ক্যাটেগরিঃ দিবস প্রসঙ্গ

 

পৃথিবীতে চোখ মেলে মা’কে আঁকড়ে ধরেই বেড়ে ওঠে একটি শিশু। মায়ের স্নেহছায়ায় বড় হয় সন্তান। বাবা যেন দূরবর্তী দ্বীপের মত। আমাদের প্রায় সবার বাবাই থাকেন সংসারে একেবারে নেপথ্যে। কিন্তু থাকেন ছায়া হয়ে, নির্ভাবনার প্রতীক হয়ে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত যে লোকটি আমাদের সুখ শান্তি আর নিরাপ্ততার জন্যে নিজের সকল সখ আহলাদ কে বিসর্জন দিয়ে কর্মস্থলে খেটে মরেন সেই লোকটি আর কেউ নন তিনি আমাদের বাবা। বাবাব্র সাহচর্য আমরা সন্তানরা সেইভাবে পাই না বললেই চলে। নিজের কর্তব্য আর দায়িত্ব পালনেই জীবনের অধিকাংশ সময় ব্যয় করে নিজের সকল সুবিধা অসুবিধাকে চাপা দিয়ে রেখে সন্তানের ভালো মন্দ দেখতে দেখতেই পার করে দেন তাদের জীবনের সুন্দর সময় গুলোকে। জীবনের টানাপোড়েনের যে খারাপ দিকটা থাকে তা সবসময় রেখে ঢেকেই রাখতে চান সন্তান্দের কাছ থেকে। মায়ের সাথে সলা পরামর্শও করেন সন্তানদেরকে আড়ালে রেখে। কোন অশুভ চিন্তা যেনো সন্তানের বড়ো হওয়ার পথে বাঁধা হয়ে না দাঁড়ায় সেদিকেও লক্ষ্য রাখেন বাবা। নিজের ঘুমকে হারাম করে সন্তানের ঘুমকে নিশ্চিন্ত করেন অবলীলায়।

নিজের অস্তিত্বে বাবার অবয়ব ফুটে উঠতে থাকে বলেই মানুষ ক্রমশ বড় হতে থাকে’। বাবাঅনুচ্চারিত প্রতিজ্ঞায় সন্তানদের বিকশিত হওয়ার সুযোগ করে দেন। বাবাকেভালোবাসা জানাতে, তার প্রতি সম্মান জানাতে, সংসারের জন্য তার জীবন উত্সর্গকরার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ১০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে বিশ্ব জুড়ে পালিত হয়েআসছে বাবা দিবস। বাবাকে স্মরন করেই আজকের বাবা দিবস।

বাবার কাছে আমাদের চাহিদা থাকে, আবদার থাকে, না পাওয়ার অভিমান থাকে, থাকে অন্য বন্ধুদের কাছ থেকে দেখে আসা অনেক না পাওয়া স্বপ্ন পুরনের স্বাধ আহলাদ। অনেক পাওয়ার পরেও মনের ভিতর না পাওয়ার একটা বাসনা সবসময় থেকে যায়। আর সে জন্যেও থাকে বাবার প্রতি এক অব্যক্ত অভিমান। নিজেদের পাওয়া না পাওয়ার সকল অভিমানের জন্যে বাবাকেই দাঁড় করিয়ে দেই আসামীর কাঠগড়ায়। বাবার সামর্থ্যের অসামর্থ্যের কোন চিন্তাই আমাদের স্বপ্নের খেয়াকে রোধ করতে পারে না। তাই অনেক্সময় সারাজীবন ধরে খেদ থেকে যায় ওই বাবার উপরেই।

আবার কখনো অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য, অথবা অনেক দুষ্টামীর ফলাফলে বাবার হাতে পিটূনি বা বকা সব কিছুই আমাদের মনে ছাপ ফেলে যায়। বাবার কাছে অপরাধ করে মাফও চাওয়া হয় অনেক সময় কিন্তু কখনোই বলা হয় না- বাবা, তোমাকে আমি ভালোবাসি।

আমরা মায়ের স্নেহের আচলে বড়ো হতে হতে অনেক সময়েই ভুলে যায় আমাদের জীবনে বাবার ভুমিকা। আমরা এই দেশকে, এই পৃথিবীকে সবসময় মায়ের সাথেই তুলনা করি। তাই যখন দেশকে ভালো বাসি তখন মাকেও ভালোবাসা হয়ে যায়। এই ধরিত্রীকে যখন ভালোবাসি তখনও মাকেই ভালোবাসা হয়ে যায়। কিন্তু বাবাকে ভালোবাসার কথা কখনো কোন আকার ইঙ্গিতেও বলা হয় না।

আসুন আজ থেকে আমরা প্রতিদিন না হলেও সপ্তাহে কি মাসে একদিন বাবাকে জড়িয়ে ধরে বলে উঠি “বাবা আমি তোমাকে ভালোবাসি, বাবা ভালোবাসি”।