ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

গত কয়েকদিনে বেশ কিছু ভালো মন্দ ঘটনা ঘটে গেলো বাংলাদেশে। প্রায় ৬২ বছরের পুরানো সমস্যা ভারতীয় লোকসভার অধিবেশনে সর্বসম্মতি ভোটে পাশ হলো মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যবধানে। প্রায় ৪১ বছর আগে মুজিব ইন্দিরা যে সীমান্ত চুক্তি করেছিলেন সেই চুক্তির বাস্তবায়ন আজ শুধুমাত্র সময়ের ব্যাপার। সমুদ্র জয়, মিয়ানমারের সাথে সীমান্ত চিহ্নিত সমস্যার সমাধানের পরে ভারতের সাথে এই সীমান্ত মীমাংসা হবে বর্তমান সরকারের সাফল্যের আরেকটি পালক। অন্য অনেক অনেক পালক যেখানে একে একে সরকারের সাফল্য গাঁথায় যুক্ত হচ্ছে এবং বাংলাদেশের মানুষ বহুদিন পরে হলেও নিজেদের অর্জনগুলো কে পরিস্কার ভাবে জানতে বুঝতে পারছে,  ঠিক সেইসময় বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঘটে চলেছে বেশ কিছু অনাহূত দুঃখজনক ঘটনা। সরকার এবং সর্বোপরি বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রকে বিশ্বের কাছে একটি অকার্যকর রাষ্ট্র হিসাবে তুলে ধরার পথ কে প্রসারিত করছে একের পর এক অপ্রত্যাশিত দুর্ঘটনা।

বাংলাদেশে ৮০ দশকের শুরুতে প্রধান দুইটি রাজনৈতিক দলের রাজনীতিতে যে উত্তরাধিকার নেতৃত্বের ধারা শুরু হয়েছিলো সেই রাজনীতির ধারাবাহিকতার অংশ হিসাবেই দুই দল দুই নেত্রীর সন্তানদের নিজেদের ভবিষ্যৎ নেতা হিসাবে মেনে নিয়েছে। এক্ষেত্রে আপামর জনগণও বলতে গেলে এই ভবিষ্যৎ নেতাদের সম্বন্ধে নেতিবাচক মনোভাব দেখায় নাই।

এখানে উল্লেখ্য যে একজন উত্তরাধিকার তাঁর মায়ের জোট সরকারের আমলে তাঁর বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের দ্বারা নিজের যোগ্যতার একটি পরিচয় জনগনের সামনে তুলে ধরেছিলেন এবং সেইসুত্রে তাকে তার ফল ভোগ করতে হচ্ছে। আরেকজন নেত্রীর সন্তান বিশ্বের কাছে একজন তথ্য প্রযুক্তিবিদ হিসাবেই পরিচিত এবং সাধারন মানুষের কাছে তাঁর একটা আদরণীয় গ্রহনযোগ্যতা ছিলো বা আছে। এবং যেহেতু তিনি ক্ষমতার কাছাকাছি থেকেও ক্ষমতার লোভনীয় দিক থেকে নিজেকে অনেকটাই দূরে সরিয়ে রাখতে সক্ষম হয়েছেন। এইজন্যেই এই গ্রহনযোগ্যতা এখনো টিকে আছে। তাঁর সম্বন্ধে এদেশের শিক্ষিত এবং বুদ্ধিজীবী মহলেও আছে ব্যাপক গ্রহনযোগ্যতা। তবে শেষ কথা বলার সময় মনে হয় এখনো আসে নি।

বাংলাদেশে এই কিছুদিন আগেই আবারো প্রাণ দিতে হলো আরেক ব্লগার অনন্ত কে। তিনি কি লিখেছিলেন বা কোথায় লিখেছিলেন সে ব্যাপারে সাধারন মানুষের কোন ধারনা না থাকলেও অনন্তকে প্রাণ দিতে হয়েছে জনসম্মুখে। বাংলাদেশে সবাই জানেন শাহবাগের প্রজন্ম চত্বরের সমাবেশকে কেন্দ্র করে প্রায় ৮৪ জন তথাকথিত ব্লগারের নামে হিটলিষ্ট তৈরী করে এদের প্রাণনাশের পরিকল্পনা করা হয়। এব্যাপারে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে বার বার প্রচার করা হয়েছে। অতএব সরকার বা আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা যদি না জানেন তবে তা হবে সত্যের অপলাপ মাত্র। সেক্ষেত্রে ব্লগারদের প্রাণরক্ষায় সরকার এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থা কোনই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহন করেন নাই। রাজীব হায়দার থেকে শুরু করে সেদিনের অনন্ত পর্যন্ত একে একে বেশ কয়েকজন বগ্লার মারা গেলেও কার্যত সেইরকম কেউই প্রেফতার হয় নাই। শুধুমাত্র কয়েকদিন সংবাদ পত্র, ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় হইচই ছাড়া অন্য কোন অগ্রগতি চোখে পড়েনি বা পড়ছে না। বিবৃতি আর সংবাদ পরিবেশনে মনে হয় ব্লগার কোন বাংলাদেশী বা এই সুন্দর পৃথিবীর কোন মানুষ নয়। অন্যগ্রহ থেকে আগত ভীষণাকৃতির ভয়াবহ কোন প্রাণী।

যাহোক আমরা এই হত্যাকান্ডের প্রতিবাদ করছি, আমরা এর বিচার চাইছি এবং আর যেনো কোন প্রাণহানী না ঘটে সেদিকে নজর রাখতে সজাগ হবার দাবী জানাচ্ছি।

এই ব্লগার হত্যাকান্ডকে কেন্দ্র করে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন আমরা সুতার উপর দিয়ে হাটছি তাই এই হত্যাকান্ডগুলো নিয়ে ব্যাপক কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে অসুবিধা হচ্ছে। এই ধরনের বক্তব্যের জবাবে আমাদের প্রিয় স্যার জাফর ইকবাল তার এই বক্তব্যের নিন্দা জানিয়েছেন। নিন্দা জানিয়ে বলেছেন উনাদের কাছ থেকে এই ধরনের বক্তব্য আসার অর্থ হলো হত্যাকারীরা আরো উৎসাহী হয়ে আরো বগ্লার হত্যায় তৎপর হবে। প্রধানমন্ত্রী নিজে যখন জঙ্গীবাদ উত্থানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষনা করেছেন সেই  সময় জয় সাহেবের উক্তি আমাদের শঙ্কিত করে তোলে। আরো প্রাণহানির শঙ্কায় শঙ্কিত হয়ে উঠি।

আমাদের দেশে বহুল প্রচারিত একটি কথা আছে রাজার চাইতে পারিষদের বেশী হুঙ্কার শোনা যায়। অর্থাৎ বাঁশের চাইতে কঞ্চির দর বেশী। তাই জাফর স্যারকে নিয়ে যারা চিল্লাচিল্লি করছে তাদের কথাকে পাত্তা দিতে চাই না। বাংলাদেশের রাজনীতিতে রাজনৈতিক দলের যারা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হোন তারা অনেকাংশেই দলের প্রতীক আর নেত্রীর আশীর্বাদে নির্বাচনী তরী পার হোন। তাই তারা নিজেদের পদ আর পদবী ধরে রাখার জন্যে বুঝে হোক আর না বুঝে হোক নেত্রী বা নেত্রীর সন্তানের বিরুদ্ধে ন্যায় অন্যায় কিছু শোনার সাথে সাথে হইচই করে নিজের আখেরটা ঠিক রাখতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। আগামী নির্বাচনে যাতে তাঁর মনোনয়ন নিশ্চিত হয় সে ব্যাপারে তাকে এখন থেকেই তৈরী হতে হয়।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে একজন জনপ্রতিনিধি পাওয়া এমন কিছুই নয়। বিশেষ করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মতো স্বনামধন্য রাজনৈতিক দলের জন্য। কিন্তু বাংলাদেশের মতো একটি দেশে জাফর ইকবাল স্যারদের মতো বিজ্ঞানী পাওয়া অনেক সাধনার ব্যাপার। যাওবা পাওয়া যায় তাঁরা চলে যান ইউরোপ বা এমেরিকায়। বিদেশের নিশ্চিন্ত জীবনের প্রলোভনকে দূরে ঠেলে দিয়ে দেশে ফিরে দেশমাতার সেবা করেন মাত্র দুই বা একজন। জাফর ইকবাল তাঁদের একজন। তিনি অত্যন্ত গর্বের সাথে উচ্চারন করেন, তিনি গর্বিত কারণ তিনি বাঙ্গালী। জয় হোক সত্যের, জয় হোক মুক্তচিন্তার।