ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাংলাদেশ সফরের রেশ এখনো কাটে নাই। সংবাদপত্র আর টিভি চ্যানেলার টোক শো গুলো এখনো জাবর কাটার মতো আলাপ আলোচনা চলছেই। এখনো আমাদের বুদ্ধিজীবীরা হিসাব নিকাশ শেষ করে উঠতে পারেন নাই। মোদী সফরের মধ্য দিয়ে প্রধান্মন্ত্রী কতটুকু রাজনৈতিক লাভবান হয়েছেন বা রাজনৈতিক ভাবে খালেদা জিয়া কতটুকু এগোতে পারলেন সেই আলোচনার কথোকপথন চলছে। এরই মধ্যে এক সাংসদ পুত্রের জোড়া খুনের বিষয়টি হঠাত করেই সামনে চলে আসে। এই সাংসদ পত্র মদ খেয়ে গত ১৩ই এপ্রিল ২০১৫তে মধ্যরাতে তার গাড়ীর সামনে পড়া পথচারী ও রিক্সাচালকদের উপড় গুলি ছুড়েছিলেন এবং এতে করে দুইজন আহত হয়ে হাস্পাতালে মারা যান। এই জোড়া খুনের ঘটনাটি প্রায় দেড়মাস আগের কিন্তু সংবাদপত্রের পাতায় এই বিষয়ে তোল্পাড় হচ্ছে এখন। যাহোক শেষ পর্যন্ত পুলিশ সাংসদ পুত্রকে গ্রেফতার এবং হত্যাকান্ডের সময় ব্যবহৃত সাংসদের গাড়ীটি জব্দ করেছে। অনেকেই মন্তব্য করেছিলেন যে সাংসদ পুত্র হওয়ার সুবাদে হয়তো ধরাছোয়ার বাহিরেই থেকে যাবেন।

হঠাত করে পুলিশ কেনো এই হত্যাকান্ডে ততপর হয়ে উঠলো সেটা অবশ্য এখনো রহস্যই থেকে গেছে। এরইমধ্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের খুবই প্রভাব শালী মন্ত্রী এবং রাজনীতিবিদ মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার হাইকোর্টের দেওয়া খালাসের রায় আপীল বিভাগ বাতিল করে দিয়ে হাইকোর্ট বেঞ্চকে পুনরিভিউ করার নির্দেশ দিয়েছে। সব মিলিয়ে বাংলাদেশের ক্ষমতার এবং ক্ষমতার বাহিরের রাজনীতি বেশ জমে উঠেছে।

গত কয়েকদিনে দেশে বাজেট নিয়েই বেশ আলোচনার ঝড় বইছে। বাজেট পেশের পরপরই বিএনপি বলেছে অবৈধ সরকারের দেওয়া বাজেটের উপর কোন মন্তব্য করবে না। কিন্তু বিভিন্ন সেমিনারে বা সভা সমিতিতে বিএনপির হার্ড কোরের নেতানেত্রিরা সমানে বাজেটের বিভিন্ন বিষয়ের উপর আলোচনা করে যাচ্ছেন। বিশ্বব্যাংক বাজেটের উপর প্রথম মন্তব্য করেছিলো এই বাজেটে নির্ধারিত ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব নয়। আবার গতকাল বলেছে ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন অসম্ভব না হলেও চ্যালেংজিং।

অর্থাৎ বাংলাদেশে এখন সব বিষয়েই উলটাপালটা কায়কারবার চলছে। একই বিষয়ে একজন বা একদল একরকম মন্তব্য করে থাকলে পরক্ষনেই অন্য মন্তব্য করে চলেছেন। এটাও মোদি সাহেবের সফরের পার্শ্ব- প্রতিক্রিয়া কিনা বোঝা যাচ্ছে না। এতো উলোট পালোতের মধ্যেই বেগম খালেদা জিয়ার ইফতারের দাওয়াত নিয়ে বিএনপির মুখপাত্র ডঃ রিপন সাহেব আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর ধানমন্ডী কার্যালয়ে গিয়েছিলেন। অবশ্য এমন দাওয়াত দুই নেত্রী প্রত্যেক বছরের ঈদে রমজানে করে থাকেন। কিন্তু কেউ কারো ছায়াও মাড়ান না। এই উল্টাপাল্টা ঘটনার প্রেক্ষিতে যদি প্রধানমন্ত্রী দাওয়াত কবুল করে ইফতার পার্টিতে উপস্থিত হোন তবে মনে হয় বাংলাদেশের সাধারন মানুষ স্বস্তির নিশ্বাস ফেলতে পারতো ক্ষনিকের জন্যে হলেও। অবশ্যি প্রধানমন্ত্রী চলে যেতেও পারেন। তার পক্ষে সম্ভব। কিন্তু অন্যজনের কাছ থেকে এই আশা প্রত্যাশা করা বাতুলতা ছাড়া আর কিছুই নাই। এখানে আরো একটা ভয় আছে প্রধানমন্ত্রী গেলেন ঠিকই কিন্তু খালেদা জিয়ার গেইট খুললো না। সেক্ষেত্রে এই গেইট খোলানোর নিশ্চয়তা কে দেবে?

আমরা বাংলাদেশের সাধারন মানুষ বড়ো অল্পেতেই সন্তুষ্ট হয়ে যাই। দুই নেত্রী ফোনে কথা বললেই আমরা মনে করি দেশের সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাচ্ছে। আমরা প্রধানমন্ত্রী যখন খালেদা জিয়ার গেইটে যান আমরা আশায় থাকি জাতি বুঝি এইমাত্র সকল ভ্রান্তি থেকে বের হয়ে সঠিক পথে চলা শুরু করলো। আমরা বড়ো আশা করে পথ চেয়ে থাকি আমাদের দেশটা আরো সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে সকল ভুল ভ্রান্তি কে পিছে ফেলে আর স্বাধীনতার প্রশ্নে এক এবং অভিন্ন মতাদর্শে বলীয়ান হয়ে।

গতকাল বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল এবং ভুটানের মধ্যে সরাসরি যানবাহন চলাচলের জন্যে একটি চুক্তির রূপরেখা সাক্ষরিত হয়েছে যোগাযোগ মন্ত্রীদের মধ্যে। আগামী অক্টোবরে এই চুক্তিটি চুড়ান্তভাবে সাক্ষরিত হবে। এরমধ্যে সরাসরি যানবাহন চলাচলের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলাপ আলোচনার মধ্য দিয়ে বাধা বিঘ্ন গুলো অপসারিত হবে। এই প্রথম আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে সরাসরি সড়ক পথে যোগাযোগের একটি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হতে চলেছে। এটি বাংলাদেশের মানুষের জন্য অনেক বড়ো খবর। কিন্তু সংবাদ পত্র বা ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার আলাপ আলোচনায় যে পরিমান গুরুত্ব পাওয়া দরকার ছিলো তা কিন্তু পায় নাই। যা ছিলো আমাদের মনের কল্পনায় তা এখন বাস্তবায়নের পথে। আমাদের মনে হয় আমাদের দেশের রাজনীতিতেও এই অভাবনীয় পরিবর্তন গুলো আসবে আচিরেই। শুধুমাত্র স্বাধীনতা প্রশ্নে কোন আপোষ হবে না।

এরই মধ্যে খবর এলো শীর্ষ রাজাকার ও আল বদর বাহিনীর নেতা মুজাহিদের ফাঁসি আপীল বিভাগ বহাল রেখেছে। অনেক প্রতিক্ষার পরে যখন এই সংবাদ গুলো আসে তখন সত্যি মনটা ভালো হয়ে যায়।