে মাঝপথে নির্বাচনের ট্রেন থামিয়ে দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে যেয়ে অপরাধ করেছেন। এবং নিজে নিজের পরাজয়কে মেনে নিয়েছেন। এই স্ব-ইচ্ছায় নির্বাচনী পরাজয় মেনে নিয়ে কি করতেন চান সেই প্রশ্ন আজ সবার।

নির্বাচনে অনিয়ম হয়েছে, কিছু কেন্দ্রে গোলযোগ হয়েছে, কিছু ভুয়া ভোট দেওয়া হয়েছে এসবই ঠিকই আছে। কিন্তু নির্বাচনের ট্রেন থেকে হটাত করে চেন টেনে থামিয়ে দিয়ে নেমে পরা গনতান্ত্রিক রীতিনীতি বিরুদ্ধ। আর আমাদের দেশের কিছু বুদ্ধিজীবী বেগম সাহেবের এই বেআইনি নেমে পরাকে বাহবা দিয়ে চলেছেন। এইসব সুশীল বন্ধুরা কিন্তু জনগনের পরিচিত।