ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

যুক্তরাষ্ট্র, ভারত এবং পাকিস্তানের চাইতেও বাংলাদেশ শান্তিপূর্ণ। বিশ্বের শান্তিপূর্ণ দেশের তালিকায় অনেকটাই ইতিবাচক অবস্থানে আছে বাংলাদেশ। দক্ষিন এশিয়ার ৭ টি দেশের মধ্যে নেপাল এবং ভুটানের পরই বাংলাদেশ। সেক্ষেত্রে দক্ষিন এশিয়ায় তৃতীয় অবস্থানে বাংলাদেশ। বিশ্বের ১৬২ টি দেশের মধ্যে শান্তিপূর্ণ দেশ হিসেবে বাংলাদেশ ৮৪ তম। অন্যদিকে আমরা যে দেশটিকে নিজেদের স্বর্গের আবাসভুমি হিসেবে গন্য করি, যে দেশটিতে যেতে পারলে নিজেদের সৌভাগ্যবান মনে করি সেই যুক্তরাষ্ট্র তালিকায় ৯৪ তম অবস্থানে।

বৈশ্বিক সংস্থা ইন্সটিটিউট ফর ইকোনমিক্স এন্ড পিস “গ্লোবাল পিস ইনডেক্স” নামে শান্তিপূর্ণ দেশগুলোর একটি তালিকা প্রকাশ করেছে। এই তালিকাতেই বাংলাদেশ উঠে এসেছে ইতিবাচক অবস্থানে। বাংলাদেশের এই খবর টি মাত্র গুটী কয়েক সংবাদপত্রে স্থান করে নিতে পারলেও আমাদের দেশের বড়ো বড়ো সংবাদ মাধ্যমগুলো একেবারেই এড়িয়ে গেছেন। অথচ টি,আই,বি বা অন্যকোন সংস্থা যখন বাংলাদেশ সম্পর্কে নেতিবাচক খবরগুলো পরিবেশন করে থাকে তখন একেবারে হেডলাইনে প্রচার করতে দ্বিধা করেনা।

সবচেয়ে মজার বিষয় হলো আজাকের প্রথম আলোতে জনাব সোহরাব হোসেন সাহেব এক নিবন্ধে লিখেছেন বাংলাদেশ কি এগিয়ে যাচ্ছা নাকি ক্রমশঃ নিন্মগামী হচ্ছে। এই নিবন্ধটি পড়ে মনে হয়েছে বাংলাদেশ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছে। এখানে কোন আশা নেই, প্রগতি নেই, আলো নেই আছে শুধু অন্ধকার আর মানুষের শেষ হয়ে যাবার হতাশার গল্প। অবশ্য গত ২০০৭ সালের অনেক আগে থেকেই এই সংবাদ মাধ্যমটি আমাদের দেশের গনতান্ত্রিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে উঠে পরে লেগেছেন। উনাদের সামরিক বা অই ধরনের কোন একটা সরকার ব্যবস্থা ছাড়া অন্য কিছুই ভালো লাগছে না। এখনো মাইনাস টু ফরমুলার স্বপ্নে বিভোর হয়ে আছেন মতিউর রহমান সাহেবরা। যাহোক এটা উনাদের পত্রিকা বা গোষ্ঠীর মুলমন্ত্র হতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশের আসল চিত্রকে লুকিয়ে রেখে, উন্নয়নের সঠিক খবরগূলো প্রচার না করে শুধুমাত্র নেতিবাচক সংবাদে উৎসাহী হওয়া ষড়যন্ত্রেরই নামান্তর। “গ্লোবাল পিস ইনডেক্স” অনুযায়ী সঙ্ঘিসতার মাত্রা, আভ্যন্তরীন ও বহির্মুখী সহিংসতা ও সামরিক শাসনের বিষয় গুলোকে প্রাধান্য দিয়েছে এই সংস্থা। সুচকের তালিকা অনুযায়ী বাংলাদেশ যদিও খুব বেশী এগোতে পারেনি তবে পার্শ্ববর্তী দেশ এবং অন্যান্য আফ্রো-এশিয় দেশ গুলোর অনুপাতে অনেক ইতিবাচক অবস্থানে আছে বাংলাদেশ। বিশেষ করে বিশ্বের সবচেয়ে বড়ো গনতান্ত্রিক দেশ ভারতের চেয়ে অনেক এগিয়ে আছে বাংলাদেশ। এরপরে পাকিস্তান, আফগানিস্তান এবং অন্যান্য অনেক দেশ থেকে এগিয়ে আমাদের এই দেশ। আগেই বলেছি যুক্তরাষ্ট্র আমাদের চেয়ে দশ পয়েন্টে পিছিয়ে আছে। সহিংসতা নিয়ন্ত্রনের খরচের দিক থেকেও বাংলাদেশ ১৬২ টি দেশের মধ্যে ১ ৫৭ তম স্থানে বিরাজ করে এক অনন্য সাফল্য অর্জন করেছে। এখানে বাংলাদেশের স্কোর হচ্ছে ১.৫৭। স্কোর যত কম হয় ততই ভালো। যেখানে পাকিস্তানের স্কোর হচ্ছে ৩.৩৮।

আমাদের অনেক সীমাবদ্ধতা আছে এটা আমাদের স্বীকার করেই নিতে হবে। তারপরেও যখন বিশ্বের বিভিন্ন জরীপ গুলোতে আমাদের সুচকগূলো ইতিবাচক থাকে তখন আমাদের সংবাদ মাধ্যমগুলোর উচিত হবে এইসব ইতিবাচক সুচকগুলো হাইলাইট করে প্রচারে আনা। ঝড় বৃষ্টি, অনাবৃষ্টি খরা আর দুর্যোগের দেশ হিসেবে একসময় বাংলাদেশ বিশ্বের সব খবরে স্থান পেতো আর আজ প্রায় অনেক ইতিবাচক সংবাদের শীর্ষে অবস্থানে থাকে বাংলাদেশ। অনেক দেশের কাছে আজ রোল মডেলে পরিণত হয়েছে বাংলাদেশের সামাজিক সুচকগুলো। শুধুমাত্র বিরোধীতার জন্য ইতিবাচক সংবাদগুলোকে পাশ কাটীয়ে খারাপ সংবাদের দ্বারা সংবাদপত্রের পাতা ভড়ানোর দিন বোধহয় শেষ হয়েছে। ভালো মন্দ সব কিছুই নিরেপেক্ষ দৃষ্টিতে বিশ্লেষন করে সংবাদ মাধ্যমে আমাদের দেশকে তুলে ধরি এটাই সবার কাম্য।